সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ০৪:৫৭ অপরাহ্ন
একরাম জুয়েল।।
কক্সবাজার শহরের কটেজ জোনে চার পর্যটককে অপহরণ করে টর্চার সেলে নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আটকরা হলেন, ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের পাশ্চিম খান ঘোনা এলাকার নুরুল আজিমের ছেলে রাশেদুল ইসলাম(২৫) ও একই ইউনিয়নের পূর্ব বামনকাটা এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে মোঃ সাকিল(২২)।
শনিবার রাত ১১টার দিকে কক্সবাজার সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কক্সবাজার টুরিস্ট পুলিশ জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল করিম।
জানা যায়, গত ৭ আগস্ট হোটেল মোটেল জোনের ‘শিউলি কটেজে’ এ ৪ পর্যটককে অপহরণ করে নির্যাতন চালিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ এনে অজ্ঞাত নামা ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব নেন ট্যুরিস্ট পুলিশ। তদন্তে অপহরণ চক্রের অনেক সদস্যদের নাম উঠে আসে। যাদের মধ্যে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিও রয়েছে। তাদের মধ্যে ৭ আগস্ট পর্যটক অপহরণের ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে সুগন্ধা এলাকা থেকে রাশেদুল ইসলাম ও সাকিলকে আটক করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই হামিদ বলেন, আটক ২ জন জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। এ চক্রে আরো ৮/১০ জন জড়িত রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে দালালদের মাধ্যমে ট্যুরিস্টদের কটেজে জোনে এনে নারী ও মাদক দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করতো। পর্যটকদের আপত্তিকর ছবি ধারণ করে ভয় ভীতি দেখাতো। অপহরণের বিষয়ে কোথাও যেন অভিযোগ দিতে না পারে সেজন্য তাদের ধারণ করা ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করার হুমকি দিতো। প্রভাবশালী ব্যাক্তির ছত্রছায়ায়ই মূলত কয়েকটি কটেজে এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়ে আসছিল।
ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল করিম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারে যাওয়া পর্যটকদের অটোরিকশার চালকরা হোটেল খুঁজে দেওয়ার নাম করে নিম্নমানের রুম দিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করত। এই চক্রটির সদস্যরা শেষ রাত থেকে ডলফিন মোড়ের বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করত।
আটকরা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেন তারা দীর্ঘদিন ধরে এই পেশায় জড়িত। গ্রেপ্তারকৃতদের কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে, তদন্তে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে তাদের কাউকেই ছাড় দেয়া হবেনা বলে জানান তিনি।
Leave a Reply