সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন
নুরুল হক সিকদার।।
কক্সবাজারে উত্তর বনবিভাগের আওতাধীন রামু উপজেলার রশিদনগর ইউনিয়নের মেহেরঘোনা রেঞ্জের কালিরছড়া বনবিটের আবদুর রহমানের ঘোনা এলাকায় এক যুবলীগ নেতার দখলে থাকা দুই একর সংরক্ষিত বনভূমি উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। উদ্ধার করা ওই বনভূমিতে যুবলীগ নেতা ইন্তাজসহ একটি চক্র মৎস্য খামার গড়ে তুলছিলেন বলে জানা গেছে।
বুধবার (৫ অক্টোবর) সকালে মেহেরঘোনা রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াজ রহমানের নেতৃত্বে কালিরছড়া বিট কর্মকর্তা, স্টাফ, ভিলেজার সহ একটি দল এ অভিযান চালায়।
স্থানীয়রা জানান, প্রভাবশালীরা এখন সশস্ত্র সিন্ডিকেট করে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে হামলা চালাচ্ছে। রামু উপজেলার রশিদনগর ইউনিয়নের কালিরছড়া এলাকার ইন্তাজ নামের এক যুবলীগ নেতা দীর্ঘদিন ধরে বনের জায়গা দখল, বনভুমি বিক্রি, পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত। এছাড়াও মাটি-বালি বিক্রি, বনের গাছ পাচার, বনকর্মীদের ওপর হামলা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ একাধিক মামলার আসামি। এরই ধারাবাহিকতায় যুবলীগ নেতা ইন্তাজের নেতৃত্বে ৫০/৬০ জনের একটি দল সংরক্ষিত বনাঞ্চলে মৎস্য খামার নির্মাণের কাজ করছিল।

মেহেরঘোনা রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াজ রহমান জানান, অভিযানের সময় ইন্তাজ সহ ৫০/৬০ জনের দেশি অস্ত্রে সজ্জিত একটি দুর্বৃত্তের দল উত্তেজনাকর ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে বনবিভাগ। মৎস্য খামার করার জন্য নির্মিত বাঁধ ভেঙ্গে দিয়ে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের দুই একর বনভুমি জবরদখল মুক্ত করা হয়। অপরাধিদের চিহ্নিত করে বন মামলা দায়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এখনো দখলদাররা আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন সরকার বলেন, “মানুষ পেশিশক্তি ব্যবহার করে বনভুমি দখল করে রাখায় বনভুমি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বনবিভাগ প্রায় প্রতিদিনই এসব দখলের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। সীমিত জনবল নিয়ে বনভুমিতে দুর্বৃত্তায়ন রোধে হিমশিম খাচ্ছে।”
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা এন্তাজ বলেন, তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা। একটি কুচক্রী মহল তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপ্রচার চালাচ্ছে। এটি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে দাবী করেন তিনি।
এদিকে সচেতন মহলের দাবী, বন বিভাগের জমি দখল সামাজিক সম্প্রীতির অন্যতম প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা প্রশংসনীয়। বন বিভাগের পাশাপাশি অন্যান্য প্রশাসনিক সংস্থাকেও বনভূমি রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
Leave a Reply