সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন
বিশেষ প্রতিবেদক।।
কক্সবাজারে তথ্য গোপন করে মামলা করায় মামলার বাদী এক সাংবাদিককে তলব করেছে আদালত। একই সাথে ৭ দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালত। ওই ঘটনায় মামলার আইনজীবী মোক্তার আহমদকে
ও তলব করেছে আদালত।
অভিযুক্ত বাদী নুরুল আলম সিকদার টেকনাফ উপজেলাধীন হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডস্থ পুর্ব সাতঘরিয়া পাড়া এলাকার মৃত মোছন আলী সিকদারের ছেলে। বর্তমানে ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ হাজীপাড়া এলাকায় বসবাস করে। তিনি একাধারে আইনজীবী সহকারী (মুন্সি) ও দৈনিক নবচেতনার জেলা প্রতিনিধি এবং সদর উপজেলা প্রেসক্লাব নামদারী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক। একই সাথে হোয়াইক্যং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বলেও জানা গেছে।
আদালত সুত্রে জানা গেছে, একটি আদালতে মামলা খারিজ হওয়ার পর তথ্য গোপন করে একই বিষয়ে ভিন্ন আদালতে মামলা করায় আইনজীবী ও নালিশকারী সাংবাদিককে সশরীরে হাজির হয়ে ৭ দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। সেই সঙ্গে মামলাটি আমলযোগ্য না হওয়ায় খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১ ফেব্রুয়ারী) সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত (সদর) এর মামলা নং-১৪৯/২৩ পর্যালোচনা শেষে বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী এই নির্দেশ প্রদান করেছেন।
মামলার নথিতে দেখা গেছে, গত ২০ জানুয়ারি মানহানির ঘটনা দেখিয়ে জাহাঙ্গীর আলম, সাইফুল ইসলাম, মোজাহের মিয়া, শাহ নেওয়াজ ও মোঃ রাশেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে টেকনাফ আমলী আদালতে মামলা করেন নুরুল আলম সিকদার নামক এক ব্যক্তি। যার মামলা নং- সিআর ৪০/২৩। শুনানি শেষে মামলাটি খারিজ করে দেয় আদালত। এরপরে ঘটনাস্থল পরিবর্তন করে একই বিষয়ে একই আইনজীবীর মাধ্যমে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সদর) আদালতে আরেকটি মামলা করেন নুরুল আলম সিকদার। যার মামলা নং-১৪৯/২৩। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির এম.এ.ই শাহজাহান নূরী।
দুইটি মামলার নালিশী দরখাস্ত পর্যালোচনা করে আদালত জানায়, মামলা দুইটিতে ঘটনাস্থলের ভিন্নতা ছাড়া মামলায় অপরাধের অভিযোগের ধারা, ঘটনার তারিখ, ঘটনার বিবরণ হুবহু মিল রয়েছে। নালিশকারী এবং তার পক্ষে নিয়োজিত আইনজীবীও একই। অর্থাৎ একই ঘটনা নিয়ে একই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কেবল ঘটনাস্থল পরিবর্তন করে ভিন্ন ভিন্ন আঞ্চলিক এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতে নালিশকারী ২টি মামলা করেছেন। নালিশকারী শপথ নিয়ে আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন, যা ফৌজদারি অপরাধ।
উল্লেখ্য যে, ভিন্ন ভিন্ন আদালতে মামলা দায়ের হলেও নালিশকারীপক্ষের বিজ্ঞ আইনজীবী The Bangldesh Legal Practitioner and Bar Counsil Act, ১৯৭২ এর ক্ষমতাবলে প্রণীত The Canons of Professional Conduct and Etiquette এর ২য় অধ্যায়ে মক্কেল ও আদালতের প্রতি আইনজীবীর দায়িত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে। উক্ত আচরণবিধির ২য় অধ্যায়ে মক্কেলের প্রতি দায়িত্ব বলতে কোনরূপ আইনভঙ্গের পরামর্শ না দেয়া এবং ৩য় অধ্যায়ে আদালতের প্রতি দায়িত্ব হিসেবে আদালতে ভুল তথ্য না দেয়ার বিষয়ে বলা হয়েছে। কিন্তু নালিশকারী পক্ষে নিয়োজিত আইনজীবী মোক্তার আহমদ একই নালিশকারীর পক্ষে একই বিষয়ে একই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ঘটনাস্থল পরিবর্তন করে এবং অন্য আদালতে ইতোপূর্বে দায়েরকৃত সিআর মামলা নং-৪০/২৩ খারিজের তথ্য গোপন করেছেন। আদালতকে ভুল তথ্য দিয়েছেন। মক্কেলকে আইন ভঙ্গের সহায়তা করেছেন, যা একজন আইনজীবী হিসেবে আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এমতাবস্থায়, ন্যায় বিচারের স্বার্থে কেন আইনজীবী ও নালিশকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা আগামি ৭ দিনের মধ্যে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
Leave a Reply