সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ০৬:৪৪ পূর্বাহ্ন
বিশেষ প্রতিবেদক।।
টেকনাফ-কক্সবাজার দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে ইয়াবা কুইন নীলু শীল। দীর্ঘদিন ধরে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারে ইয়াবা পাচারে হোতা এই নীলু শীল। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে টেকনাফ থেকে কক্সবাজার সহ বিভিন্ন জায়গায় নিরাপদে ইয়াবা (মাদক) পাচার করে আসছে এই নীলু শীল। তারপরও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে ইয়াবা পাচারের মূল হোতা এই নীলু শীল। নীলু শীলের মূল যোগান দাতা হচ্ছেন তার বড় মেয়ে ডলি শর্মা (ফ্রীজ ডলি)।
জানা গেছে, নীলু শীলের স্বামী দুলাল শীল প্রকৃতপক্ষে একজন মিয়ানমারের স্থায়ী বাসিন্দা। মিয়ানমার থেকে কক্সবাজারের টেকনাফের ডেইল পাড়ায় বসবাস শুরু করে। পরে এদেশের নীলু শীলের সাথে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হলে শুরু হয় ইয়াবা পাচার ও মানব পাচারের ব্যবসা। একসময় মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত হয়ে বিতর্কে জড়ালে পাড়ি জমায় দুবাই প্রবাসে। তার বউ নীলু শীল এর মাধ্যমে হুন্ডি ব্যবসা ও আদম ব্যবসা (মানব পাচার) করে আসছে মিয়ানমারের বাসিন্দা রোহিঙ্গা দুলাল শীল। নীলু শীলের নামে রয়েছে বিভিন্ন ব্যাংকে একাধিক একাউন্ট।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই নীলু শীলের নামে জনতা ব্যাংক লিঃ টেকনাফ শাখা হিসাব নং ০৮৯৯৩৪০০৮৩৭৪, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিঃ টেকনাফ শাখা হিসাব নং- ১০২১১২০০৪৪৭১৪, এবি ব্যাংক লিঃ টেকনাফ শাখা যার হিসাব নং ৪১২৮৬৪৭৮০১৩০০ একাউন্ট রয়েছে। এই সব একাউন্টে অর্থনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে অব্যাহত রেখেছে হুন্ডি ও মানব পাচার ব্যবসা। যার কারণে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।
টেকনাফের ডেইল পাড়ার স্থায়ী বাসিন্দারা জানান, দুলাল শীল প্রকৃতপক্ষে একজন মিয়ানমার বাসিন্দা (বার্মাইয়া)। দুলাল শীল এখনো এদেশে নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র করতে পারেননি। তবে সম্প্রতি দুলাল শীল এদেশে জাতীয় পরিচয়পত্র করার জন্য তোরজোড় শুরু করে দিয়েছে। দীর্ঘ ২ যুগেরও বেশি এই দুলাল শীল এদেশের মাটিতে পা রাখতে পারেননি।
এদিকে তার বউ নীলু শীল তার বাপের বাড়ী রামু কাউয়ার খোপে থাকার সুবাধে প্রতিনিয়ত ইয়াবা পাচার করে আসছে। প্রতিরাতে তার বাড়ী টেকনাফের ডেইল পাড়ায় হাট বসে ইয়াবার। কাপড়ের ভিতর (যৌনাঙ্গে) নীলু শীল নিরাপদে ইয়াবা নিয়ে কক্সবাজারে যাতায়াত করে। দীর্ঘদিন ধরে সে ইয়াবা পাচার করলেও প্রশাসনের মুখোমুখি হতে হয়নি তাকে। সেই সুবাধে নীলু শীল টেকনাফের ইয়াবা কুইন বনে রাতারাতি। টেকনাফ ডেইল পাড়ার স্থানীয়দের তোপের মুখেও কোনভাবে তাকে ইয়াবা পাচার থেকে আটকানো যাচ্ছে না।
সম্প্রতি প্রকাশিত সংবাদের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ৬ এপ্রিল ১০ হাজার ২৯ পিচ ইয়াবা নিয়ে দমদমিয়া চেকপোষ্টে আটক হয় লাকী শর্মা। এই লাকী শর্মা টেকনাফ ডেইল পাড়ার নীলু শীলের আত্মীয় এবং গত জুলাই মাসের শেষের দিকে টেকনাফের একই ঘরের বড় ভাসুরের ছেলে পলাশ শর্মার বউ প্রমিলা শর্মা সহ চারজন আটক হয় চট্টগ্রামে ইয়াবা নিয়ে। ওই প্রমিলা শর্মাও নীলু শীলের সহযোগী। নীলু শীল এসব লাকী শর্মা, প্রমিলা শর্মাদের গডফাদার। কথিত রয়েছে, তার বড় মেয়ে ডলি শর্মা বাম্পার ইয়াবা পাচার করেন বলে এলাকায় ফ্রীজ ডলি নামে পরিচিত। তাদের মাধ্যমে নীলু শীল প্রতিনিয়ত ইয়াবা পাচার করে আসছিল। লাকী শর্মা ও প্রমিলা শর্মা গ্রেফতার হলেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় নীলু শীল ও ডলি শর্মা (ফ্রীজ ডলি)।
স্থানীয়দের দাবি, টেকনাফ ডেইল পাড়ার পরিবেশ নষ্ট করছে নীলু শীল নামের এই মহিলাটি। প্রতি সপ্তাহে ৩/৪ দিন কক্সবাজার শহরে পাড়ি জমায়। বাপের বাড়ি যাবার অযুহাতে যৌনাঙ্গের ভিতর ইয়াবা ঢুকিয়ে পাচার করছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও তার মুখের কথা বিশ^াস করে তাকে ছেড়ে দিচ্ছে প্রতিবার। যার কারণে এই নীলু শীল টেকনাফ ডেইল পাড়ায় এখন ইয়াবা কুইন নামেও পরিচিত। তাই এই ইয়াবা কুইন নীলু শীলের হাত থেকে টেকনাফ ডেইল পাড়াকে রক্ষার দাবি জানিয়েছেন ডেইল পাড়াবাসী।
এইসব বিষয়ে জানতে নীলু শীলের মোবাইল ফোন ০১৮১৯ ৭২১৮৯২ নাম্বারে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলে মোবাইল বন্ধ রাখায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয় নাই।
Leave a Reply