সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন
মোহাম্মদ রাসেল।।
যৌতুকের দাবীতে স্ত্রীকে মারধর ও শ্বাশুড়িকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় আসামী আবদুল মজিদকে আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষে জামিনের মেয়াদ বাড়িয়েছে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত-২ এর বিচারক মো. নুরে আলম। একই সাথে স্ত্রী তাহনিয়া সোলতানা মনির মোহরানার সহ ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধে আপোষ মিমাংসার শর্তে এই জামিন দেওয়া হয়েছে বলে বাদী পক্ষের আইনজীবী মঈনুল আমিন ইমু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আসামী আবদুল মজিদ কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের ইউনুচখালী এলাকার ছৈয়দ আহমদের ছেলে।
মামলা সুত্রে জানা যায়, আসামী আবদুল মজিদ তার স্ত্রী তাহনিয়া সোলতানা মনি ও তার শ্বাশুড়ী তাহেরা বেগমকে গত ২০২২ সালের ১ আগষ্ট যৌতুকের জন্য কুপিয়ে আহত করে। এ ঘটনায় তাহনিয়া সোলতানা মনি বাদী হয়ে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত-২ এ মামলা দায়ের করেন (সিপি নং-২২৯/২০২২)। মামলাটি অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কক্সবাজার পিবিআইকে নির্দেশ দেওয়া হলে পিবিআই এর পুলিশ পরিদর্শক এনামুল হক চৌধুরী গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর আবদুল মজিদের বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন। পরে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় আপোষ-মিমাংসার শর্তে চবদুল মজিদকে জামিন দেয় আদালত। বৃহস্পতিবার (১১ মে) এই মামলার ধার্য্য তারিখে আদালতে হাজির হন আবদুল মজিদ।
আদালত সুত্রে জানা গেছে, নির্যাতিত গৃহবধূ তাহনিয়া সোলতানা মনিকে মোহরানাসহ ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের শর্তে ও তার মেয়ে উম্মে তাসমিন আরোহীকে খোরাকী দেয়ার আপোষনামা মেনে আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত জামিন দিয়েছে আদালতের বিচারক মো. নুরে আলম।
বাদীর আইনজীবী এডভোকেট মঈনুল আমিন জানান, ৫ লাখ টাকা যৌতুকের দাবীতে বাদীনীকে মারধর এবং বাদীনীর মাকে কুপিয়ে আহত করে আসামী আবদুল মজিদ। এঘটনায় গত ২০২২ সালের ৪ আগষ্ট কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত-২ এ মামলা দায়ের করি, যার নং-২০/২৩। ওই মামলায় ধার্য্য তারিখ ছিল আজ। এর আগে মামলার বাদী তাহনিয়া সোলতানা মনিকে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দেয় আসামী আবদুল মজিদ। এই বিষয়ে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে বাদীনী চকরিয়া থানায় একটি জিডি দায়ের করেন (জিড়ি নং-৩৬৭, তাং-৭/৫/২৩ ইং)। বাদীর আইনজীবী হিসেবে আমি আসামীর জামিন বাতিল চেয়ে আদালতে আবেদন করি। এছাড়াও, আসামী আবদুল মজিদ টেকনাফ থানাধীন বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এলাকার শাহেদা বেগম সাকি নামের এক মহিলাকে গোপনে বিয়ে করে সংসার করার বিষয়েও আদালতকে অবহিত করা হয়েছে। আসামী আবদুল মজিদ আদালতকে তা অস্বীকার করে বলেছেন, শাহেদা বেগম সাকি নামের কাউকে তিনি বিয়ে করেননি এবং এই নামের কাউকে তিনি চিনেন না। বিষয়টি আদালত আমলে নেন বলে জানান বাদীর আইনজীবী।
Leave a Reply