সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ০১:৫৮ অপরাহ্ন
বিশেষ প্রতিবেদক।।
কক্সবাজার গণপূর্ত কার্যালয়ের পাশেই গণপূর্তের জমিতেই কটেজজোন এলাকায় অবৈধভাবে নির্মিত হচ্ছে বহুতল ভবন। ইতোমধ্যে এসব স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ ও উচ্ছেদ করতে মাঠে নেমেছে গণপূর্ত বিভাগ। সৈকত মার্ল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ এর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সহযোগিতায় এসব ভবন নির্মিত হচ্ছে সেই সরকারি জমিতে এমন অভিযোগ কক্সবাজার গণপুর্ত বিভাগের। সৈকত মার্ল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির সভাপতি নাজেম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফ দাবী করেছেন, বৈধ জমিতে বৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে গণপূর্ত বিভাগের পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযান সম্পূর্ণ অবৈধ।
মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকালে গণপূর্ত বিভাগ পরিচালিত অভিযানে বেশ কয়েকটি নির্মাণাধীন কটেজের টিনের ঘেরা ভাংচুর করা হয়।
সুত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের বিপরীত গণপূর্তের কার্যালয়। এই কার্যালয়ের পাশে লাইট হাউজস্থ কটেজ জোন। লাইট হাউজের কটেজ জোনে আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে প্রায় ৯ একর জমিতে ১২০ জন সদস্য প্রতিযোগিতা মূলকভাবে অবৈধ বহুতল ভবন নির্মাণ করেছে। ১৯৯৬ সাল থেকে চলে এই নির্মাণ কাজ। কটেজ জোনের পুরো জমি গণপূর্ত বিভাগের। জমি নিয়ে সৈকত মার্ল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি ও গণপূর্ত বিভাগের মধ্যে দীর্ঘদিন আইনী লড়াই চলে। ২০১৯ সালে উচ্চ আদালতের এক মামলায় রায়ে প্রায় আড়াই একর জমি ফিরে পান গণপূর্ত বিভাগ। এসব জমিতে কোন ধরণের স্থাপনা নির্মাণ অবৈধ। কিন্তু গণপূর্তের পাশ ঘেঁষে একের পর এক বহুতল স্থাপনা নির্মাণ করা হলেও তারা চুপই ছিল। বর্তমানে সরকারি এই জমিতে ১০/১৫টি বহুতল ভবন নির্মাণ চলছে প্রকাশ্যে।
অভিযোগ রয়েছে,কক্সবাজার গণপূর্ত বিভাগকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বর্তমানে ১০/১৫টি ভবনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সৈকত মার্ল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ। এসব ভবন নির্মাণে কউক থেকে কোন নকশা অনুমোদন নেওয়া হয়নি।
এদিকে, কক্সবাজার গণপূর্ত বিভাগের অধীন সৈকত মার্ল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ এলাকায় গণপূর্ত কার্যালয়ের সীমানা দেয়াল ঘেঁষে অবৈধভাবে নির্মাণাধীন বহুতল ভবন নির্মাণ বন্ধ এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদের লিখিত আবেদন করেন স্থানীয়রা। অবশেষে মঙ্গলবার বিকেলে সেখানে অভিযান চালিয়ে সেখানে টিনে ঘেরা ও নির্মাণ সামগ্রী ভাংচুর করে গণপূর্ত বিভাগ।
সৈকত মার্ল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির সভাপতি আবু হানিফ সাংবাদিকদের বলেন, এসব স্থাপনা নির্মাণ নিয়ে অনেক বিষয় আছে। ১৯৯৫ সালে এসব জমি গণপূর্ত থেকে দীর্ঘ মেয়াদী লীজ নেওয়া হয়। ১৯৯৬ সালে সরকারী কোষাগারে ৯ একর জমি বাবদ ৬৭ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। এসব জমিতে অস্থায়ী ভিত্তিতে সেই সময় থেকে পর্যায়ক্রমে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।
সৈকত মার্ল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির সভাপতি নাজেম উদ্দিন জানান, কক্সবাজার পৌর কতৃক পক্ষ সড়ক উন্নয়ন কাজ চালানোর কারণে কিছু কটেজের পজিশন নিচু হয়ে যায়। এসব কটেজগুলো উচু করে সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। গণপূর্ত বিভাগ আমাদের বরাদ্দের জমিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় মহামান্য হাইকোর্টে রিটপিটিশ ( নং ৬০০/২০২২) দায়ের করা হয়েছে। রীটের শুনানীর জন্য ১৪ নভেম্বর ধার্য করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে কক্সবাজার গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইমতিয়াজ আহমেদের নাম্বারে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ২৫ জুলাই ও চলতি বছরের ৩১ মে দুই দফায় অভিযান চালিয়ে ওই স্থানে স্কেভেটর দিয়ে বেশ কয়েকটি অবৈধ নির্মাণাধীন ভবন উচ্ছেদ করেছিল কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)। সেই অভিযানের দেড়মাস যেতে না যেতেই আবারও স্থাপনা নির্মাণ কাজ চালিয়ে শেষ করেছে লাইট হাউজের এসএস গেষ্ট হাউজ, টিআর রিসোর্ট ও সী কুইন কটেজের মালিক। এসময় জব্দ করা হয়েছিল নির্মাণ সরঞ্জামও। এর আগেও সেখানে কউক অভিযান চালিয়ে নির্মাণাধীন বহু স্থাপনা ভেঙে দেয়। কিন্তু ভেঙে দেওয়ার কয়েকমাস পর সেগুলো ফের নির্মাণ কাজ চলে।
Leave a Reply