সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন
শাহিদ মোস্তফা শাহিদ।।
ঢাকার পল্টন থানা এলাকা থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ মোহাম্মদ এছারুল হক (৪০) ও মোঃ ফয়সাল ইসলাম আরিফ নামের দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পল্টন মডেল থানার পুলিশ।
ধৃত মোহাম্মদ এছারুল হক কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ পালাকাটা এলাকার মোহাম্মদ আলম প্রকাশ আলম বৈদ্যের ছেলে ও জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির জালালাবাদ ইউনিয়ন শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং অপরজন নারায়ণগঞ্জ সদরের কলেজ গেইট (৮৩নং কলেজ গেইট রোড গলাচিপা) এলাকার মোঃ শফিকুল ইসলামের ছেলে।
গত ১৩ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১০ টার দিকে মতিঝিল পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন গুলিস্তান ২৯নং বঙ্গবন্ধু এভিনিউ বাংলাদেশ পেপার প্রোডাক্ট লিমিটেড নামক সাইনবোর্ড বরাবর পাকা রাস্তা উপর থেকে তাদের আটক করা হয়। তবে বিষয়টি পল্টন থানা থেকে ধৃত এছারুল হকের তথ্য অনুসন্ধানের জন্য ঈদগাঁও থানায় বার্তা পাঠালে জানাজানি হয়।
পল্টন থানা সূত্রে জানা যায়, ধৃতরা বিক্রির উদ্দেশ্য কক্সবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে ঢাকা আসছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের নজরদারিতে রাখে পুলিশ। পরে উল্লেখিত স্থানে অভিযান চালিয়ে ধৃত করা হয়। এ-সময় তাদের দেহ তল্লাশি করে এছারুল হকের হেফাজত থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবা এবং মোঃ ফয়সাল ইসলাম আরিফের হেফাজত থেকে নগদ এক লক্ষ ৪৩ হাজার টাকা জব্দ করে পুলিশ।
পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালা উদ্দিন মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ধৃতরা দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল। প্রাথমিক স্বীকারোক্তিতে তারা ঢাকা এবং কক্সবাজার কেন্দ্রীক একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে ইয়াবা পাচার করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে পল্টন মডেল থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। যার নং ২৭/৬৩৭,জিআর ৬৩৭/২১।
জানা যায়, জালালাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ এছারুল হক দীর্ঘদিন ধরে ঈদগাঁও কেন্দ্রীক কয়েকটি ইয়াবা সিন্ডিকেট গড়ে তুলে দেদারসে ইয়াবা ব্যবসা করে কোটিপতি বনে গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি না থাকায় দিনদিন ভদ্রতার আড়ালে ইয়াবার মতো সমাজ ও রাষ্ট্র বিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত হন।
তার বিরুদ্ধে একাধিক বার ইয়াবা পাচারের তথ্য উপস্থাপন করা হলেও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালায়নি। ফলে দিনের পর দিন দিব্যি ইয়াবা পাচার ও ব্যবসা করে হয়ে যায় রাতারাতি কোটিপতি ।
স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির প্রত্যক্ষ আস্কারায় এছারুল হক ভয়ানক মাদক সম্রাট হয়ে উঠে বলে জনশ্রুতি রয়েছে। তাছাড়া এলাকায় সুদ কারবার ও ইয়াবা পাচার, ব্যবসার মতো ঘৃণিত কাজে জড়িয়ে পড়ে বিপুল পরিমাণ অর্থবিত্তের মালিক বনে যায়। তার স্ত্রী, সন্তানসহ নামে বেনামে রয়েছে অঢেল সম্পদ। আটকের পর থেকে তার অন্যতম সহযোগী স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি জামিনে আনতে আইনী লড়াই করতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে বলে জানান স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন পর হলেও ইয়াবাসহ ঢাকায় আটক হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি বিরাজ করছে।
Leave a Reply