সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ০৪:০৩ অপরাহ্ন
মোহাম্মদ রাসেল।।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার সামনে মো. সরওয়ার (৩৭) নামে এক রিকশা চালককে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যাওয়া এক তরুণীকে আটক করেছে পুলিশ। ছুরিকাঘাতে রিকশাচালক রামু উপজেলার চাকমারকুলের পূর্ব মোহাম্মদপুরের মৌলভি শাহজাহানের ছেলে।
সোমবার (৩০মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার সদর মডেল থানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
হামলাকারী তরুণী পাপড়ি ঘোষ (২৬) শহরের ঘোনারপাড়ার ৯ নং ওয়ার্ডের শংকর ঘোষের মেয়ে। তিনি চট্টগ্রাম পলিটেকনিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে রিকশা চালক একজন নারী যাত্রী নিয়ে ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এর মধ্যে এক তরুণী রিকশার সামনে এসে দাঁড়ান। এরপর কিছু বুঝে ওঠার আগেই ব্যাগ থেকে ছুরি বের করে রিকশা চালকের পেটের পাশে ছুরিকাঘাত করেন। পরে লোকজন ওই তরুণীকে ঘিরে ফেলে এবং পুলিশকে ফোন দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তরুণীকে ছুরি সহ আটক করে এবং আহতকে চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো বলেন, রিকশা চালকের কোনো দোষ নেই। তরুণীটি দেখতে ভালো পরিবারের ভদ্র-শিক্ষিত মনে হলেও তার গতিবিধি যথেষ্ট সন্দেহজনক। তিনি কোনো কথা ছাড়াই রিকশাটি দাঁড় করিয়ে কিছু বুঝে ওঠার আগেই রিকশাওয়ালাকে ছুরিকাঘাত করেন। এছাড়া ওই তরুণীকে এর আগেও ওই সড়কে অস্বাভাবিকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে।
হামলাকারী তরুণী পাপড়ি ঘোষের বরাত দিয়ে পুলিশ জানান, তিনি পারিবারিক সমস্যার কারণে ‘মানসিক সমস্যায়’ আছেন। এর মধ্যে রিকশা চালক তাকে কটূক্তি করেছে। তাই ছুরিকাঘাত করেছেন। সঙ্গে ছুরি কেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি কোনো জবাব দেননি। পুলিশ আরো বলেন, গতকালও (ঘটনার আগের দিন) মেয়েটি তার এক প্রতিবেশীকে ছুরিকাঘাত করেছে। সে দীর্ঘদিন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিওতে কাজ করতেন৷
কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুনিরুল গীয়াস বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে হামলাকারী তরুণী মানসিকভাবে স্বাভাবিক না। তরুণী স্বীকার করেছেন পারিবারিক কারণে ডিপ্রেশনে আছেন। এছাড়া রিকশাচালক নাকি তাকে কটূক্তি করেছে। আহত রিকশা চালককে চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে কেন হামলা করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply