বিশেষ প্রতিবেদক।।
কক্সবাজার শহরের সাহিত্যিকা মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সেলিনার আকতারের মানসিক টর্চারে ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শাকিলা মনছুর স্ট্রোক করে মারা গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিহত শাকিলা মনছুরের গ্রামের বাড়ি পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নে। তিনি বর্তমানে স্বপরিবারে ৫নং ওয়ার্ডের সিকদারপাড়ায় বসবাস করেন।
সোমবার (২২ আগষ্ট) বিকেল সাড়ে ৩টায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে তিনি মারা যান।
সুত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের ভোটার হালনাগাদের তথ্য সংগ্রহকালে তিনি অসুস্থ হয়ে রাস্তায় পড়ে যান। স্থানীয় লোকজন তাকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির বাসায় নিয়ে যান। সেখান থেকে ওই স্কুলের আরেক সহকারী শিক্ষকের মাধ্যমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্বামী চান্দেরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক মাসুম জানান, নিহত শিক্ষিকার স্বামী মাসুম চৌধুরী জানান, সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে স্বামী-স্ত্রী দুই জনই ঘর থেকে বের হই। সকাল ১০টার দিকে স্ত্রী আমাকে ফোনে জানান, স্কুলে হাজিরা দিয়ে ভোটার কার্যক্রমের শেষ দিনের কাজ বুঝিয়ে দিতে বাইরে যাওয়া অনুমতি চায় প্রধান শিক্ষক সেলিনার কাছ থেকে। সেলিনা তার আবেদন গ্রাহ্য না করে ক্লাস নেওয়ার নির্দেশ দেন। শাকিলা তার কথার প্রেক্ষিতে ভোটার ফরম জমা দেয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। এ মতাবস্থায় প্রধান শিক্ষক শাকিলাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল দিতে থাকে। ঘটনার এক পর্যায়ে শাকিলা টর্চার সইতে না পেরে স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ঘরে যান ঘটনার বিচার চাইতে। সভাপতির ঘরে ঢুকার আগে মাটিতে পড়ে যান। সভাপতির স্ত্রী এসে শাকিলাকে ধরা-ধরি করে ঘরে নিয়ে সেবা দেন। তখন শাকিলা জানায়, প্রধান শিক্ষক তাকে খুব খারাপ ভাবে গালাগাল দিয়েছে, তার সহ্য করতে না পেরে স্কুল থেকে বেরিয়ে এসেছেন তিনি। কথা বলার এক পর্যায়ে শাকিলা আবারও জ্ঞান হারান। পরে স্থানীয়রা হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই ফোনে সবকিছু তাকে তার স্ত্রী জানান দাবী করে তিনি আরো জানান, প্রধান শিক্ষিকার মানষিক নির্যাতন করে আমার স্ত্রীকে মেরে ফেলেছেন। তাকে আইনের আওতায় আনা হোক।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকা জানায়, নিহত শিক্ষক আমার কাছের আত্মীয় হয়। তার ২ টি কন্যা সন্তান রয়েছে। বড় মেয়েটি আমার স্কুলে ৫ম শ্রেণিতে পড়ে। অন্যদিকে নিহতের স্বামী চান্দেরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। ওই স্কুলেও আমি (সেলিনা আকতার) প্রধান শিক্ষক ছিলেন। ২০১৬ সালে আমি আবার কক্সবাজার শহরের সাহিত্যিকা মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি। আমার আগে থেকে (২০১২ সাল) শাকিলা সাহিত্যিকা মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন। তার মানসিক নির্যাতনে শাকিলা মারা যাওয়ার বিষয়টি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবী করেন। তার সাথে কোন ধরনের তর্কাতর্কীও হয়নি বলে দাবী করেন। তারপরও নিহতের স্বামী কেনো তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনতেছে, তা মোটেও বোধগম্য নয় বলে দাবী করেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকা।
Leave a Reply