সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন
ঈদগাঁও প্রতিনিধি।।
কক্সবাজারের ঈদগাঁও ইসলামপুর ইউনিয়নের এক সময়ের যুবদলের সহ-সভাপতি থেকে সরাসরি উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মনোনীত হয়েছে এক ব্যক্তি। রাতারাতি উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটিতে সদস্য পদ লাভ করায় তৃণমূলে চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা।
ক্ষমতাসীন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা কেন্দ্র থেকে বার বার অনুপ্রবেশকারীদের স্থান আওয়ামী লীগে হবে না বলার পরও ঈদগাঁওতে এই ঘটনা প্রকাশ পেল।
গত ১৭ মার্চ কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সম্পাদক স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে ঈদগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের হালনাগাদ আহবায়ক কমিটিতে ৪৩ নম্বরে স্থান পেয়েছে হাসান আলী নামের এক ব্যক্তি। তিনি ২০১২ সালে ইসলামপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি ছিলেন।
ঐ কমিটি অনুমোদন দিয়েছিল তৎকালীন ঈদগাঁও সাংগঠনিক উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মোহাম্মদ শাহজাহান, যুগ্ম আহবায়ক মামুন সিরাজুল মজিদ,শফিকুর রহমান । ইউনিয়ন যুবদলের ঐ কমিটিতে তিন নাম্বার ক্রমিকে সহ সভাপতির নাম লেখা আছে হাসান আলী, পিতা আলী হোসেন।
ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের তৃনমূলের একাধিক নেতা দাবি করেন, তিনি হাসান আলী এক সময়ের যুবদল ক্যাডার হিসেবে সরকারি বিরোধী নানান কর্মকান্ডে লিপ্ত ছিলেন। যুদ্ধপরাধীদের বিচার চলাকালীন সময়ে হরতাল অবরোধের মতো নাশকতা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার পিছনে তার অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মত।হুট করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মনোনীত হওয়ায় চরমভাবে হতাশ পুরো ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা।এবিষয়ে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের দপ্তর সেলে লিখিত অভিযোগ দায়ের করারও প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড পর্যায়ের এক নেতা জানান, হাসান আলী বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামলে আওয়ামী পরিবারগুলোর ওপর নিরবে নির্যাতনসহ নানাভাবে হয়রানি করেছে, সেই হাসান আলীকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য করা হয়েছে।
এছাড়া তার ৩ ভাইপোর বিরুদ্ধে রয়েছে মাদক পাচার ব্যবস,চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ রাষ্ট্র ও সমাজ বিরোধী কর্মকান্ডের। তাদের বিরুদ্ধে থানায় অহরহ ইয়াবার মামলাও রয়েছে। মুলত তাদের রক্ষা করতে হাসান আলী মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সদস্য পদ ভাগিয়ে নিয়েছেন বলেন জানান তৃণমূলে এ কর্মী।
তিনি আরও বলেন,“যারা জেল, জুলুম, হুলিয়া মাথায় নিয়ে পালিয়ে থাকতে হয়েছে, নানা নির্যাতনের শিকার হয়েছে, এসব ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। নতুন কমিটিতে বিএনপি-জামায়াত নেতা-কর্মীদের স্থান দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে ২০০৭ সালে আতিক এন্টারপ্রাইজ নামের এক প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে তৎকালীন বিএনপি নেতাদের সহযোগিতায় সার পাচার করতে তার নিজস্ব একটি কার্গো ভোট ধরা পড়ে। ঐ সময়ে তার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা রুজু করা হয়। মামলা নং জিআর ৩৭/০৭, ধারা ২৫-A ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন।
এ বিষয়ে জানতে কয়েকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় হাসান আলীর সঙ্গে। কিন্তু মোবাইলে সংযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে পাওয়া গেলে তা গুরুত্ব সহকারে ছাপানো হবে।
তৎককালীন ইসলামপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেম্বার নুরুল আজিম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হাসান আলী তার দায়িত্বপালনকালে ঐ কমিটিতে ২নং সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি এখন আওয়ামী লীগে যোগদান করেছে। তবে রাজনৈতিক দল পরিবর্তন করা ঐ ব্যক্তির নিজস্ব ব্যাপার।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা জানান, হাসান আলীর বড় ভাই মনজুর আলম চেয়ারম্যান ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আমৃত্যু সভাপতি ছিলেন। তার মৃত্যুর পর আওয়ামী রাজনীতিতে রাতারাতি ঢুকে পড়ে যুবদলের সহ-সভাপতি হাসান আলী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঈদগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক ইমরুল হাসান রাশেদ চেয়ারম্যান বলেন, হাসান আলীর বিষয়ে সমালোচনা হচ্ছে এটা সত্য, জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তার বিষয়ে জানিয়েছে। কমিটি অনুমোদনের প্রথম থেকে জোরালো আপত্তি তোলা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে ,সে অতীতে কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ছিল তা জানা নেই। তবে কারা, কিভাবে তাকে সদস্য করেছে সেটিও জানেন না।
উপজেলা আওয়ামী লীগের মনোনীত এক সদস্য বলেন, এটা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র বিরোধী। অন্য কোনো দল থেকে এসেই আওয়ামী লীগের সদস্য পদ পাওয়ার কোনো সুযোগ নাই।উপজেলা আওয়ামী লীগের পরবর্তী সভায় এ বিষয়ে জোরালো ভাবে সাংগঠনিক টিমের সামনে উপস্থাপন করা হবে।
Leave a Reply