সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ০৬:০১ অপরাহ্ন
কাজল কান্তি দে।।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার ৯ জন সার্ভেয়ারকে একযোগে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের এই আদেশটি সোমবার (১৮ জুলাই) কক্সবাজার জেলা প্রশাসনে এসে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন জেলা থেকে অপর ৯ জন সার্ভেয়ারকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের এলএ শাখায় প্রেষণে পাঠানোর নির্দেশনাও দিয়েছে।
গত ১ জুলাই ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের এলএ শাখার দুর্নীতিবাজ সার্ভেয়ার আতিকুর রহমান ২৩ লাখ নগদ টাকা ভর্তি ব্যাগসহ ধরা পড়ার পর মন্ত্রণালয় এক যোগে ৯ সার্ভেয়ারকে প্রত্যাহার করে নেয়।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আমিন আল পারভেজ জানান, বিমানবন্দরে অবৈধ উপায়ে অর্জিত টাকাসহ ধরা পড়া সার্ভেয়ারকে পরে তিনি সদর মডেল থানায় সোপর্দ করে কঠোর শাস্তি বিধানের জন্য লিখিত আবেদন জানান। দুর্নীতি দমন ব্যুরো কক্সবাজার সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন সার্ভেয়ার আতিকুর এর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা দায়েরপূর্বক নিজেই মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আদালত ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সার্ভেয়ার আতিকুরকে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
প্রসঙ্গত, সার্ভেয়ার আতিকুর রহমান মহেশখালী দ্বীপের ধলঘাটা ও মাতারবাড়ির গভীর সমুদ্র বন্দর ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক জোন কর্তৃক্ষের জন্য এক হাজার ৫০০ একর অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধের দায়িত্ব পালন করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সার্ভেয়ার আতিকুর সেই দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে মাতারবাড়ি ও ধলঘাটার স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তির যোগসাজসে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের নিকট থেকে কমিশন বাণিজ্যের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।
এর আগে, ২০২০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় কর্মরত সার্ভেয়ার ওয়াসিম খানের বাসায় অভিযান চালিয়ে র্যাব সদস্যরা নগদ ৫ লাখ টাকা সহ আটক করে। পরবর্তীতে আরো দুজন সার্ভেয়ার ফরিদ উদ্দিন ও ওয়াসীম হোসেনের বাড়ি থেকে যথাক্রমে ৬৩ লাখ এবং ২৫ লাখ টাকাসহ সর্বমোট ৯৩ লাখ টাকা উদ্ধার করে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন একটি মামলা দায়ের করে। ওই ঘটনায়ও এক দফায় ৩৪ সার্ভেয়ার প্রত্যাহার করা হয়েছিল। গতকাল প্রত্যাহার হওয়া ৯ সার্ভেয়ার দুই বছর আগে প্রত্যাহার হওয়া ৩৪ জন সার্ভেয়ারের স্থলে যোগ দিয়েছিলেন।
জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ জানান-অভিজ্ঞতার স্বল্পতার কারণে তাদের অনেক সময় জটিল পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বিলম্বিত হয়ে থাকে। তিনি যেকোনো ধরনের দুর্নীতি ঠেকাতে তাঁর প্রচেষ্টা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন এবং যেকোনো অভিযোগ থাকলে সরাসরি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
Leave a Reply