টেকনাফের হ্নীলায় এক গরু ব্যবসায়ীর ছেলেকে অস্ত্রের মুখে অপহরণের ৫দিন পর ৭লাখ টাকা মুক্তিপণে মুমূর্ষাবস্থায় পাহাড়ি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। অপহরণের শিকার যুবককে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৮জনকে আসামী করে টেকনাফ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভিকটিমের ভাই হেলাল উদ্দিন।
উদ্ধার হওয়া রবি আলম (২৩) স্থানীয় গরু ব্যবসায়ী কামাল হোছনের পুত্র।
বুধবার (১সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা রঙ্গিখালী জুম্মাপাড়া সংলগ্ন পশ্চিমে পাহাড়ি ছড়া থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।
জানা যায়, স্থানীয় লোকজন মুমূর্ষ রবি আলমকে হ্নীলা রঙ্গিখালী জুম্মাপাড়া সংলগ্ন পশ্চিমে পাহাড়ি ছড়া থেকে উদ্ধার করে। এসময় তার পুরো শরীরে কয়েল ও সিগারেটের ছ্যাঁকা লাগানোর দাগ দেখা গেছে। প্রথমে চিকিৎসার জন্য আলীখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান হতে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়। ভিকটিমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে দ্রুত চমেক হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ সুত্র জানায়, গত ২৬ আগষ্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ির পাশে জয়নালের দোকানে হতে মশার কয়েল আনতে যায় ভিকটিম। বাসায় ফেরার পথে চিহ্নিত একটি গ্রুপ অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পশ্চিমে পাহাড়ে নিয়ে যায়। অপহরণকারীরা মুক্তিপণ বাবদ ৩০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। অপহৃতের পিতা নিরুপায় হয়ে ছেলেকে উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন জনের নিকট হতে ধার-কর্জ করে ৭লক্ষ টাকা কথামত পৌঁছে দেয়। টাকা পেয়ে সকালে অপহরণকারীরা অবশেষে ছেলেকে মুমূর্ষাবস্থায় জীবিত ফেরত পান। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রঙ্গিখালী গাজী পাড়ার আবুল আলম (৩৪), শাহ আলম (২৪), নুরুল বশর (৩৯), নুরুল আমিন (৩৩), সেলিম (৩৩), আক্তার হোসেন কালু (৩৪), রফিক (৩২) এবং কালা ভুলু (৩০) কে অভিযুক্ত করে টেকনাফ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ভিকটিমের ভাই ।
এব্যাপারে অভিযুক্ত আবুল আলম বলেন, আমি ঘটনার একদিন আগ থেকে নাক অপারেশনের জন্য ঢাকায় অবস্থান করছি। অপহৃতের পিতা কামালের সাথে আমাদের প্রায় ৭শতক জমি বিরোধ আছে। আমার ভাই নুরুল বশর একজন মেম্বার প্রার্থী। এসব কারণে আমাদের জনপ্রিয়তা কে নষ্ট করার জন্য ৩ ভাইকে আসামী করে হয়রানির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
এই ব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার ওসি মোঃ হাফিজুর রহমান জানান, রবি আলম একজন মাদক মামলার পলাতক আসামী। সেকি আত্ন গোপনে ছিল নাকি অপহরণের শিকার হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, হ্নীলা রঙ্গিখালী এলাকায় নতুন করে অপহরণ এবং মুক্তিপণ বাণিজ্যের ঘটনায় সচেতন মহলে আবারো অজানা আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।
Leave a Reply