কুতুবদিয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পুলিশের গুলিতে নিহত নৌকার এজেন্ট ও ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি আবদুল হালিমের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। জানাজায় দলমত নির্বিশেষে শোকার্ত মানুষের ঢল নামে।
মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩ টার দিকে কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ বিদ্যুৎ বিতরণ অফিসের মাঠে এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
কুতুবদিয়ার ৫নং বড়ঘোপ ইউপির নৌকার প্রার্থী আবুল কালামের এজেন্ট নিহত আবদুল হালিমের জানাজায় বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এড.ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মেয়র মুজিবুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আশেক উল্লাহ রফিক এমপি, মহেশখালী পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র মকছুদ মিয়া, কুতুবদিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আওরঙ্গজেব, বড়ঘোপ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নৌকার প্রার্থী আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর টিটু।
উপস্থিত ছিলেন, কুতুবদিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী, কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ
উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী।
বক্তারা এসময় বলেন, সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) কুতুবদিয়ায় সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে নির্বাচন চলছিল। কিন্তু হঠাৎ করে সাড়ে ১০ টার দিকে বড়ঘোপ ইউনিয়নের পিলটকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গোলযোগের সৃষ্টি হয়। এসময় কে বা কারা ভোট কেন্দ্রে ঢুকে ব্যালট পেপার ও বক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায়। ওই সময় দায়িত্ব পালনকারী নৌকার এজেন্ট নিহত আবদুল হালিম তাদের বাঁধা প্রদান করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে দরজার ফাঁক দিয়ে বুথের ভিতরে গুলি ছুঁড়ে। ওই গুলি নৌকার এজেন্টের বুকে লাগলে তিনি কেন্দ্রের ভিতরে নিহত হয়। এই ঘটনার খবর কুতুবদিয়া পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে পড়লে নৌকার এজেন্টরা ভয়ে কেন্দ্র ত্যাগ করে। এতে করে নৌকার প্রার্থীরা বিজয়ী হয়নি বলে দাবী করেন নেতৃবৃন্দ।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, নির্বাচন কেন্দ্রের ভিতর গুলি করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি না, কেনো গুলি করা হলো, ওই পুলিশ সদস্যকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানান। পাশাপাশি পুলিশ কার নির্দেশে গুলি করছে বা কারা গুলি করতে উৎসাহিত করেছে এবং এমনকি আরো যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনার দাবী জানান। বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবী করে বক্তারা আরো বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে জানানো হয়েছে। তিনি দেশে ফিরলে জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের একটি টীম দেখা করে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
কুতুবদিয়ায় উপজেলায় বড়ঘোপ ইউনিয়নে শহীদ আবদুল হালিমের জন্য ৭ দিনের শোক কর্মসুচী পালনের নির্দেশ দিয়েছে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ। জানাজা শেষে নিহতের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ জেলার নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, নিহত আবদুল হালিম (৩৭) বড়ঘোপ ইউনিয়নের গোলদারপাড়া এলাকার মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে এবং ৭ নং ওয়ার্ড় আওয়ামী লীগের সভাপতি। নিহতের পরিবারে রাইয়েম (৭), রামিম (৪) ও রাকিন (২) নামে তিন শিশু রয়েছে। নিহতের স্ত্রী ফরিদা বেগম ও নিহতের মা শোকে বিহ্বল বলে জানা গেছে।
Leave a Reply