সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ০৬:০১ অপরাহ্ন

শিরোনাম
টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে বিজিবির স্থাপনা নির্মাণ ঘিরে জমি বিরোধের অভিযোগ  কক্সবাজারে আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে গুলি শালিকের জিএম মুজিবকে অপহরণ করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ সিবিআইইউ শিক্ষার্থী মুজিবকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ কক্সবাজার শহরে ২ জনকে ছুরিকাঘাত কুমিল্লায় মাছের গাড়ি ডাকাতির চেষ্টাকালে আটক-২, ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা টেকনাফে মুরগির খামার থেকে ৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার, খামারের মালিক পলাতক  সভাপতি রশিদের অত্যাচারে পিএমখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমানের মৃত্যু!  কোস্ট গার্ডের ড্রাইভার পরিচয়ে চাঁদাবাজি করছে ওমর ফারুক রামুতে পুলিশের অভিযানঃ ৩০ হাজার পিস ইয়াবাসহ জিয়া গ্রেফতার 
শহরের বাদশাঘোনায় চলছে পাহাড় কাটার প্রতিযোগিতাঃ পরিদর্শনে পরিবেশ অধিদপ্তর

শহরের বাদশাঘোনায় চলছে পাহাড় কাটার প্রতিযোগিতাঃ পরিদর্শনে পরিবেশ অধিদপ্তর

 

বিশেষ প্রতিবেদক।।

কক্সবাজার শহরের ৯নং ওয়ার্ডের বাদশাঘোনায় চলছে পাহাড় কাটার মহোৎসব। পাহাড় কর্তন কারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পাহাড় কাটার স্থান পরিদর্শন করেছেন কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শেখ নাজমুল হুদার নেতৃত্বে একটি টীম।

বুধবার (৩০ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১ টায়
কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাজমুল হুদার নেতৃত্বে একটি টীম শহরের বাদশাঘোনায় বিভিন্ন স্পট পরিদর্শন করেন।

স্থানীয়রা জানায়, কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তর সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর অভিযান ঝিমিয়ে পড়ায় পাহাড়কাটার প্রতিযোগিতা চলছে রীতিমতো। এরই ফলে গত কয়েকমাসে ১০টিরও বেশি পাহাড় কেটে সাবাড় করেছে ওই এলাকার ভূমিদস্যুরা। আর লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে এসব পাহাড় বিক্রি করে আসছে চিহ্নিত ভূমিদস্যুরা। এর পেছনে জড়িত রয়েছে রবি আলম মাঝি, আয়ুব মাঝি, কাসেম মাঝি ও আমিন মাঝির সিন্ডিকেট। তাদের নেতৃত্বে চলছে ৭০/৮০ জন শ্রমিক প্রতিদিন প্রতিযোগিতা দিয়ে পাহাড় কাটছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের পাশে অর্ধডজন ভয়াবহ পাহাড় নিধনে ব্যস্ত পাহাড়খেকোরা। তারা পাহাড়কে ন্যাড়া করে নির্মিত হচ্ছে বসতি। কেউ নানা কৌশলে ঘরের ভেতরে ভেতরে কাটছে পাহাড়। কিছু উঁচু পাহাড়ের অর্ধেকেরও বেশি খাড়াভাবে কেটে সমান করা হয়েছে। আর এসব পাহাড় কর্তনকারীদের সাথে কথা বলতেই অনেকে বলে উঠে আমরা পরিবেশ অধিদপ্তর হতে অনুমতি নিয়েছি। কেউ বলছে লাখ লাখ টাকায় স্ট্যাম্পমুলে
বৈধভাবে পাহাড় কিনছেন। আবার কেউ বলছে, মসজিদের মাঠ ভরাট করার জন্য এসব পাহাড় কাটা হচ্ছে।

শহরের ঘোনারপাড়া এলাকার মাটি কাটার মাঝি রবি আলম ও বাদশা ঘোনার আমিন মাঝি জানায়, তারা আগে মাটি কাটার কাজ করলেও এখন করেনা। এটি তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে দাবী করছেন তারা।

