বিশেষ প্রতিবেদক।।
সব নিয়ম-নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা উপেক্ষা করে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে কুতুবদিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটি৷ এই নিয়ে কুতুবদিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে চলছে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ। ফেসবুক জুড়ে চলছে আলোচনা ও সমালোচনা।
শুক্রবার (৩১ মার্চ) গভীর রাতে এই কমিটি প্রকাশ করেন কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এসএম সাদ্দাম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক মারুফ আদনান।
তৃণমূলের নেতাকর্মীরা জানান, কমিটির আহবায়ক মহিদুল হাসান হান্নান, যার বয়স ৩৬। সে বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক। ছাত্রলীগ সভাপতি এরশাদুল হক রুবেল হত্যা মামলার ৬নং আসামী। সে ২০১৭’সালে ঢাকা আজিমপুরের কাঁচা বাজার গলি এলাকার জাহাঙ্গীর আহমদের মেয়ে উম্মে মিথিলা তাসনীম আন্বীকে বিয়ে করেন। সুদী ও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত বলেও দাবী করেন তারা। কয়েক লাখ টাকার বিনিময়ে ৩৬ বছর বয়সী অছাত্র, দুই সন্তানের জনক, হত্যা মামলার আসামী ও মাদক ব্যবসায়ী আলোচিত হান্নানকে আহবায়ক করায় জেলা সভাপতি সাদ্দাম হোসাইনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।
ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন কমিটির একজন যুগ্ন-আহবায়ক তানজির সিকদার। তার দাবী কমিটিতে অছাত্র, মামলার আসামি ও বিবাহিতদের রাখা হয়েছে। যোগ্য অনেকের জায়গা হয়নি। ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।
জানা গেছে, কুতুবদিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও চট্টগ্রামের ওমরগণি এমইএস কলেজ ছাত্র সংসদের সদস্য এরশাদুল হাবীব রুবেলকে ২০০৬ সালের ১৫ অক্টোবর গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। ঘটনার দুদিন পর ১৭ অক্টোবর তার মা মমতাজ সুফিয়া আক্তার বাদী হয়ে ১৮ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। দুই বছর তদন্তের পর ২০০৮ সালে কুতুবদিয়া থানা পুলিশ আদালতে ৮ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেয়। সেই অভিযোগপত্রে ৬নং আসামী করা হয় মুহিদুল হাসান হান্নানকে। সে কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের আবু ইউসুফের ছেলে। ২০০৩ সালে এসএসসি পাশ করেছে। বর্তমানে তার ছাত্রত্বও নেই।

এদিকে, কমিটি অনুমোদনের পরপরই হানানের বিয়ের নিকাহনামা, আন্টি পড়ানোর ছবি ও হত্যা মামলার এজাহারের ছবি ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
নবগঠিত কমিটির আহবায়ক মহিদুল হাসান হান্নানকে (01814-482463) বহবার বিভিন্ন মোবাইল থেকে কল দিলেও রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এসএম সাদ্দাম হোসাইন জানান, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রুবেল হত্যা মামলার আসামী হলেও চার্জশিট থেকে বাদ যাওয়ায় আমি অপরাধী হিসেবে দেখছি না। কাবিননামার রেফারেন্স দিয়ে বিবাহিত হিসাবে যে দাবি করা হচ্ছে তা আমরা খতিয়ে দেখছি। হান্নান কাবিননামাটি এডিট করে তার প্রতিপক্ষরা বানিয়েছে বলে আমাদের কাছেব দাবী করেন।
এছাড়া, নবগঠিত উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক কমিটির একজন যুগ্ম-আহ্বায়ক নিয়েও অভিযোগ তুলেন-কুতুবদিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ইউসুপ। তিনি দাবী করেন, কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ নুরুল আলম জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মারুফ আদনানের অনুসারী এবং একজন ছাত্র শিবিরের নেতা। কখনো ছাত্রলীগ করেনি।
অন্যদিকে, কমিটির সদস্য পদ পাওয়া ওপেল শরীফের পিতা কুতুবদিয়া উপজেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক বলে জানায় পদ বঞ্চিতরা।
Leave a Reply