রামুতে ডাকাতি করতে গিয়ে ডাকাতের হাতে এক ডাকাত নিহত হয়েছে। সেই সাথে ডাকাতের হাতে একই পরিবারের ৫ সদস্য আহত হয়েছে।
নিহত ডাকাত সালমান হোসাইন (২৩) রশিদনগর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পাহাড়তলি এলাকার আবদু ছবির ছেলে।
১৬আগস্ট দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টার সময় জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড়ের চা-বাগান লাটি মৌলভীর টেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড়ের চা-বাগান লাটি মৌলভীর টেক এলাকায় মৃত ফকির আহমদের ছেলে জসিম উদ্দিনের বাড়িতে ডাকাত দল হানা দেয়। এই সময় ডাকাতেরা পরিবারের কর্তা জসিম উদ্দিন ও ছেলে নুরুল ইসলাম রুবেল, সাইফুল ইসলাম, শহিদুল্লাহ ও তার স্ত্রী হাসিনা আক্তারকে রশি দিয়ে বেঁধে বিভিন্ন দেশীয় তৈরী অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করে। এলাকার লোকজন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসলে ডাকাতেরা অবস্থা বেগতিক দেখে গুলি ছোড়ে। ডাকাতের ছুড়া গুলিতে অপর এক ডাকাত মৃত্যুবরন করে।
ডাকাতির ঘটনার খবর পেয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল হোসাইন নেতৃত্বে ওসি (তদন্ত) অরুপ চৌধুরী, এসআই আমিরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আহতদের উদ্ধার করে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে সালমান হোসাইন নামে গুলিবিদ্ধ এক ডাকাত সদস্যের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আহত জসিম উদ্দিনের পুত্রবধূ তসলিমা আক্তার জানান, আমরা প্রতিদিনের মত পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়ি। রাত সাড়ে ১২ টার দিকে আমাদের বাড়ির পিছনের দরজা ভেঙে ডাকাতদলের ৮ সদস্য বাড়িতে প্রবেশ করে। আমার শাশুড় জসিম উদ্দিনসহ পরিবারের ৫ সদস্যকে রঁশি দিয়ে বেঁধে মারধর করে এবং ছোরা দিয়ে আঘাত করে। বাহিরে আরও ডাকাত সদস্য ছিল। এলাকার লোকজন ও থানা পুলিশ আসার কারনে ডাকাতেরা আমাদের বাড়ির থেকে কিছু নিতে পারে নাই। নিয়ে গেছে দুই টি মোবাইল, ডাকাতেরা আমাদেরকে বলে আমরা ডাকাতি করার জন্য আসি নাই। তোমাদেরকে খুন করার জন্য এসেছি।
এলাকাবাসীর দাবী, জসিম উদ্দিনের মেয়ে জুলেখা বেগমের সাথে রশিদ নগর ইউনিয়নের কাহাতিয়া পাড়া এলাকার জয়নাল আবেদিন নামে এক যুবকের সাথে তিন বছর আগে বিবাহ হয়েছিল। তাদের ঘরে এক সন্তান রয়েছে। বিবাহ হওয়ার পর থেকে জয়নাল আবেদিনের সাথে জুলেখার পরিবারের সাথে ঘটনা চলছে। জুলেখা বিবাহের ৬ বছর পর্যন্ত স্বামী জয়নাল আবেদিনের বাড়িতে সংসার করছিল। জয়নালের সাথে স্ত্রী জুলেখার ঘটনা হওয়ার পর থেকে বাকি ২ বছর ৬ মাস পর্যন্ত জুলেখা বেগম চা-বাগান লাটি মৌলভীরটেক এলাকায় পিতা জসিম উদ্দিনের বাড়িতে থাকে। আমাদের ধারণা জয়নাল আবদীন এঘটনা ঘটাতে পারে।
রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ারুল হোসাইন জানান, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, জসিম উদ্দিনের মেয়ের জামাই রশিদনগর কাহাতিয়াপাড়া এলাকার জয়নাল আবেদিন নামে এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
Leave a Reply