কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৫নং বড়ঘোপ ইউনিয়নের পিলট কাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সহিংসতার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ১০০/১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বাদী ডাঃ মোঃ শাহাব উদ্দিন (২৭) কুতুবদিয়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা। তিনি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানাধীন ১২ নং কোদালা ইউপিস্থ ৮নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুর পূর্ব কোদালা এলাকার মোহাম্মদ নুরুচ্ছফা ও শামসুর নাহারের ছেলে।
মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার সাহাব উদ্দিন বাদী হয়ে কুতুবদিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন বলে নিশ্চিত করেছেন কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর হায়দার।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নে পিলটকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে ১০০/১৫০ জন লোক প্রবেশ করে ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্স ছিনতাইর চেষ্টা করে। এসময় ব্যালট পেপারে কেড়ে নিয়ে সীল মারতে থাকে কয়েকজন। এতে প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং সহ দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা বাঁধা দিলে তাদের উপর হামলা করে। এক সময় তারা প্রিসাইডিং অফিসারকে উঠিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ওই সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রিসাইডিং অফিসার ডা. সাহাব উদ্দীন দ্বায়িত্বরত পুলিশকে গুলি করার নিদের্শ দেন।
এজাহারে আরো দাবী করা হয়, তাঁরা দেখতে পান ২য় তলায় পুরুষ বুথের সামনে একজন লোক গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। তাকে উদ্ধার করে কুতুবদিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করা হয় এবং সেখানে দ্বায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আব্দুল হালিম ঐ কেন্দ্রের নৌকার এজেন্ট ছিলেন।
এই বিষয়ে কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর হায়দার জানান, বড়ঘোপ ইউনিয়নের পিলটকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুপুরে হামলা চালিয়ে ব্যালট পেপার ছিনতাইসহ সহিংসতায় অজ্ঞাতনামা ১০০/১৫০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, পুলিশের গুলিতে নিহত আবদুল হালিম (৩৫) বড়ঘোপ ইউনিয়নের গুলদারপাড়া এলাকার মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে এবং ৭ নং ওয়ার্ড় আওয়ামী লীগের সভাপতি। মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩ টায় নিহতের জানাযা সম্পন্ন হয়। এরপর তাকে পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করা হয়।
Leave a Reply