একাধিক সুত্র বলছে, শহরের পাহাড়তলী এলাকার আইয়ুব মাঝি কন্ট্রাক নিয়ে খুরুশকুল থেকে লেবার এনে নুরুল ইসলাম মাঝির পাহাড় কাটছে। আর বাদশাঘোনা এলাকার কাসেম মাঝি ১লক্ষ ২০ হাজার টাকার মৌখিক চুক্তিতে মুন্সি শাহাদত হোসেনের বসত বাড়ির জায়গায় পাহাড়ের মাটি কাটা ও সরানোর কাজ নিয়েছেন। মুন্সি শাহাদত হোসেনের জায়গায় রাতভর পাহাড় কাটে ১৫/২০ জন শ্রমিক এবং দিনে বস্তা ভরে এসব মাটি ঠেলাগাড়ি দিয়ে সরানোর কাজ করে আরো ১০/১৫ জন শ্রমিক। এভাবে রাতে-দিনে দিয়ে পাহাড় কাটছে। তারা প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকাবাসী মুখ খোলার সাহস করছে না।

এদিকে, পাহাড়কাটার প্রতিকার চেয়ে মো. সিরাজের ছেলে মুন্সি শাহাদত হোসেন, আবুল কালামের স্ত্রী মর্জিনা বেগম, মো.করিমের স্ত্রী বেবি আকতার, দুলা মিয়ার ছেলে মো.করিম, মৃত হাজী মুফিজুর রহমানের ছেলে রফিক উদ্দিন, মৃত আবদুস সুবহানের ছেলে আলমগীর, আবছারের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী পক্ষে কয়েকজন বাদী হয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর ও সরকারী বিভিন্ন সংস্থার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এদের অনেকের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট আদালতে ২/৪ টি করে মামলা থাকলেও তারা এসবকে তোয়াক্কা না করে পাহাড় কাটা অব্যহত রাখছে বলে জানান এলাকাবাসী।

অভিযোগে জানা যায়, বাদশাঘোনা এলাকায় স্ট্যাম্পমূলে পাহাড় ক্রয় কিংবা পাহাড় দখল করে বনে গেছেন অনেকে জমির মালিকানা। মালিক বনে যাওয়ার পর পাহাড় কেটে করা হয় বসতি। এসব পাহাড়কাটার পেছনে আরো জড়িত রয়েছে জনৈক রশিদ, বাচ্চু, সালমা, মরজিনা, আবদুল্লাহ, মনুসহ বেশ কয়েকজন। এতদিন পাহাড়কাটার বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের তদারকি না থাকায় একেকটি পাহাড়ের অর্ধেকেরও বেশি খাড়াভাবে কেটে ফেলা হয়েছে। এভাবেই হরেক রকমের কায়দায় চলছে পাহাড় ধ্বংস। বিগত দুইমাসে প্রতিনিয়ত পরিবেশের ওপর এই ভয়াবহ আগ্রাসন চললেও নেই কারও মাথা ব্যাথা। পরিবেশ সুরক্ষায় পাহাড়কাটায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও শহরের ভেতরেই এভাবে আইনের তোয়াক্কা না করে নির্বিচারে পাহাড়কাটা চলছে। গত ৪ মাসের ব্যবধানে ৬টি পাহাড় এভাবেই কেটে সাবাড় করা হয়েছে। খাড়াভাবে পাহাড় কাটায় ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন রকমের লোহার অস্ত্র।

পরিবেশবাদী সংগঠন এনভায়রমেন্ট পিপলের প্রধান নির্বাহী রাশেদুল মজিদ বলেন, সরকারি-বেসরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন পাহাড়কাটা নিত্য ঘটনায় রূপ নিয়েছে। অবাধে পাহাড় কাটার কারণে ঝুঁকিতে পড়ছে পরিবেশ।কক্সবাজারে অন্ততঃ ২০০ স্পটে প্রকাশ্যে পাহাড় কাটা চলছে। কিন্তু পাহাড়কাটা রোধে সে তুলনায় জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগের কোন ভূমিকা নেই। পাহাড় কাটা বন্ধে অভিযান পরিচালনা করে জেল-জরিমানা নিশ্চিত করতে হবে।

কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শেখ মোঃ নাজমুল হুদা বলেন, পাহাড় কাটার অভিযোগ পেয়ে শহরের বাদশাঘোনা এলাকার কয়েকটি পাহাড় কাটার স্থান পরিদর্শন করেছি। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সকল ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

All rights reserved by © coxnewstoday
Desing & Developed BY MONTAKIM