সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ০৩:০১ অপরাহ্ন

শিরোনাম
টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে বিজিবির স্থাপনা নির্মাণ ঘিরে জমি বিরোধের অভিযোগ  কক্সবাজারে আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে গুলি শালিকের জিএম মুজিবকে অপহরণ করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ সিবিআইইউ শিক্ষার্থী মুজিবকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ কক্সবাজার শহরে ২ জনকে ছুরিকাঘাত কুমিল্লায় মাছের গাড়ি ডাকাতির চেষ্টাকালে আটক-২, ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা টেকনাফে মুরগির খামার থেকে ৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার, খামারের মালিক পলাতক  সভাপতি রশিদের অত্যাচারে পিএমখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমানের মৃত্যু!  কোস্ট গার্ডের ড্রাইভার পরিচয়ে চাঁদাবাজি করছে ওমর ফারুক রামুতে পুলিশের অভিযানঃ ৩০ হাজার পিস ইয়াবাসহ জিয়া গ্রেফতার 
খুরুশকুলে গভীররাতে বনবিভাগের অভিযান, গাড়ি জব্দ

খুরুশকুলে গভীররাতে বনবিভাগের অভিযান, গাড়ি জব্দ

বিশেষ প্রতিবেদক।।

কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের অভিযানে পাহাড়ের মাটি কেটে গাড়ি ভর্তি করার সময় হাতেনাতে একটি ডাম্পার গাড়ি জব্দ করেছে। আটক গাড়ির মালিক নবাবমিয়া কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের কুলিয়াপাড়া এলাকার মৃত শুক্কুর মেম্বারের ছেলে।

শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) মধ্যরাতে কক্সবাজার সদরের খুরুশকুলের পুর্ব হামজার ডেইলস্থ বামনকাটা পাহাড়ে অভিযান পরিচালনা করেন উত্তর বনবিভাগের টহলদলের ওসি কামরুল হাসান। পাহাড়ের মাটি পরিবহনে নিয়োজিত মিনি পিক-আপ (ডাম্পার) জব্দ করে নিয়ে যায় উত্তর বনবিভাগ।

সুত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরে পাহাড়ের মাটি কাটছে ডাম্পার গাড়ির মালিক নবাব মিয়া। তাকে সহায়তা করছে জেলফেরত দাগী আসামী ও শীর্ষ সন্ত্রাসী ছৈয়দ হোসেন মাটি। তার বিরুদ্ধে ১৮/১৯ টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। মাটি তার বাহিনীর ১৫/২০ জন সদস্যকে দিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পাহারা বসিয়ে রাতের গভীরে পাহাড়ের মাটি বিক্রি করছে। মাটি বাহিনী এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে না। বাহিনী প্রধান মাটিকে আইনের আওতায় আনা না গেলে খুরুশকুলে পাহাড় কাটা বন্ধ হবে না বলে জানান এলাকাবাসী।

এদিকে, মাটি বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড কে.এম রফিক মুকতুইল্যার ঘোনা এলাকার পাহাড়ের মাটি বিক্রি ব্যবসায় জড়িত। সে কুমিল্লা জেলার সুলতান খানের ছেলে এবং বর্তমানে পুর্ব রুহুল্লার ডেইল এলাকায় বসবাস করে। সে মাটিবাহিনীর সকল সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ করে। শীর্ষ সন্ত্রাসী মাটি ও তার সেকেন্ড ইন কমান্ড কে.এম রফিককে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছে এলাকাবাসী।

উত্তর বনবিভাগের টহলদলের ওসি কামরুল হাসান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একদল বনকর্মীদের সহযোগিতায় রাতে পাহাড় কাটার স্থানে
অভিযান চালিনো হয়। অভিযান টের পেয়ে গাড়ির চালক ও মাটির কাটার লেবার পালিয়ে যাওয়ায়, তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে মাটির কাটার স্থান থেকে ডাম্পার গাড়িটি জব্দ করে রেঞ্জ হেফাজতে নিয়ে আসা হয়েছে।পাহাড়কাটা রোধে প্রাত্যহিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন সরকারবলেন, বনবিভাগ বনভূমি জবরদখল, অবৈধ কাঠ পাচার এবং পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে সজাগ ও সতর্ক রয়েছেন। নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে স্পেশাল টিম অভিযান পরিচালনা করে মাটি পরিবহনে নিয়োজিত মিনি পিক-আপ (ডাম্পার)
গাড়িটি আটক করে। সংশ্লিষ্ট আসামী এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। সরকারি সম্পদ রক্ষার্থে বন অপরাধ দমনে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, আটক গাড়ির মালিক নবাবমিয়া খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছের লোক হওয়ায়, এলাকায় প্রভাব কাটিয়ে পাহাড়কাটা অব্যাহত রেখেছে। তার বিরুদ্ধে পাহাড় কাটার অপরাধে পরিবেশ অধিদপ্তরে ২/৩ টি মামলা রয়েছে। এসব তোয়াক্কা না করে গভীররাতে তার ডাম্পার গাড়ি দিয়ে মাটিকাটা অব্যাহত রেখেছে। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসী আরো কয়েকটি অভিযোগ জমা দিয়েছে। গভীর রাতে পাহাড়ের মাটি কাটে বিধায় তার গাড়ি আটক করা সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে, খুরুশকুলে পাল্লা দিয়ে পাহাড়ের মাটি কাটছে অনেক ডাম্পার মালিক। তাদের মধ্যে রয়েছে কাইছারের ২টি, নবাবের ২টি, নাছিরের ১টি, মনিউল হকের ১টি, রুনুর ১টি, জয়নালের ১টি ও মনজুরের ১টি ডাম্পার গাড়ি। এসব গাড়ির মালিকদের যদি আইনের আওতায় আনা সম্ভব না হয়, তাহলে খুরুশকুলে পাহাড়কাটা কখনো বন্ধ করা যাবে না বলে দাবী করেন খুরুশকুলের সচেতনমহল।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

All rights reserved by © coxnewstoday
Desing & Developed BY MONTAKIM