সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ০৫:৪০ অপরাহ্ন

শিরোনাম
টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে বিজিবির স্থাপনা নির্মাণ ঘিরে জমি বিরোধের অভিযোগ  কক্সবাজারে আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে গুলি শালিকের জিএম মুজিবকে অপহরণ করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ সিবিআইইউ শিক্ষার্থী মুজিবকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ কক্সবাজার শহরে ২ জনকে ছুরিকাঘাত কুমিল্লায় মাছের গাড়ি ডাকাতির চেষ্টাকালে আটক-২, ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা টেকনাফে মুরগির খামার থেকে ৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার, খামারের মালিক পলাতক  সভাপতি রশিদের অত্যাচারে পিএমখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমানের মৃত্যু!  কোস্ট গার্ডের ড্রাইভার পরিচয়ে চাঁদাবাজি করছে ওমর ফারুক রামুতে পুলিশের অভিযানঃ ৩০ হাজার পিস ইয়াবাসহ জিয়া গ্রেফতার 
কক্সবাজারে ১৪৮ মন্ডপে উদযাপন হচ্ছে দুর্গাপূজা

কক্সবাজারে ১৪৮ মন্ডপে উদযাপন হচ্ছে দুর্গাপূজা

কাজল কান্তি দে।।

কক্সবাজারে ১৪৮টি মন্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন হতে যাচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা। তবে তিন উপজেলায় ১৮টি ঝুঁকিপূর্ণ পূজা মন্ডপের তালিকা পুলিশ প্রশাসনের হাতে হস্তান্তর করেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা। এসব মন্ডপে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন তারা। নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক, পূজা মন্ডপগুলো সিসি ক্যামরার আওতায় আনা পরও শংকিত তাঁরা। তাই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ সহযোগীতা কামনা করেছেন। এদিকে, জেলার ১৪৮ টি পূজা মন্ডপের গুরুত্ব অনুযায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কক্সবাজার লালদীঘির পাড়স্থ ব্রাক্ষ্ম মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু, সুন্দর ও উৎসব মুখর পরিবেশে পালনের লক্ষ্যে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা জানিয়েছেন পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে নেতার বলেন, উখিয়া রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় হওয়ায় সাম্প্রদায়িক ধর্মান্ধ একটি গোষ্টি ক্যাম্পের পাশে থাকা মন্ডপ সহ ৭টি, কক্সবাজার শহরের কিশোরগ্যাং এবং ছিনতাই কারীদের কারণে বৈদ্যঘোনা, গোলদিঘির পাড়, বিজিবি ক্যাম্পসহ ৫টি এবং পেকুয়া উপজেলার ৬টি মন্ডপকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি গোষ্টি দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে তৎপর। তারা সুযোগ পেলেই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় ধর্মীয় এই উৎসবে হামলার ধৃষ্টতা দেখাতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরো বলেন, প্রতি বছর প্রতিমা বির্সজনের সময় উপস্থিত পাঁচভাগের তিনভাগই ভিন্ন ধর্মের লোকজন উৎসবের আনন্দ উপভোগ করেন। এ ঐতিহ্য ধরে রাখতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের দেয়া তথ্য মতে, এবারের ৩০৫টি মন্ডপে শারদীয় দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে ১৪৮টিতে প্রতিমা ও ১৫৭টি ঘট পূজা। তবে, প্রতিমা পূজাকে ঘিরে দূর্গপূজার সকল কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। ইতোমধ্যে মহালয়ার শুভ আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শুরু হয়েছে শারদীয় দূর্গাপূজার ক্ষণগণনা। এবার দেবী দুর্গা গজে (হাতি) চড়ে মর্ত্যলোকে আসবেন। ৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে হিন্দু ধর্মালম্বীদের বৃহৎ এ উৎসব শেষ হবে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুল ইসলাম বলেন, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ পূজা মন্ডপের কথা বলা হয়েছে। তাই আমরা ১৪৮টি মন্ডপের গুরুত্ব বিবেচনা করে নিরপত্তা বলয় তৈরি করেছি। আমাদের তালিকা ও তাদের ঝুঁকির কথা বিবেচনা করেই নিরাপত্তা বলয় সাজানো হবে।

তিনি আরো বলেন, মন্ডপগুলোকে সরকারী নির্দেশনা মতে সিসি ক্যামেরায় আওতায় আনবে উদযাপন পরিষদ। এছাড়া প্রতিটি মন্ডপে শৃঙ্খলা রক্ষার্থে পরিষদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী থাকবে। তার পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশ ও আনসার এর সমন্বয়ে স্ট্রাইকিং ফোর্স, সাদা পোষাকধারী পুলিশের লোকজনও মাঠে থাকবে। এছাড়া মোবাইল ও পেট্রোল টিম সার্বক্ষনিক মনিটরিং করবে পূজামন্ডপ। গুরুত্ব বিবেচনা করে কিছু কিছু মন্ডপে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হবে। এক কথায় যেকোন ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটানো মোকাবেলা করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের তালিকা মতে, কক্সবাজার সদর উপজেলায় ১৭টিতে প্রতিমা পূজা ও ১১টি ঘট পূজা, ঈদগাঁও উপজেলায় ১৭টি প্রতিমা পূঁজা ও ৯টিতে ঘট পূজা, কক্সবাজার পৌরসভায় ১১টিতে প্রতিমা পূজা ও ১০টিতে ঘট পূজা, রামু উপজেলায় ২২টিতে প্রতিমা পূজা ও ১০টিতে ঘট পূজা, চকরিয়া উপজেলায় (পৌরসভাসহ) ৪৮টিতে প্রতিমা পূজা ও ৪৩টিতে ঘট পূজা, পেকুয়া উপজেলায় ৫টিতে প্রতিমা পূজা ও ৪টিতে ঘট পূজা, কুতুবদিয়া উপজেলায় ১৩টিতে প্রতিমা পূজা ও ৩২টিতে ঘট পূজা, মহেশখালী উপজেলায় (পৌরসভাসহ) ১টিতে প্রতিমা পূজা ও ৩০টিতে ঘট পূজা, উখিয়া উপজেলায় ৭টিতে প্রতিমা পূজা ও ৮টিতে ঘট পূজা, টেকনাফ উপজেলায় ৬টিতে প্রতিমা পূজা ও উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১টিতে প্রতিমা পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি উজ্জল কর।

সাধারণ সম্পাদক বেন্টু দাশের পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মুজিবুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক মুহাম্মদ আলী জিন্নাত, সাংবাদিক মমতাজ উদ্দিন বাহারি, শামসুল হক শারেক, পূজা কমিটির সহ-সভাপতি সাংবাদিক দীপক শর্মা দীপু প্রমূখ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

All rights reserved by © coxnewstoday
Desing & Developed BY MONTAKIM