সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন।।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর পেকুয়া উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের এক উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও তার সাঙ্গপাঙ্গ কর্তৃক মারধরের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলা আপস রফার অভিযোগ উঠেছে খোদ উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে! সম্প্রতি মামলা আপস রফার খবর এলাকায় চাউর হলে পেকুয়ার সর্বত্রে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, ইউপি চেয়াম্যান নজরুল ইসলাম সিকদার বাবুল ঘটনার পর আদালতে একটি পাল্টা মামলা করেন। মূলত পাল্টা মামলার ভয়ে পেকুয়া উপজেলা প্রকৌশলী উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি গ্রহণ না করেই মামলাটি আপস-রফার জন্য আদালতে আবেদন দাখিল করেছেন। অথচ, মামলা দায়েরের পর পেকুয়া উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকে উপজেলার সরকারী কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ ব্যানার টাঙিয়ে প্রকৌশলী আবদুল আলীমের উপর হামলাকারী ইউপি চেয়ারম্যানের বিচারও দাবি করেছিল।
মামলার এজাহার সূত্র জানা যায় চলতি বছরের ২৭ মার্চ দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী-বারবাকিয়া ইউনিয়নের দশেরঘোনা সংযোগ ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় রাস্তার সাইট পরিদর্শনকালে পেকুয়া এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবদুল আলীমের উপর অতর্কিত হামলা চালায় রাজাখালী ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সিকদার বাবুলের নেতৃত্বে ১০/১৫ জনের একদল লোক। পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবদুল আলীমকে উদ্ধার করে পেকুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়।
এ ঘটনায় পরদিন ২৮ মার্চ পেকুয়া উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বাদী হয়ে পেকুয়া থানায় রাজাখালী ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সিকদারকে প্রধান আসামী করে আরো ১০/১৫জনকে অজ্ঞাতনামা দেখিয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বে-আইনী জনতাবদ্ধে সরকারী কর্মচারীকে আক্রমণ করে কর্তব্য কাজে বাধা প্রদান করত: মারপিট করে জখম করার অপরাধে একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ১৭ ধারা-১৪৩/১৮৬/৩৩২/৩৩৩/৩৫৩/৩৪ পেনাল কোড ১০৬০।
পেকুয়া থানার ওসি মামলাটি তদন্তভার অর্পন করেন থানার এসআই মো: মোজাম্মেল হোসেনকে। এ প্রসঙ্গে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, বাদী-বিবাদী আদালতে হাজির হয়ে মামলাটি আপস রফা করেছে এমন একটি কাগজ তার কাছে থেকে এসেছে। তারা পাল্টাপাল্টি মামলা করেছিল। পরে তারা কি মনে করে মামলাটি আপস রফা করেছে সেটি তার জানা নাই।
জানতে চাইলে পেকুয়া এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল আলিম বলেন, রাজাখালীর চেয়ারম্যান আমার উপর হামলা করেছিল। এ ঘটনায় উপজেলা প্রকৌশলী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। এখন উপজেলা প্রকৌশলী স্যার এবং তিনি নিজে মামলাটির আপস নামা আদালতে দাখিল করেছেন। এর বাইরে তিনি আর কথা বলতে রাজি হননি।
জানা যায়, ফৌজধারী আইনে আপস অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করলেও পেকুয়া উপজেলা প্রকৌশলী মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক আদালতে চার্জসিট দাখিলের পূর্বেই কেন মামলাটি আপস রফা করেছেন সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। পেকুয়া উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ লুৎফর রহমান ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবদুল আলীম চলতি মাসের ১৯ জুলাই চকরিয়ার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে মামলার দায় হতে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যানকে অব্যাহতি দিতে আবেদন করেন।
মামলা আপস রফা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পেকুয়া উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বলেন, মামলা করার সময় অফিসিয়ালি কোন অনুমতি নেইনি কারণ এটা ডিপার্টমেন্ট মামলা ছিলনা। এটা ব্যক্তিগত মামলা ছিল। তাই এটা সম্পূর্ণ নাগরিক অধিকার। আমি কী করবো? এ প্রতিবেদকের প্রতি এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে প্রকৌশলী লুৎফর রহমান আর মন্তব্য করেনি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কক্সবাজার জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুর রহমানের কাছে এ প্রসঙ্গে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, পেকুয়া এলজিইডির এক উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে মারধরের অভিযোগে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। তবে মামলাটি যে পেকুয়া উপজেলা প্রকৌশলী আপস-রফা করেছে তাকে জানানো হয়নি। তিনি এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখবেন।
রাজাখালী ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সিকদার বাবুল বলেন, সেদিন পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় অংশগ্রহণ করতে বাড়ি থেকে বের হই। এ সময় দশেরঘোনা সড়কের সংস্কার কাজ চলছিল। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় বারবাকিয়া-রাজাখালী সংযোগ ব্রিজে নেমে কাজের তদারকি করি। এ সময় উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল আলিমের সঙ্গে কথা হয়। ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজের বিষয় নিয়ে সমন্বয় সভায় তাকে আলাপ করতে অনুরোধও করি। কিন্তু তিনি বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে আমাকে ঘুষি মারেন। এ ঘটনায় আমি আদালতে একটি মামলা দায়ের করি। এখন দুই পক্ষের মধ্যে ভূলবুঝাবুঝির অবসান হয়েছে।
Leave a Reply