সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ০৯:২০ অপরাহ্ন

শিরোনাম
টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে বিজিবির স্থাপনা নির্মাণ ঘিরে জমি বিরোধের অভিযোগ  কক্সবাজারে আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে গুলি শালিকের জিএম মুজিবকে অপহরণ করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ সিবিআইইউ শিক্ষার্থী মুজিবকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ কক্সবাজার শহরে ২ জনকে ছুরিকাঘাত কুমিল্লায় মাছের গাড়ি ডাকাতির চেষ্টাকালে আটক-২, ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা টেকনাফে মুরগির খামার থেকে ৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার, খামারের মালিক পলাতক  সভাপতি রশিদের অত্যাচারে পিএমখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমানের মৃত্যু!  কোস্ট গার্ডের ড্রাইভার পরিচয়ে চাঁদাবাজি করছে ওমর ফারুক রামুতে পুলিশের অভিযানঃ ৩০ হাজার পিস ইয়াবাসহ জিয়া গ্রেফতার 
ভুল রিপোর্টে বাবার মৃত্যুঃ কক্সবাজারে দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ছেলের মামলা

ভুল রিপোর্টে বাবার মৃত্যুঃ কক্সবাজারে দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ছেলের মামলা

বিশেষ প্রতিবেদক।।
সিটি স্ক্যান প্রতিবেদনে ভুলের কারণে সঠিক চিকিৎসাসেবা না পেয়ে বাবার মৃত্যু হয়েছে দাবি করে কক্সবাজারে দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে মামলা  করেছেন মিনারুল কবির আল আমিন নামের এক আইনজীবী। আল আমিন কক্সবাজার শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের লাইট হাউজ পাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত মৌলানা আলমগীরের ছেলে।
অভিযুক্ত দুই চিকিৎসক হলেন- ফুয়াদ আল খতীব হাসপাতালের পরিচালক ডা. শাহ আলম এবং রেডিওলজি বিশেষজ্ঞ ডা. ওসমানুর রশীদ।
মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত আবুল মনসুর সিদ্দিকীর আদালতে এ মামলাটি দায়ের করা হয়।
বাদীর আইনজীবী মোহাম্মদ ইমরুল কায়েস বলেন, যদি সঠিক সময়ে সঠিক সিটি স্ক্যান রিপোর্ট পাওয়া যেত তবে, অকালে আমার মক্কেলের বাবার মৃত্যু হতো না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা আর দায়িত্বহীনতা এর জন্য দায়ী। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দিতে পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গেল বছরের ৬ অক্টোবর সকালে তার পিতা মৌলানা আলমগীর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে সিসিইউতে ভর্তি করানো হয়। পরে বিভিন্ন শারীরিক পরীক্ষার পাশাপাশি সিটি স্ক্যান করে রিপোর্ট দেখার পরামর্শ দেন কর্তব্যরত চিকিৎসক সৌরভ। কিন্তু হাসপাতালের সিটি স্ক্যান সেবা না পেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শে ফুয়াদ আল খতীব হাসপাতালে নিয়ে সিটি স্ক্যান করা হয়। বিকেল অনুমানিক তিনটার দিকে ডা. ওসমানুর রশীদ স্বাক্ষরিত একটি রিপোর্ট দেন তারা।
রিপোর্টে বাদীর অসুস্থ পিতার গুরুতর কিছু হয়নি, ব্রেইনে কোন সমস্যা নেই বলে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু তারপরও বাদীর পিতার সুস্থতার কোনো লক্ষণ নেই দেখে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও আইসিইউতে ভর্তি দিয়ে সিটি স্ক্যানসহ বেশকিছু পরীক্ষা দেন চিকিৎসক। পরীক্ষার রিপোর্ট পেয়ে জানা যায় রোগীর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। এরপর চট্টগ্রাম থেকে রোগীকে ঢাকা রেফার করা হলে সেখানেও একই পরীক্ষা দেয় চিকিৎসকরা। অথচ কক্সবাজারের বেসরকারি হাসপাতাল আল ফুয়াদের প্রতিবেদনে কোন অসুস্থতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এতে যথাযথ সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন রোগী।
বাদী আল আমিন বলেন,  আল ফুয়াদের ভুল রিপোর্টের কারণে সঠিক সময়ে যথাযথ চিকিৎসা পাননি আমার বাবা। পরে আমার বাবাকে আরো উন্নত চিকিৎসা সেবা নিতে ঢাকার শেরে বাংলা নিউরো মেডিকেল সাইন্স হাসপাতালে রেফার করে। সেখানেও একই পরীক্ষা করা হয়। তাদের রিপোর্টে ও মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। তবে যথাসময়ে এ বিষয়টি ধরা পড়লে বাবাকে বাঁচানো যেত। এটি মূলত আল ফুয়াদ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর লোভের কারণে হয়েছে।
ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতালের পরিচালক ডা. শাহ আলম মুঠোফোন বন্ধ পাওয়ায় তার সাথে কথা বলতে না পেরে তার ছোট ভাই সুলতান আহমদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ডা. শাহা আলমের অপারেশন হয়েছে। তিনি সম্পুর্ণ বিশ্রামে আছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

All rights reserved by © coxnewstoday
Desing & Developed BY MONTAKIM