কুতুবদিয়া প্রতিনিধি।।
কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ মাতবরপাড়া এলাকার রোজিনা আকতার নামে এক গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি ও ভ্রুণ হত্যার অভিযোগে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে আরো ৩/৪ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে কুতুবদিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- ৪।
এ ঘটনায় মামলার দুই নম্বর আসামী আবু নয়ন (২২) কে আটক করেছে পুলিশ। আটক আসামী ওই এলাকার আবুল বশরের ছেলে। মামলার অন্যান্য আসামীরা হলো একই এলাকার নুরুল আবছার, আজিজুল হক, মোঃ রমিজ, নুরুল ইসলাম, মোঃ জিয়াবুল, নুরুল বশর ও ছৈয়দ আলম।
হামলার শিকার ও মামলার বাদী রোজিনা আকতার (৩৬) কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ ইউনিয়নের মাতবর পাড়া এলাকার মোঃ বদিউল আলমের স্ত্রী।
থানায় দায়েরকৃত এজাহার সুত্রে জানা গেছে, ৩০ জুন দুপুরে বদিউল আলম মাতবর পাড়া জামে মসজিদ থেকে জুমার নামাজ আদায় করে বাড়ীতে আসার পথে বিবাদীরা শার্টের কলার চেপে ধরে এলোপাথাড়ি মারধর করে। তিনি আত্মরক্ষার্থে দৌঁড়ে বসতবাড়ীতে চলে আসলে তারা মারাত্মক অস্ত্রে-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বসতবাড়ীতে বেআইনী ভাবে দরজা ভেঙ্গে বসতঘরে প্রবেশ করে। তারা বসতঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাংচুর করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। এতে বাঁধা দিলে তার ৪ মাসের অন্তঃসত্তা স্ত্রীকে মারধর করে এবং শ্লীলতাহানি করে। তার তলপেটে উপর্যপুরি এলোপাথাড়ি লাথি মারে এবং গুরুতর জখম করে। জখমের ফলে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে আমার ৪ মাসের বাচ্চা নষ্ট হয়েছে। মারধরে ডানবাহুতে গুরুতর হাঁড়ভাঙ্গা জখমও হয়। এ ঘটনায়
মোঃ হানিফ (১২) নামে একজনকে
গুরুতর হাঁড়ভাঙ্গা জখম করে। তাদের শোরচিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। বিবাদীগণ লোহার রড, লোহার হাতুড়ি মারধর করে। এলাকাবাসী এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কুতুবদিয়া উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো.ইস্রাফিল জানান, মামলার রুজু হওয়ার পরপরই আসামীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে মামলার দুই নম্বর আসামী আবু নয়নকে আটক করা হয়েছে। উক্ত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
Leave a Reply