সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ০৫:০০ অপরাহ্ন
কাজল কান্তি দে।।
কক্সবাজার সদরের খুরুশকুলের ২ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সম্মেলন থেকে ফেরার পথে ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল উদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে ১৭ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরো ৭/৮ জনকে আসামী করা হয়েছে।
মামলার আসামীরা হলেন-খুরুশকুল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মধ্যম ডেইলপাড়া এলাকার মৃত বাঁচা মিয়া সিকদারের ছেলে আজিজ সিকদার ওরফে আজিজ (৩৭), সিরাজুল হক সিকদারের ছেলে ফিরোজ আলম (৩৬), বাঁচা মিয়া সিকদারের ছেলে জহিরুল হক ওরফে জহির (৪০), মনিউল হকের ছেলে শামসুল হুদা সিফাত (২৫), সিরাজুল হক সিকদারের ছেলে মো. আরিফ ওরফে ধইল্যা (৪৫), ফজল হক সিকদারের ছেলে রফিক (৫০) ও দিদার (৩০), মনিউল হকের ছেলে একরামুল হুদা ইমন (২৪), সিরাজুল হক সিকদারের ছেলে ফরিদুল আলম (৫০), মনিউল হকের ছেলে বদরুল হুদা (২২), ফরিদুল আলমের ছেলে ফাইরুজ আলম ওরফে লেফটা (২৪), সিরাজুল হক সিকদারের ছেলে জহিরুল ইসলাম ওরফে বাক্কুইল্যা (৪৮), জহিরুল ইসলাম বাক্কুইল্যার ছেলে মো. তারেক (২৪), রফিক সিকদারের ছেলে রিয়াদ সিকদার (২৫), ফরিদুল আলমের ছেলে মো. মুন্না (১৯), পেঁচারঘোনা এলাকার হাছান আলীর ছেলে মো. হামিদ (২৩) ও ফজল কাদেরের ছেলে মো. রিয়াদ (২৪) সহ আরো ৭/৮ জন।
মঙ্গলবার (৫ জুলাই) রাত ১১ টার দিকে নিহতের বড় ভাই নাছির উদ্দীন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। যার নং- ১৭/২২।
মামলা দায়ের করার বিষয়টি নিশ্চিত করে কক্সবাজার সদর মডেল থানা ওসি (তদন্ত) সেলিম উদ্দিন জানান, মামলায় প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে আজিজ সিকদারকে। তিনি ইতিপূর্বে সন্দেহভাজন আসামি হিসাবে র্যাবের হাতে আটক হন। ঘটনার দিন রাতে সদর থানা পুলিশের অভিযানে আটক করা হয় অভিযুক্ত আরো ৬ জনকে। মঙ্গলবার ৫৪ ধারায় তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাদেরকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। এছাড়াও, মামলার বাকী আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যহত রয়েছে।
মামলার এজাহার জমা দেওয়ার পর থানায় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে মামলার দাবী নাছির উদ্দীন জানান, ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। আমরা আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।
পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে বাদী আরো বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে এসআই আবু রায়হান বিরুদ্ধে তদন্ত করছে তারা। দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।
উল্লেখ্য, রবিবার সন্ধ্যে ৭টার দিকে খুরুশকুল ইউনিয়নের ডেইলপাড়া এলাকায় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন থেকে ফেরার পথে কুপিয়ে হত্যা করা হয় সদর উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল উদ্দিনকে। অভিযোগ উঠে পুলিশের সামনেই কুপিয়ে হত্যা করা হয় ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল উদ্দীনকে।
নিহত ফয়সাল উদ্দীন (২৫) কক্সবাজার সদর উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও ওই এলাকারই মৃত লাল মোহাম্মদের ছেলে। এই ঘটনার দুইদিন পর থানায় মামলা রেকর্ড হলো।
থানা সূত্রে জানা গেছে, সদর থানার এসআই রায়হানের উপস্থিতিতে ছাত্রলীগের নেতা খুনের অভিযোগের বিষয়টি তদন্তে ইতোমধ্যে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলামকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির শিগগিরই প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে খোদ ছাত্রলীগের কিছু নেতা পুলিশ কর্মকর্তার পাশাপাশি অভিযোগের আঙুল তুলছেন সেদিন সম্মেলনে উপস্থিত নেতাদের বিরুদ্ধে। তারা ফয়সাল হত্যাকাণ্ডের দায় এড়াতে পারে না বলে দাবী করেন নিহতের স্বজনরা।
এদিকে, ঘটনার পরপরই প্রধান অভিযুক্ত আজিজ সিকদারসহ ২জনকে আটক করেছে র্যাব। আটক দুই আসামীর বিষয়ে বুধবার সকালে অস্থায়ী কার্যালয়ে ব্রিফিং করেছে র্যাব-১৫। আসামীরা ১০ মিনিটের মধ্যে কুপিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন বলে জিজ্ঞাসাদে স্বীকার করেন তারা।
Leave a Reply