সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ০৬:০১ অপরাহ্ন
কাজল কান্তি দে।।
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে উৎসব মুখর পরিবেশে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার শেষ দিন বিজয়া দশমীতে সৈকতের লাবণি পয়েন্টে দেবী দুর্গাকে বিসর্জন দেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
বিসর্জনের দিনে বুধবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে সৈকতের তীরে জেলার দুই শতাধিক প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়।
কক্সবাজার জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক বেন্টু দাশ বলেন, কক্সবাজারের ৩০৮টি পূজা মন্ডপে বিদায়ের সূর। সকালে দশমী বিহিত পূজা করে পূজার্থীরা। পূজা শেষে দেয়া হয় দর্পণ বিসর্জন। বিকেলে বিসর্জন দেয়া হয়েছে। কুতুবদিয়া-মহেশখালী ছাড়া বাকি মন্ডপগুলোতে থেকে প্রতিমা আনা হয়েছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে।

তিনি আরও জানান, পাশ্ববর্তী বান্দরবান জেলার কয়েকটি উপজেলা থেকেও প্রতিমা আনা হয়েছিল। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যদিয়ে সৈকতে এ উৎসবের সমাপনী হয়েছে।
বিসর্জন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা উপ-মন্ত্রী ব্যারিষ্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, সৈকতের সকল ধর্মের মানুষের জমায়েত বলে দেয়, এ দেশে জঙ্গীবাদের অবস্থান নেয়। মৌলবাদীরা এদেশে অরাজকতার প্রশ্রয় পায় না। একটি গোষ্ঠী বাংলার মানুষের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে আঘাত করছে। বার বার তাদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের প্রতিহত করছে। আশা করি আগামীতে এ ধরণের গোষ্ঠী আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পুজারীদের ঢল নামে। তাদের নিরাপত্তার জন্য সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। পুলিশের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তরাও কাজ করেছে।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশ সবসময় প্রস্তুত। প্রতিটি পয়েন্ট সাদা পোশাকে কাজ করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। পর্যটকদের সুবিদার জন্য সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ট্যুরিস্ট পুলিশের হেল্পডেস্ক বসানো হয়। বিকাল ৫টা পর্যন্ত সৈকতের বালুচরে রাখা দুর্গা প্রতিমা ঘিরে চলে ভক্তদের শেষ আরাধনা। শুধু তাই নয়, নাচে-গানে এক অন্যরকম আনন্দমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় বিশ্বের দীর্ঘতম এ সৈকতে। অনুষ্ঠানকে ঘিরে সমাগম ঘটে পর্যটকসহ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা লাখো মানুষের।
কক্সবাজারের বিসর্জন অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, জেলা প্রশাসক মো: মামুনুর রশীদ, পুলিশ সুপার জনাব মাহফুজুল ইসলাম,
র্যাব-১৫ এর সিইও লে. কর্নেল খাইরুল ইসলাম, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মেয়র মো: মুজিবুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কক্সবাজার জেলার প্রধান উপদেষ্টা এডভোকেট রণজিত দাশ, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো: মুজিবুল ইসলাম, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি মো: নজিবুল ইসলাম, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল কর, পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বেন্টু দাশ সহ ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সরকারি কর্মকর্তাগণ।
Leave a Reply