সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ০৩:৩৮ অপরাহ্ন
বিশেষ প্রতিবেদক।।
কক্সবাজার শহর জুড়ে পাহাড় কাটার ধুম চলছে। বিশেষ করে শহরের পাহাড়তলী, ইসলামপুর, জিয়ানগর, সৈকতপাড়া, লাইট হাউসপাড়া, ঘোনারপাড়া, বাদশাঘোনা ও খাঁজা মঞ্জিল এলাকায় পাহাড় কাটার দৃশ্য চোখে পড়ার মতো। এমন ভয়াবহ পাহাড়কাটার দৃশ্য ভাবিয়ে তুলেছে সচেতনমহলকে। দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে পাহাড়কাটা অব্যহত রয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মধ্যম ঘোনারপাড়ায় দিনরাত পাহাড় ন্যাড়া করে বসতি স্থাপন করছে মো: সিরাজের ছেলে মুন্সি শাহাদাত হোসেন, আবুল কালামের স্ত্রী মর্জিনা বেগম, মো. করিমের স্ত্রী বেবি আকতার, দুলা মিয়ার ছেলে মো. করিম, মৃত হাজী মুফিজুর রহমানের ছেলে রফিক উদ্দিন, মৃত আবদুস সোবহানের ছেলে আলমগীর, আবছার ও হাজী কালা মিয়ার মেয়ে জামাই বাচ্চু ও বাদশাঘোনা এলাকায় প্যাকেজ আব্দুল্লাহ, আব্দুর রশিদ, নুরুল ইসলাম মাঝি এবং জিয়ানগর এলাকার মো: বাহাদুর, মো: হোসেনসহ অনেকে। এসব পাহাড়কাটার সাথে জড়িত রয়েছে জিয়া নগর এলাকার রোহিঙ্গা আয়ুব মাঝি, মধ্যম ঘোনারপাড়ার মো: কাসেম প্রকাশ বাইট্টা হাছিম্মা, ফাতের ঘোনা এলাকার মো: আমিন প্রকাশ মাতামিন্না সিন্ডিকেট এর শতাধিক রোহিঙ্গা শ্রমিক। এরই ফলে গত কয়েক মাসে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ১০ টিরও বেশি পাহাড়কেটে সাবাড় করেছে ওইসব এলাকার পাহাড়খেকোরা। এসব পাহাড়কেটে মাটি এবং পাহাড়ী জায়গা বিক্রি করে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চিহ্নিত ভূমিদস্যুরা। এসব পাহাড়া নিধনকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের এলাকার কেউ মুখখোলার সাহস পায়না বলে দাবী করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, পাহাড়খেকোরা ৫-৭ দিন সময়ের মধ্যে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা কন্টাক্ট নিয়ে রাত দিন ঠেলাগাড়ি ও ডাম্পার গাড়ী দিয়ে শহরের বিভিন্ন নিচু এলাকা ভরাট করে। এমনকি সেখান থেকেও হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। এসব পাহাড়খেকো মাঝিদের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগে বহুবার অভিযোগ দেওয়া হলেও অদৃশ্য কারনে তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো। এতে করে তারা আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এসব পাহাড় নিধনে।
এদিকে, স্থানীয় কয়েকজন লোক তাদের বিরুদ্ধে পাহাড়কাটার প্রতিকার চেয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সরকারী বিভিন্ন সংস্থার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। তবে এসব অভিযোগ পাহাড়খেকোরা তোয়াক্কা না করে পাহাড়কাটা অব্যাহত রেখেছে বলে জানান স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে শহরের ৯ নং ওয়ার্ডের জিয়া নগর এলাকার মাটি কাটার কাজে নিয়োজিত রোহিঙ্গা আয়ুব মাঝি বলেন, এখন পাহাড়তলীতে কাজ করছি। গত ৩/৪ দিন আগে মাটি কাটছি। বিকল্প কোন কাজ না থাকায় মাটি কাটতে হচ্ছে।
পরিবেশবাদী সংগঠন এনভায়রমেন্ট পিপলের প্রধান নির্বাহী রাশেদুল মজিদ বলেন, সরকারি-বেসরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন পাহাড়কাটার কারণে ঝুঁকিতে পড়ছে পরিবেশ। কক্সবাজারে অন্তত ২০০টি স্থানে প্রকাশ্যে পাহাড় কাটা চলছে। কিন্তু এসব পাহাড়কাটা রোধে সে তুলনায় জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগের কোন ভূমিকা নেই।পাহাড়কাটা বন্ধে অভিযান পরিচালনা করে জেল-জরিমানা নিশ্চিত করতে হবে।
কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শেখ মো: নাজমুল হুদা বলেন, পাহাড় কাটার অভিযোগ পেয়ে শহরের বাদশাঘোনা এলাকার কয়েকটি পাহাড় কাটার স্থান পরিদর্শন করেছি। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সকল ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
Leave a Reply