মোস্তাক আহমদ।।
কলাতলী চন্দ্রিমা এলাকায় সরকারি পাহাড় কেটে আবাসিক হাউজিং সোসাইটি গড়ে তুলেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটের মধ্যে রয়েছে ওই সমিতির কয়েকজন। তাদের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন শ্রমিক দিয়ে একযোগে পৃথক ৫টি স্পটে চলছে পাহাড় কাটা। এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর।
পাহাড় কাটার খবরে সেখানে অভিযান চালান কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মাহাবুবুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টিম। অভিযানের খবরে সবাই পালিয়ে গেলেও জায়গার মালিক হিসাবে পাহাড় কাটার অভিযোগে অভিযুক্ত এমন কয়েকজনের নাম পেয়েছে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তর। এদের মধ্যে অন্যতম হলো, পারভেজ, জয়নাল, সাবের, আয়েশা, মিজান, রাশেদ ও শাহেদ।
এছাড়াও এসব জায়গায় প্লট করে নামে বেনামে প্রভাবশালীরা আবাসিক এলাকার নাম দিয়ে অবৈধভাবে গড়ে তুলেছে অনুমোদনহীন ভবন। দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে পাহাড় কেটে বাড়ি-ঘর, দোকান-পাট তৈরি ও জায়গা বিক্রি করে আসছে সেখানের কিছু ভূমিদস্যুরা। সবুজ প্রকৃতি ঘেরা শত বছরের সৌন্দর্য বর্ধক প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকারী পাহাড়গুলো কাটার ফলে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। বিনষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য।
পাহাড় কাটায় অভিযুক্ত পারভেজ প্রকাশ জুয়েল বলেন, আমি বাহারছড়া এলাকার ছেলে। আমার বাবা একজন ফরেস্টার। আমি পাহাড় কাটালে সেখানে প্রশাসন কিংবা সাংবাদিকের কাজ কি এবং কেন যাবেন? আপনি নিউজ করেন তবে কাল সাহস থাকলে বাহাড়ছড়ায় আসেন।
স্থানীয়রা বলেন, ২ বছরের ব্যবধানে চন্দ্রীমা হাউজিং সোসাইটি ও বাঘঘোনা এলাকার ১০টিরও অধিক পাহাড় কেটে গড়ে উঠছে ৫ শতাধিক বসতি। এসব পাহাড় কাটায় পরিবেশ অধিদপ্তরের শত অভিযানেও অব্যাহত ছিলো পাহাড়কাটা। শহরের ভেতরেই অবাধে পাহাড় কাটার এই কাজ চললেও রহস্যজনকভাবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অভিযোগ উঠেছে, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে স্থানীয় কতিপয় সমাজপতি, নেতা ও অসাধূ কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে রাতের আঁধারে পাহাড় কাটে এই চক্রটি। ইতোমধ্যে পাহাড় কেটে সেখানে নিচু প্লটগুলো ভরাট করার কাজ চলছে। বছর শেষ না হতেই স্ট্যাম্পমূলে বিক্রি হয়ে যায় পাহাড় কর্তনকৃত এই জমিগুলো।
কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শেখ নাজমুল হুদা বলেন, সেখানে পাহাড় কাটার অভিযোগে পৃথক ৩টি স্পটে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযুক্ত পারভেজসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সেখানে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পাহাড় কাটায় জড়িত যেই হোক, আইনের আওতায় আনা হবে।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, কলাতলী চন্দ্রিমা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সরকারি পাহাড় প্লট আকারে কেটে যাচ্ছে পারভেজ নামের এই যুবক। তার নেতৃত্বে সেখানে গড়ে উঠছে পাহাড় কাটার সিন্ডিকেট। নিজের পিতা বন বিভাগের চাকরি করে পরিচয় দিয়ে দিনের পর দিন প্রকাশ্যে সরকারি পাহাড় কেটে যাচ্ছে পারভেজ। তার নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি সিন্ডিকেট রয়েছে পাহাড় কর্তনের। তারা বিভিন্ন জায়গায় প্লট আকারে পাহাড় কাটার কন্ট্রাকও নিচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। স্থানীয় বাহারছড়া এলাকার দাপট দেখিয়ে পাহাড় কাটছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
Leave a Reply