কাজল কান্তি দে।।
কক্সবাজার সদরের খুরুশকুলে এক ডেইরী ফার্ম থেকে ডাকাত দল ৩টি উন্নতমানের গরু ডাকাতি করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ডাকাতির শিকার খুরুশকুল কুলিয়াপাড়ার ‘বিছমিল্লাহ ডেইরী ফার্মে’র মালিক কুলিয়াপাড়ার আবদুস সালামের ছেলে মোঃ আলমের বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (৪ জানুয়ারী) দিবাগত রাতে এই ঘটনা ঘটে।
পরে খোঁজাখুঁজি করে ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত গাড়ি (ছাড়পোকা) সহ এক ডাকাতকে ধরতে সক্ষম হয়েছে। পরে পুলিশে খবর দিলে গাড়ী ও ডাকাতকে আটক করে থানা নেওয়া হলেও রাত ৯টা পর্যন্ত এজাহার নথিভুক্ত হয়নি বলে অভিযোগ করেন ডেইরী ফার্মের মালিক মোঃ আলম।
কক্সবাজার সদর থানায় জমা দেওয়া এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ডেইরী ফার্মে’র মালিক মোঃ আলম দীর্ঘদিন ধরে উন্নতমানের গরু লালন পালন করে আসছিল। ৪ জানুয়ারী গভীর রাতে উক্ত ডেইরী ফার্মে হানা দেয় স্বসস্ত্র ডাকাত দল। এ সময় ডাকাত দল ফার্মের কেয়াটেকারকে ধরে মুখে এবং চোখে কাপড় বেঁধে ফেলে রাখে। পরে তাদের ব্যবহৃত গাড়ি দিয়ে ৩টি উন্নতমানের গরু দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় ভোর রাতে নদী থেকে মাছ ধরে আসার সময় কুলিয়াপাড়া এলাকার করিম তাজের ছেলে বাবুল তা দেখে ফেলে। এ সময় ডাকাত এবং গরু দেখে সে চিৎকার করলে ডাকাতদল তাকেও বেঁধে মারধর করে ফেলে রাখে। পরে ডাকাতরা ৩টি গরু সহ গাড়ি নিয়ে চলে যায়।
ফার্মের মালিক মোঃ আলম জানান, পরে ডাকাতদের বেঁধে রাখা দুজন কোন মতে ছাড়া পেয়ে আমাদের বাড়িতে এবং এলাকায় খবর দিলে লোকজন জড়ো হয়। পরে বিভিন্ন মারফতে খবর নিয়ে ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত গাড়ীটি আমরা ৪ জানুয়ারী সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে দক্ষিণ খুরুশকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মেইন রোড় থেকে গাড়ীটি আটক করি। এসময় সেই গাড়ীর চালক চৌফলদন্ডি উত্তরপাড়ার বাসিন্দা মোঃ আলী আহামদের ছেলে মোঃ কামাল হোসেনকে আটক করা হয়। পরে পুলিশে খবর দিলে সদর থানার এসআই হাসান সহ পুলিশ এসে গাড়ী এবং ডাকাতকে থানায় নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী আরো জানান, হাতেনাতে ডাকাত এবং ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত গাড়ী উদ্ধার হওয়ায় আমরা আশা করেছিলাম পুলিশ দ্রুত অভিযানে গিয়ে গরু উদ্ধার করবে। কিন্তু রাত ৯টা পর্যন্ত কোন অভিযানতো দূরের কথা আমাদের দেওয়া এজাহারও গ্রহন করা হয়নি।
এ ব্যাপারে সদর থানার এসআই হাসান বলেন, ঘটনা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় সিসিটিভির ফুটেজ সহ আরো কিছু তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খুরুশকুলের সচেতন মহলের দাবী, গত ২ সপ্তাহে খুরুশকুলের অন্ততঃ ৩টি জায়গা থেকে গরু ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। কোন ঘটনারই পুলিশ কোন সুরাহা করতে পারেনি।
এ ব্যাপারে খুরুশকুল ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার ইসমাইল সোহেল বলেন, মোঃ আলমের ফার্ম থেকে গরু ডাকাতির ঘটনা সত্যি। এর আগেও বিভিন্ন জায়গায় গরু ডাকাতি হয়েছে। এরা সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র। এদের দ্রুত আটক করে আইনের আওতায় আনার দাবী জানান তিনি।
Leave a Reply