সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ০৩:৩২ অপরাহ্ন
মো.শাহাদত হোছাইন।।
কক্সবাজারের নাজিরারটেক পয়েন্টে ভাসমান মাছ ধরার ট্রলার থেকে ১০ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। তবে এটি একটি হত্যাকান্ড বলে দাবী করেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মাহফুজুল ইসলাম পিপিএম (বার)।
রোববার (২৩ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৩ টায় উদ্ধার অভিযান শেষে কক্সবাজার পুলিশ সুপার মাহফুজুল ইসলাম জানান, আজ সকাল ৭ টার দিকে খবর আসে নাজিরারটেক এলাকায় একটি ভাসমান ট্রলারে একটি লাশের শরীরের অংশ দেখেছে। এমন খবর পেয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টীম ঘটনাস্থলে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের টীমও ঘটনাস্থলে আনা হয়। বিকাল ৩ টার দিকে ১০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
এসপি আরো জানান, ফিশিং ট্রলারের কোল স্টোরের ভিতরে হাত-পা রশি ও জাল দিয়ে বাঁধা এবং পাটাতনবদ্ধ অবস্থায় লাশগুলো স্তুপ আকারে ছিল। লাশগুলো পঁচে গলে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ১০-১২ দিন আগে সাগরে ডাকাতির খবর শুনেছিলাম। হয়ত আজকে উদ্ধার হওয়া লাশগুলো ওই ঘটনারই। এটি একটি হত্যাকান্ড বলে দাবী করেন তিনি। লাশের পরিচয় নিশ্চিত করে এরা কি ডাকাত নাকি ডাকাতির শিকার, বিষয়টি পরে জানা যাবে। উদ্ধার হওয়া লাশগুলো মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং সিআইডিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঈদের দিন সকালে
কুতুবদিয়া পাড়ার এলাকার গুরা মিয়ার ফিশিং ট্রলার সাগর থেকে মাছ ধরে কুলে ফেরার সময় সাগরের লাবণী পয়েন্টে একটি ভাসমান বোট দেখতে পায়। তারা ভাসমান বোটটিকে উপকূলে টেনে নিয়ে আসে। পরে গুরা মিয়ার বোটটি তার ঘাটেই মাছ বিক্রি করতে চলে যায়। কিন্তু আজ সকালে খবর পাওয়া গেল ওই বোটে একটি লাশের পা দেখা যাচ্ছে। কোল স্টোরের ভিতর থেকে লাশের দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। বিষয়টি স্থানীয়রা পুলিশ প্রশাসনকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে।
সাগর থেকে মাছ ধরে ফিরে আসা কয়েকজন জেলের দাবি, রবিবার (৯ এপ্রিল) সকাল ৭টার দিকে ডাকাত তকমা দিয়ে মহেশখালী কালারমার ছড়া এলাকার বোটের সাথে মাতারবাড়ির আমান বদ্দারের বোটের সংঘর্ষ হয়। ডাকাতি হচ্ছে খবর শোনে ওই বোটটিকে ধাওয়া করতে যায় মাতারবাড়ির বাইট্টা কামাল আর নুর হোসাইন বহদ্দারের বোট। তাদের সাথে যোগ দেয় মাতারবাড়ির আবছার মাঝি এবং মাতারবাড়ির বাবুল মাঝির বোট। হয়ত তারাই একত্রিত হয়ে হত্যাকান্ডের এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ওই ঘটনায় প্রায় ১৫-২০ জন জেলে নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে। হয়ত আজকে উদ্ধার হওয়া ১০ জনের লাশই ওইদিনের ঘটনায় নিখোঁজ জেলেদের। তারা মহেশখালী ও চকরিয়ার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
একটি সুত্র জানায়, ১৪-১৫ দিন আগে বঙ্গোপসাগরে ডাকাত তকমা দিয়ে একটি বোটের মাঝি-মাল্লাদের মারধর করে হাত-পা বেঁধে নৌকাটি ডুবিয়ে দেওয়া হয় বলে জানা যায়। হয়ত আজকে উদ্ধার হওয়া ১০ জনের লাশই ওইদিনের ঘটনায় নিখোঁজ জেলেদের।
আরেকটি সুত্র জানায়, ডাকাতি করতে গিয়ে কয়েকটি বোটের মাঝিমাল্লাদের হাতে নিহত হয় আজকে উদ্ধার হওয়া লাশগুলো। লাশগুলো শনাক্ত হলেই পাওয়া যাবে ওখানে কিছু পেশাদার ডাকাতের লাশ রয়েছে।
এদিকে, কক্সবাজার সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকারিয়া, কক্সবাজার সদর সার্কেল ও কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ রফিকুল ইসলাম, পর্যটন সেলের বীচকর্মী দল এবং ফায়ার সার্ভিসের দল সাগরের উপকুলে ভাসমান ফিশিং বোট থেকে মৃতদেহগুলো উদ্ধার কাজে দায়িত্ব পালন করেন।
Leave a Reply