সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন
বিশেষ প্রতিবেদক।।
কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে ভাসতে থাকা বিশালাকার মৃত তিমিটি প্রায় ১০ ঘণ্টা পর বালুচরে আটকা পড়েছে। বুধবার ভোরে সৈকতের সায়মন বিচ পয়েন্টের বালিয়াড়িতে মৃত তিমিটি পুঁতে ফেলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে কক্সবাজার সৈকতের সায়মন বিচ পয়েন্টের বালিয়াড়িতে মৃত তিমিটি আটকে পড়ে। এটি পঁচে দুর্গন্ধ ছড়ায়।
এর আগে, মঙ্গলবার দুপুর ১২ টার দিকে
কক্সবাজার সৈকতের হিমছড়ি পয়েন্টের অদূরে মৃত অবস্থায় ভেসে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। সেখান থেকে তিমিটি ১০ কি.মি উত্তরে গিয়ে ১০ ঘন্টা পর কলাতলি সায়মন বিচ এলাকায় বালিয়াড়িতে আটকা পড়ে।
সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, তিমিটির লেজের অংশসহ শরীরের ৭৫% পঁচে গেছে। আর পরিমাপ করার পর দেখা গেছে এই তিমির আকার ৫০ ফুটের বেশি। তিমিটির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, জেলেদের জালে আটকা পড়ে তিমিটির মৃত্যু হয়েছে। পর্যটকসহ আশপাশের লোকজন চরম বিড়ম্বনায় পড়ে যায়।
প্রায় ২৫ টন ওজনের এই তিমি গত ১০-১২ দিন আগে মারা পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া, বিরল প্রজাতির এই তিমি দেখতে স্থানীয় উৎসুক জনতা ও পর্যটকদের ভীড় বেড়ে যায়। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় তিমিটি দ্রুত অপসারণ ও মাটিতে পুতে ফেলার স্থানীয়রা দাবী জানালে, ভোরেই জেলা প্রশাসন স্কেভেটর দিয়ে সৈকতে তিমিটি পুঁতে ফেলেন।
বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইন্সটিটিউটের
মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার জানান, ‘ব্রাইডস’ প্রজাতির তিমি এর আগে এখানে আরও দুটি মারা গেছে। ময়না তদন্তের জন্য এবারও নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। মাছ ধরার বিশাল জালে আটকা পড়ে তিমিটি এবং গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে কিংবা অন্য কোনো কারণে তিমিটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তিমিটির মৃত্যুর কারণ এখনো জানা সম্ভব হয়নি।
পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মাসুম বিল্লাহ জানান, বুধবার ভোররাতে তিমির মরদেহ বালিয়াড়িতে গর্ত করে পুতে ফেলা হয়েছে। গত ২০২১ সালের ৯ ও ১০ এপ্রিল একইস্থানে হিমছড়ি পয়েন্টেই দুইটি তিমি ভেসে এসেছিল। এই তিমি গুলোর মৃত্যুর কারণও অজানা রয়ে গেছে।
এদিকে, মৃত তিমিটি পুঁতে ফেলার সময় কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের লোকজন, পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও কক্সবাজার সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং বীচকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply