সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে বিজিবির স্থাপনা নির্মাণ ঘিরে জমি বিরোধের অভিযোগ  কক্সবাজারে আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে গুলি শালিকের জিএম মুজিবকে অপহরণ করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ সিবিআইইউ শিক্ষার্থী মুজিবকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ কক্সবাজার শহরে ২ জনকে ছুরিকাঘাত কুমিল্লায় মাছের গাড়ি ডাকাতির চেষ্টাকালে আটক-২, ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা টেকনাফে মুরগির খামার থেকে ৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার, খামারের মালিক পলাতক  সভাপতি রশিদের অত্যাচারে পিএমখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমানের মৃত্যু!  কোস্ট গার্ডের ড্রাইভার পরিচয়ে চাঁদাবাজি করছে ওমর ফারুক রামুতে পুলিশের অভিযানঃ ৩০ হাজার পিস ইয়াবাসহ জিয়া গ্রেফতার 
ইসলামপুর বাঁশকাটা তালিমুল কোরআন হাফেজ ও এতিমখানার নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

ইসলামপুর বাঁশকাটা তালিমুল কোরআন হাফেজ ও এতিমখানার নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদক।।

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলা বাঁশকাটা তালিমুল কোরআন হেফজ ও এতিমখানার কমিটি গঠন না করেই বছরের পর বছর নিজেদের মনগড়া আইনে চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাফেজখানা ও এতিম খানার নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে পরিচালক মৌলভী সিরাজুল ইসলামসহ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। এনিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের জমি দাতা ও প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ঈদগাঁও থানা বরাবর লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন।

লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ঈদগাঁও থানার ইসলাম পুর ইউনিয়নের বাঁশকাটা এলাকার হাজী আনোয়ার আলী তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশে প্রথম শুরু করেন একটি মক্তব। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯১ সালে বাঁশকাটা তালিমুল কোরআন হাফেজ ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি নিজস্ব অর্থায়নে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে আসছিল এবং প্রতিষ্ঠানের নামে জমিও দান করেন।
গত ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা হাজী আনোয়ার আলী মারা গেলে প্রতিষ্ঠানটির হাল ধরেন তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম (ওই সময় তার সন্তানেরা সৌদি প্রবাসী)।

পারিবারিক সুত্র জানান,মৃত হাজী আনোয়ার আলীর চেহলাম না করে তার সন্তানেরা ওই অর্থ দিয়ে পাকা ভবন করে দেন এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয় স্থানীয় মৌলভী সিরাজুল ইসলামকে। সেই সময় ছাত্র সংখ্যা ছিল ২’শ থেকে আড়াই’শ জন। শিক্ষক ছিল ৫ জন। শুরুর দিকে তালিমুল কোরআন হাফেজ ও এতিমখানাটি হাজী আনোয়ার আলীর জমি উপর প্রতিষ্ঠা করা হয়। তার সন্তান সরওয়ার আলমও পিতার প্রতিষ্ঠানকে বাচিয়ে রাখার জন্য জমি দান করেন। এর পরবর্তীতে স্থানীয় হাজী ইসলাম আহমেদ,মোহাম্মদ হোছন,সিরাজ আহম্মেদ প্রকাশ ছাবের আহম্মেদ, হাজী নুর আহম্মদ সহ বিভিন্ন ব্যক্তি জমি দান করেন। ২০০৩-০৪ সালে বনবিভাগের একটি বনায়নও দেয়া হয় হেফজখানা ও এতিমখানার নামে। তবে অনেক দাতার নাম গোপনও রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি শুরু দিকে অনেক ছাত্র ছিল। কিন্ত দিন যতই অতিবাহিত হচ্ছিল ততই দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা ব্যবস্থা অবনতির দিকে ধাবিত হয়। কমে যায় ছাত্র সংখ্যা। বর্তমানে শিক্ষক মাত্র ১জন।

অভিযোগ রয়েছে, হেফজ ও এতিমখানা কে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন মৌলভী সিরাজুল ইসলামসহ অন্যান্যরা। প্রতিষ্ঠাতা ও জমিদাতা পরিবারের কোন সদস্য কিংবা ওয়ারিশদেরকে পরিচালনা কমিটিতে না রেখে বা পরিচালনা কমিটি গঠন না করে মৌলভী সিরাজুল ইসলামেরা হেফজখানা ও এতিমখানার অর্থ নিজেরা ভাগ বাটোয়ারা করে আসছে।

হেফজখানা ও এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা মৃত হাজী আনোয়ার আলীর কনিষ্ট ছেলে জমি দাতা মো. সরওয়ার আলম বলেন, সিরাজ মৌলভীরা প্রতি বছর বাঁশকাটা হাফেজখানার বার্ষিক সভার নাম ভাঙ্গিয়ে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করে তারা নিজেরাই আত্মসাৎ করে আসছে। এই হাফেজখানার নাম ভাঙ্গিয়ে দেশ ও বিদেশ থেকেও টাকা সংগ্রহ করে নিজেরাই অর্থশালী হচ্ছে। কিন্তু হাফেজ খানার কোন প্রকার উন্নতিও হচ্ছে না। ধর্মীয় এই প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা,ভূমি দাতা ও তাদের ওয়ারিশগণকে কোন ভাবেই হেফজখানায় সম্পৃক্ত রাখছেন না। এমনকি প্রতিষ্ঠাতা ও দাতাদের অবদানও অনেকটা নিশ্চিহ্ন করে চলেছে।

হেফজখানায় সুষ্ঠু পরিচালনা,শৃংখলা ফিরিয়ে আনা, আয়-ব্যয়ের হিসাবে স্বচ্ছতা আনার জন্য উক্ত জমি দাতা ও তাদের ওয়ারিশগণ বার বার মৌলভী সিরাজুল ইসলামকে কমিটি গঠন করার তাগিদ দেওয়ার পরও তিনি কিছুই পরোয়া করছেন না। তিনি জোরপূর্বক তার আর্শিবাদপুষ্ট ও তার পছন্দের লোকজনকে নামমাত্র কমিটি দেখিয়ে, দাতা সদস্য ও প্রতিষ্ঠাতাদের কমিটিতে অন্তভুক্ত না করে উক্ত প্রতিষ্ঠানের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে যাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও কয়েকজন দাতা সদস্য জানান, মৌলভী সিরাজুল ইসলাম ইতোপূর্বে রামু ঈদগড়সহ বিভিন্ন হেফজ খানা ও এতিমখানার দায়িত্ব নিয়ে প্রতিষ্ঠানে অর্থ লুটপাট করায় নাজেহালও হয়েছেন। মৌলভী সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা লিখিত অভিযোগ গুলো বিভিন্ন সংস্থা তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।

এব্যাপারে অভিযুক্ত মৌলভী সিরাজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করার চেস্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

All rights reserved by © coxnewstoday
Desing & Developed BY MONTAKIM