সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ন
শাহ আলম বিপ্লব, টেকনাফ।।
দীর্ঘ ১১ বছর পর শিশু আলী উল্লাহ আলো হত্যা মামলার রায় আজ। বিগত ২০১১ সালের ৭ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক ও টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ আবদুল্লাহর শিশুপুত্র ও টেকনাফ বিজিবি স্কুলের প্রথম শ্রেনীর ছাত্র আলী উল্লাহ আলোকে নৃশংস ভাবে হত্যা করে ভাড়াটিয়া খুনিরা। আব্দুল্লাহর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা ভাড়াটিয়া খুনিদের মাধ্যমে তার নিজ বাড়ীর কাচারী ঘরে আলোকে নির্মমভাবে জবাই করে হত্যা করেছিল।
ঘটনার ১১ বছর পর আজ বুধবার এই হত্যা মামলার রায় ঘোষণার জন্য আদালত দিন নির্ধারণ করেছেন। মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে দিদার মিয়াকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন বিজ্ঞ আদালত। গত ২৫ এপ্রিল যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের জন্য ১১ মে দিনটি ধার্য করেন কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল।
টেকনাফের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের পুত্র দিদার ও শাহাপরীর দ্বীপের মহিবুল্লাহর প্রত্যক্ষ পরিকল্পনা,ইন্দন ও সহযোগিতায় এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল। কিন্তু ক্ষমতার দাপটে তাদের নাম এজাহারে দেওয়া যায়নি। সেই অজুহাতে তারা পার পাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু সিআইডির তদন্তে তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। তারা ২জন সহ ৮ জন আসামির কী ধরনের শাস্তি হচ্ছে, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল-আলোচনা হচ্ছে।
আদালতে বাদী পক্ষের আইনজীবী বলেন, ৫জন আসামির বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করা হয়েছিল। এজাহারে চার-পাঁচজন অজ্ঞাতনামা আসামি আছে মর্মে উল্লেখ ছিল। পুলিশি তদন্তে এজাহার বহির্ভূত একজনকে ফরওয়ার্ড করা হয়। বাদি পুলিশি তদন্তের বিরুদ্ধে নারাজি দেয়। পরবর্তীতে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিতে প্রেরণ করা হয়। সিআইডির উর্দ্ধতন কর্মকর্তা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে আরো দুইজন অন্তর্ভুক্ত করে মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত রিপোর্ট পেশ করেন। সিআইডির তদন্তে আসা দুই জন আসামি হলো মুহিবুল্লাহ এবং দিদার। বিজ্ঞ আদালত সকল আসামির বিরুদ্ধে দণ্ড বিধির ৩০২/৩৪/১০৯/১১৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করেন। দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে ১১মে রায়ের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। রায়ের পূর্বে আমরা কোনো মন্তব্য করতে পারি না। তবে আমরা শুধু এইটুকু বলতে পারি, সকল আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আমরা আশা করি সকল আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হবে ইনশাআল্লাহ। এ রায়ের মাধ্যমে অপরাধীরা একটি একটি দমনমুলক বার্তা পাবে, বন্ধ হবে হত্যাকাণ্ড।
মামলার বাদী শহীদ আলী উল্লাহ আলোর পিতা কক্সবাজার জেলা বিএনপি কোষাধ্যক্ষ আলহাজ্ব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, আলী উল্লাহ আলোকে পরিকল্পিতভাবেই হত্যা করা হয়েছে। হত্যার মূলে থাকা প্রধান দুই আসামি দিদার ও মহিবুল্লাহ সহ সকল আসামির সর্বোচ্চ সাজা চান তিনি। আমার মতো আর কোন পিতা যেন এমন দুর্ভাগ্যের শিকার না হয়। এ রায়ের মাধ্যমে দেশের মানুষ জানবে, অপরাধী যত শক্তিশালী, প্রভাবশালী হোক না কেন, অপরাধীকে শাস্তি ভোগ করতেই হবে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
শহীদ আলী উল্লাহ আলোর পিতা আলহাজ্ব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ২০১১ সালের ৯সেপ্টেম্বর বাদী হয়ে কক্সবাজারের টেকনাফ মডেল থানায় ৪/৫ জন আসামি এবং ৫ জনের নাম উল্লেখ করে বিরুদ্ধে ৩০২/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করেন। তদন্তকালে ৩ জন আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। মামলার আসামিরা হলো- ইসহাক কালু, কুমিল্লার ইয়াকুব, নওগাঁর সুমন, ঠাকুরগাঁওর ইয়াছিন, নজরুল ও মায়ানমারের সৈয়দুল আমিন প্রকাশ লাম্বাইয়া।
Leave a Reply