সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ০৪:০৩ অপরাহ্ন
বার্তা পরিবেশক।।
কক্সবাজার সদর পিএমখালী ইউনিয়নের ধাউনখালী এলাকায় সেনাবাহিনীর (সাবেক কর্মকর্তা) মোঃ আলমগীরকে (৪২) প্রকাশ্যে বেদড়ক মারধর ও ছুরিকাঘাত করে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাদক ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে ১৩ জনের একটি সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট এই হত্যার চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ আহত আলমগীরের।
২৬ রবিবার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে সদর উপজেলা পিএমখালী ইউনিয়নের ধাউনখালী পূর্বপাড়া এলাকায় ফাহিম ষ্টোরের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত মোঃ আলমগীর একই এলাকার মৃত মৌলভী নুরুল হকের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আহত মোঃ আলমগীরকে রক্তাক্ত অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। এই ঘটনায় আহত আলমগীরের বড় ভাই হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৫ জনসহ মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হত্যার চেষ্টা ও বেদড়ক মারধরের অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। যার মামলা নং জিআর ৭৫৬/২০২১ইং।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা ৬টার দিকে আহত আলমগীর নিজ ঘর হতে বের হয়ে বিজিবি ক্যাম্প যাওয়ার পথে রাস্তা গতিরোধ করে পূর্বপাড়া ফাহিম ষ্টোরের সামনে ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে প্রকাশ্যে বেদড়ক মারধর করেন, মাদক ব্যবসায়ী কবির আহম্মদের ছেলে হুমায়ুন কবির ও সাজেদুল কবির, মনির আহম্মদের ছেলে মোঃ রাশেদ, শাহাব উদ্দিনের ছেলে মোঃ মীর্জা, মোঃ তৈয়বের ছেলে মোঃ রায়হান, মৃত আব্দুল হকের ছেলে মনির আহম্মদ, ছব্বির আহম্মদের ছেলে আমো আলম ও ছব্বির আহম্মদের ছেলে সাহাব উদ্দিনসহ মোট ১৩ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী তাকে ধপায় ধপায় মারধর করেন।
আহত আলমগীর জানান, তার নিজ নামীয় ধানি জমি জবর দখল করতে যায় একদল সন্ত্রাসী। এই বিষয় নিয়ে স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যানের মাধ্যমে শালিশ বৈঠক হওয়ার কথা ছিলো। সেইদিন সন্ধ্যায় বাসায় আসার পথে ফয়সাল ষ্টোরের সামনে পৌঁছলে হুমায়ুনের নেতৃত্ব ১০/১২ জন চিহ্নিত সন্ত্রাসী লাঠিসোঁটা ও ধারালো দা-ছরি ও অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে ফেলে রাখে।
তিনি বলেন, পথ গতিরোধ করে কোন কথা ছাড়াই প্রকাশ্যে রাস্তার উপর ধপায় ধপায় মারধর করেন অভিযুক্তরা। তাকে এমন মারধর ঠেকানো মতো এলাকাবাসীর সাহস হয়নি বলে জানান তিনি। শুধু তাই নয় তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে জিআর ৯৩৮/১৯ ইং, মারামারি মামলা জিআর ৪২৩/ ১৯ ইং ও মাদক আইনে জিআর ৯৯৭/২০১৯ ইং মামলা রয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোঃ আবুল মনসুর মির্জা বলেন, হত্যার চেষ্টা মামলার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। আহত আলমগীরকে বেদড়ক মারধরের বিষয়টি সত্য, এখনো জড়িত কাউকে আটক করা হয়নি। তাকে এভাবে কারা মারছে এলাকাবাসী তা প্রকাশও করছেন না। তদন্তপূর্বক দ্রæত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মনীর উল গীয়াস বলেন, পিএমখালী ইউনিয়নে মাধরের অভিযোগে একটি মামলা রুজু হয়েছে। অপরাধীদের তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Leave a Reply