মিয়ানমার কারাগারে বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করা ৪১ বাংলাদেশি নাগরিককে বিজিবির প্রচেষ্ঠায় স্বদেশে ফেরত দিল মিয়ানমার। ফেরত আসাা বাংলাদেশী নাগরিকেরা মৌলভীবাজার, রাঙ্গামাটি, উখিয়া, কক্সবাজার, টেকনাফ, বান্দরবন এলাকার বাসিন্দা।
বুধবার (২৩ মার্চ) বেলা ৩টার দিকে টেকনাফ বাংলাদেশ-মিয়ানমার ট্রানজিট ঘাটে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল শেখ খালিদ মোহাম্মদ ইফতেখার।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ফেরত আসা ৪১ বাংলাদেশী নাগরিকগণ বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে মিয়ানমার গিয়ে বিজিপি কর্তৃক আটক হয়ে সাজা ভোগ করে আসছিল। বিষয়টি বাংলাদেশ সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মিয়ানমারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও বিজিবি অবগত হয়ে দীর্ঘ ১বছর প্রচেষ্টা চালানোর পর অবশেষে বিজিবির সহায়তায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে দেশে ফিরে আসলো স্বদেশী নাগরিক।
তিনি আরও জানান, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পতাকা বৈঠকে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ, মানবপাচার দমন এবং সীমান্তে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড কঠোরহস্তে দমনসহ উভয় দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করা হয়। দু-দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা ও পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, উত্তরোত্তর উন্নতি এবং সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য উভয়দলের মতামত ব্যক্ত শেষে পতাকা বৈঠক সমাপ্ত হয়। এরপর নারীসহ ৪১ স্বদেশী নাগরিকদের সাথে নিয়ে টেকনাফ চলে আসি। ফেরত আসা সাজাভোগকারী নাগরিকদের জেটিঘাঁটে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সমন্বয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে নেয়া হয়েছে। সেখান থেকে আইনী প্রক্রিয়া শেষে টেকনাফ মডেল থানার মাধ্যমে স্বস্ব পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে বলেও জানা যায়।
এর আগে একইদিন সকাল ১০ টা হতে আড়াইটা পর্যন্ত মিয়ানমারের অভ্যন্তরে মংডুর ১নম্বর পয়েন্টে ১৬ সদস্য বিশিষ্ট বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল ও ৯ সদস্য বিশিষ্ট মিয়ানমার প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের পক্ষে নেতৃত্ব দেন টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল শেখ খালিদ মোহাম্মদ ইফতেখার এবং মিয়ানমার প্রতিনিধিদলের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ১ নং বর্ডার গার্ড পুলিশ ব্রাঞ্চের অধিনায়ক লে.কর্ণেল কাও না ইয়াং শো।
Leave a Reply