সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ন
কাজল কান্তি দে।।
কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালীতে দেড় কোটি ঘনফুট পাহাড় কাটার ঘটনায় ১৩ মামলার আসামি শীর্ষ পাহাড়খেকো ওবায়দুল করিমকে প্রধান করে ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) রাতে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম বাদি হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার আসামীরা হলেন, কক্সবাজার সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক ও জেলা পরিষদের সদস্য মাহমুদুল করিম মাদু, তাঁর ভাই মামুন, ছনখোলার সুলতান আহমদ মেম্বারের পুত্র জাহাঙ্গীর আলম, তোতকখালীর আমিন চেয়ারম্যানের পুত্র জোসেফ, তোতকখালীর সাবেক ইউপি সদস্য তাজমহল, হানিফ সিকদারের পুত্র কায়েস সিকদার, দক্ষিণ খুনিয়াপালং এর নুর আহমেদের পুত্র নুরুল কবির বাবুল, ছনখোলার ঘোনারপাড়ার মৃত আমির হোসেনের পুত্র লুৎফর রহমান, মৃত আবু তাহেরের পুত্র সোনা আলী, পরানিয়া পাড়ার সোনা মিয়ার পুত্র কাজল, নুরুল আলমের পুত্র মনিরুল ইসলাম মুন্না, খুরুশকুল লামাজিপাড়ার আবুল কাশেমের পুত্র নাছির উদ্দিন, উত্তর পরানিয়াপাড়ার আবু তালেব ভূট্রোর পুত্র মো. সোহেল, তোতকখালীর মৃত সোনা মিয়ার পুত্র সিরাজ, উত্তর পরানিয়াপাড়ার মোহাম্মদের পুত্র শাহজাহান, নয়াপাড়ার মাহমুদুল হকের পুত্র হারুন, ডিকপাড়ার জাফর আলমের পুত্র মোস্তাক আহমদ, পরানিয়াপাড়ার গুরা মিয়ার পুত্র নুরুল আমিন, নয়াপাড়ার সুলতান আহমদের পুত্র ও পিএমখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল কাদের।
মামলার এজাহার সুত্রে জানা গেছে,
কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের তাজমহলের ঘোনা, ঘোনারপাড়া, ছনখোলা ও পশ্চিম পাড়া এলাকায় ওবায়দুল করিমের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ চক্র এক বছর ধরে আনুমানিক ১০ একর আয়তনের সরকারি একাধিক পাহাড় কেটে ডাম্প ট্রাক ভর্তি করে দেড় কোটি ঘনফুট বালি ও মাটি বিক্রির অভিযোগ আনা হয় এই মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে।
কক্সবাজার সচেতন নাগরিক আন্দোলন
এর সদস্য সচিব মোরশেদ আলম বলেন, প্রায় তিন মাস আগে পিএমখালীতে ভয়াবহ পাহাড় কাটার ঘটনায় ৯ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু মামলায় চিহ্নিত কয়েকজন পাহাড়খেকোকে বাদ দেয়া হয়েছে।
পরিবেশ বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এনভায়রনমেন্ট পিপল এর প্রধান নির্বাহী রাশেদুল মজিদ বলেন, পাহাড় কাটার মতো গুরুতর অপরাধের মামলাগুলোতে আসামি শাস্তি না পাওয়ায় পাহাড় কাটা বন্ধ হচ্ছে না। এক্ষেত্রে মামলা দায়েরে আসামি, স্বাক্ষী, অপরাধের ধরণ, ক্ষয়ক্ষতি, আলামত, আসামির সংশ্লিষ্টতা, ঘটনার পারিপার্শ্বিক অবস্থা, অভিযোগ পত্র ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অনেক সময় মামলার দূর্বল এজাহার ও অভিযোগ পত্রের কারণে প্রকৃত অপরাধী পার পেয়ে যায়।
মামলার বাদি পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম মামলা দায়েরের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মামলাটি পরিবেশ অধিদপ্তর তদন্ত করবে। তদন্তে সবকিছু চলে আসবে। যারা জড়িত তাদের কেউ বাঁচার সুযোগ নেই।
এদিকে, এর আগে পাহাড় কাটার ঘটনার বিষয়ে পরিবেশ বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এনভায়রনমেন্ট পিপল, কক্সবাজার সচেতন নাগরিক আন্দোলন লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ করে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দফতর এবং গণমাধ্যমের নজরে আনেন।
Leave a Reply