সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ০২:৫১ পূর্বাহ্ন
করোনা মোকাবিলায় বৃহস্পতিবার (১জুলাই) থেকে সারা দেশে এক সপ্তাহের কঠোর লকডাউন দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, যারা বিধিনিষেধ মানবে না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাই হয়েছে, সারা দেশে আইন না মানায় আটক করা হয়েছে অসংখ্য লোককে। অনেককে আইন মানতে বাধ্য করতে জরিমানাও করা হয়েছে।
সাম্প্রতিককালে যে হারে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়েছে, তাতে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার বিকল্প ছিল না।
বিশেষজ্ঞের মতে, আরও আগে এই বিধিনিষেধ দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। মনে হচ্ছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আগাম উদ্যোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের অনীহা ছিল। তারা ঘটনার পেছনে পেছনে ছুটে। এ সিদ্ধান্ত মার্চের মাঝামাঝি নিতে পারলে সংক্রমণ মোকাবিলা আরও সহজ হতো।
করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের জারি করা সাত দিনের বিধিনিষেধের সময়ে পালনের জন্য যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যে কায়দায় সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউন ঘোষণা করা হয়, সেখানে সবকিছু অবরুদ্ধ অবস্থায় বা বন্ধ থাকে। কিন্তু সরকার কিছু খোলা রাখছে, কিছু বন্ধ থাকছে।
কোনো কোনো বিশেষজ্ঞের মতে, সারা দেশে লকডাউন দেওয়ার প্রয়োজন ছিল না। যেসব এলাকায় সংক্রমণ বেড়েছে, সেসব এলাকায় লকডাউন জরুরি ছিল। যেমনটি গত বছর করা হয়েছিল।
এক বছরের বেশি সময় ধরে করোনা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গত বছর দীর্ঘ লকডাউন গেছে। তখন অনেকে জীবিকা হারিয়েছেন। যে দারিদ্র্যের হার ২০১৯ সালের শেষের দিকে ২০ শতাংশের মতো ছিল, সেটা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে।
সংক্রমণ রোধে বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত হয়েছে, কিন্তু দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সাহায্য-সহায়তার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
গত সাধারণ ছুটিতে সরকার প্রান্তিক মানুষের জন্য যে বরাদ্দ দিয়েছিল, তা যথাযথভাবে তাদের কাছে পৌঁছায়নি। স্থানীয় সরকারগুলোর সহায়তায় দরিদ্রদের তালিকা তৈরি করে জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। যথাযথ তালিকা করা গেলে সেটি পাঠানোর জন্য ৩৩৩ একটি টেলিফোন নম্বরই যথেষ্ট।
লেখক-
সম্পাদক ও প্রকাশক,কক্সনিউজটুডে ডট নেট।
Leave a Reply