সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ০৫:৩২ পূর্বাহ্ন
ইমরান জাহেদ।।
উখিয়ায় ময়নারঘোনা ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ‘আধিপত্য বিস্তারের জেরে’ এক রোহিঙ্গা নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে মুখোশধারী অজ্ঞাত একদল দূর্বৃত্ত। এতে আহত হয়েছে মনি উল্লাহ’র ছেলে সৈয়দ করিম (৪০) এবং নবী হোসেনের ছেলে মো. রহিমুল্লাহ (৩৬)।
নিহত মোহাম্মদ আজিজুর রহমান উখিয়ার ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এল-১৬ ব্লকের কমর উদ্দিনের ছেলে।
বৃহস্পতিবার রাত ১১ টায় উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ময়নারঘোনা ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-ব্লকে এ ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়রা জানান, রাতে পার্শ্ববর্তী ২০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ১৫-২০ জনের মুখোশধারী অজ্ঞাত দূর্বৃত্তের দল দেশিয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে হামলাকারিদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আজিজ সহ তিনজন আহত হন। হামলাকারিরা আজিজুর রহমানের গলা ও পায়ের রগ কেটে দেয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ক্যাম্প সংলগ্ন এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে যায়। এসময় হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আজিজকে মৃত ঘোষণা করেন।
৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরান হোসেন বলেন, গত বছর অক্টোবর মাসে ময়নারঘোনা ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৬ মার্ডার ঘটনার পর থেকে এপিবিএন স্থানীয়দের সমন্বয়ে ‘স্বেচ্ছাপাহারা সিস্টেম’ চালু করে। বৃহস্পতিবার রাতে ক্যাম্পটির বি-ব্লকের স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে পাহারার দায়িত্ব বন্টন করছিলেন আজিজ সহ আরও কয়েকজন রোহিঙ্গা।
এপিবিএন এর উপ-অধিনায়ক বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্থানীয়দের সমন্বয়ে ‘স্বেচ্ছাপাহারা সিস্টেম’ চালু পর থেকে আধিপত্য বিস্তারে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় দুষ্কৃতিকারিরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। তারা (দুষ্কৃতিকারি) বিভিন্ন সময়ে সংঘবদ্ধ হয়ে ক্যাম্পের মাঝি ও স্বেচ্ছাসেবকদের উপর হামলার চালিয়ে পালিয়ে যেত। এপিবিএন প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারে দুষ্কৃতিকারিরা এ হামলা চালিয়েছে। ক্যাম্পে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও স্বেচ্ছাপাহারা সিস্টেমকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে দুষ্কৃতিকারিরা এ হামলা চালায়।
তিনি জানান, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে এপিবিএন অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
Leave a Reply