সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ১০:২৪ পূর্বাহ্ন
মুহাম্মদ জুবাইর।।
উখিয়া-টেকনাফের সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি শিশু-কিশোরদের নামাজের প্রতি আকৃষ্ট করতে পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই ঘোষণায় আকৃষ্ট হয়ে টানা ৪১দিন জামাতে নামাজ পড়ে পুরস্কার জিতে নিয়েছে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নতুন পল্লানপাড়া বায়তুন নূর জামে মসজিদের ৩৮ শিশু- কিশোর মুসল্লি।
জানা যায়, এমপি বদির নিজ অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নতুন পল্লানপাড়া বায়তুন নূর জামে মসজিদের উদ্বোধনী জুমায় মসজিদে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, শিশুরা কিশোররা যদি ৪১ দিন একটানা ৫ ওয়াক্ত নামাজের পাশাপাশি ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করে, তাহলে তাদেরকে একটি করে বাইসাইকেল পুরষ্কার দেয়া হবে।
ওই ঘোষণায় উৎসাহিত হয়ে এলাকার অনেক শিশু কিশোরই নিয়মিত নামাজ আদায় শুরু করে। টানা ৪১ দিন নিয়মিত জামাতে নামাজ পড়ার পাশাপাশি ফজরের নামাজ জমায়াতে আদায় করেছেন এমন ৩৮ জনের হাতে শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সেই পুরষ্কার তুলে দেওয়া হয়।
শিশু-কিশোরদেরকে নামাজের প্রতি আকৃষ্ট করে মসজিদমুখি করার লক্ষ্যে আয়োজিত এমন উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। এমপি বদির এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সুশীল সমাজ।
উখিয়া-টেকনাফের সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি বলেন, নামাজ মুসলমানদের ফরজী ইবাদত। নামাজ ছাড়া জন্নাত ও মুক্তি মিলবে না। তাই মহান রবের নৈকট্য লাভের আশায় শিশুদের নামাজের প্রতি উৎসাহ যোগাতে এই উদ্যোগ আমি গ্রহণ করেছি।
বিষয়টি সম্পর্কে মমসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা ক্বারী মোঃ সোহাইল বলেন, ঘোষণার পর থেকে প্রায় শতাধিক কিশোর মসজিদে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা শুরু করে। তারা ঠিকমতো নামাজ আদায় করছে কিনা তা হিসার রাখার জন্য প্রতি ওয়াক্ত নামাজের পর হাজিরা নেয়া হতো। যদি কেউ কোনো ওয়াক্তে অনুপস্থিত থাকতো তখন তার গণনা বন্ধ করে দেয়া হতো। তবে সে চাইলে তার নাম আবার লিখিয়ে নতুন করে নামাজের দিন গণনা শুরু করতে পারত। এভাবে নিয়মিত যাচাই-বাছাই ও হাজিরার ভিত্তিতে সর্বশেষ ৩৮জন বিজয়ী হয়।
তিনি আরো বলেন, প্রতিযোগিতা চলাকালীন সময়ে তাদের শুধু নামাজই পড়ানো হয়নি। বরং সঠিকভাবে নামাজ শিক্ষা ও নামাজ সম্পর্কে জরুরি মাসয়ালাও শেখানো হয়, সেই সঙ্গে তালিম-তরবিয়ত এবং নামাজের প্রতি মানুষকে আহবানের পাশাপাশি দ্বীনি ইসলাম সম্পর্কে শিক্ষা দেয়া হয়েছে।
এমপি বদির এমন কার্যক্রমে এলাকার শিশু-কিশোররা নামাজের প্রতি আগ্রহী করে তুলছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এরপর থেকে শিশুরা নিয়মিত নামাজে আসছে এবং মুসল্লীর সংখ্যা বাড়ছে বলেও জানান তারা।
Leave a Reply