সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে বিজিবির স্থাপনা নির্মাণ ঘিরে জমি বিরোধের অভিযোগ  কক্সবাজারে আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে গুলি শালিকের জিএম মুজিবকে অপহরণ করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ সিবিআইইউ শিক্ষার্থী মুজিবকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ কক্সবাজার শহরে ২ জনকে ছুরিকাঘাত কুমিল্লায় মাছের গাড়ি ডাকাতির চেষ্টাকালে আটক-২, ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা টেকনাফে মুরগির খামার থেকে ৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার, খামারের মালিক পলাতক  সভাপতি রশিদের অত্যাচারে পিএমখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমানের মৃত্যু!  কোস্ট গার্ডের ড্রাইভার পরিচয়ে চাঁদাবাজি করছে ওমর ফারুক রামুতে পুলিশের অভিযানঃ ৩০ হাজার পিস ইয়াবাসহ জিয়া গ্রেফতার 
নাইক্ষ্যংছড়ি অফিসের পিয়ন যখন জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের বড়কর্তা! তার খুঁটির জোর কোথায়?

নাইক্ষ্যংছড়ি অফিসের পিয়ন যখন জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের বড়কর্তা! তার খুঁটির জোর কোথায়?

বিশেষ প্রতিবেদক।।
কক্সবাজার জেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের অফিস সহায়ক রুবেল কান্তিকে বিভিন্ন অভিযোগে শাস্তিমূলক বদলী করা হয় নাইক্ষংছড়ি উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসে। কিন্তু ফের কক্সবাজার জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের বড় কর্মকর্তা সেঁজে অফিস করছেন বলে দাবী করছেন অনেকে। ইতিপূর্বে কক্সবাজার জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে অফিস সহায়ক থাকাকালীন জেলা এলজিইডি অফিসের সাবেক হিসাবরক্ষক মোঃ হাবিব উল্লাহ কর্তৃক লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক কার্যালয় হতে সকল অভিযোগের তদন্ত করা হয়। সে সময় রুবেল কান্তি দে আইবাসের আইডি ব্যবহার করে কর্মকর্তা সেঁজে এলজিইডি অফিস, গনপূর্ত অফিস, বিআরটিএ অফিস, জেলা একাউন্টস অফিসসহ সকল অফিসের বিলের টোকেন এন্ট্রি, বিল পোস্টিং, চেক এন্ট্রিসহ তার নামে অনৈতিকভাবে নেওয়া আইবাসের আইডিতে করতেন। আইডি ব্যবহারের বিষয়টি সে সময় উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে দীর্ঘ দিন ধরে ব্যবহার করা আইবাসের আইডি হিসাব মহানিয়ন্ত্রক কার্যালয় কর্তৃক বন্ধ করে দেওয়া হয়। তার নামে আইডি বন্ধ করা হলেও থেমে নেই তার কার্যক্রম।
কর্মকর্তাদের চেয়ারে বসেই অফিস করছেন নিয়মিত। ভাব দেখেই মনে হয়, কক্সবাজার জেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের সাবেক অফিস সহায়ক রুবেল কান্তি দে এখন বড় কর্মকর্তা। তার দাপটে অন্যান্য অডিটর, জুনিয়র অডিটর ও অফিস সহায়করাও অসহায়। একই সাথে সিনিয়র কর্মকর্তারাও তার হাতে অনেকটা জিম্মি। তার কর্মস্থল নাইক্ষ্যংছড়িতেহলেও আরাম আয়েশে কাজ করছেন কক্সবাজার জেলা অফিসে-এমন অভিযোগ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকের।
সুত্রে জানা গেছে, হিসাব রক্ষণ অফিসে আইবাসের আইডি ব্যবহার খুব স্পর্শকাতর। এই আইডি অডিটর হতে উপরের কর্মকর্তারা ব্যবহার করতে পারেন। কেননা, সরকারি সকল টাকা এই আইডি ব্যবহার করে ছাড় করা হয় এবং জমাও করা হয়। একজন অফিস সহায়ক (পিয়ন) আইবাসের আইডি ব্যবহার করে এত অপকর্ম করায় তদন্ত কমিটির রিপোর্টে সব বিষয় পরিস্কার হলেও অদৃশ্য কারনে এখন পর্যন্ত তার কোন শাস্তি হয়নি। তবে রুবেল অফিস সহায়ক হলেও তার আইডি বন্ধ হওয়ায় তিনি এই স্পর্শকাতর আইবাসের অন্যজনের আইডি ব্যবহার করে চলেছে অফিসারের মত।
কক্সবাজার এলজিইডি অফিসের সাবেক হিসাব রক্ষক মোঃ হাবিব উল্লাহ হিসাব মহা-নিয়ন্ত্রক বরাবরে এক লিখিত অভিযোগে বলেন, এলজিইডি অফিসের বিল পাশ করার জন্য নিলুফার ইয়াছমিন রুমা অডিটরের নামে অফিস আদেশ করা থাকলেও সীটের যাবতীয় অডিটের কাজ অফিস সহায়ক রুবেল কান্তি দে’ সম্পাদন করে। অধিকাংশ একাউন্ট্যান্ট কিংবা ক্যাশ সরকারগণকে অডিটর নিলুফার ইয়াছমিন রুমার কাছে যেতে
দিতেন না। অফিস সহায়ক রুবেল কান্তি  সব সময় বলে তার আইডি অডিটরের আইডির চাইতেও শক্তিশালী। চাহিদামত টাকা দিলেও সে অনেক গুরুত্বপুর্ণ ডকুমেন্ট আটকে রাখে।
কক্সবাজারের অন্যতম ব্যবসা প্রতিষ্টান হোসেন ব্রাদার্স এর মালিক কর্তৃকও হিসাব মহানিয়ন্ত্রক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগে তিনি জানান, রুবেল কান্তি দে কক্সবাজার জেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের বড় অফিসার পরিচয় দিয়ে তার ব্যবসা প্রতিষ্টান হতে ৭১ হাজার ৯০৯ টাকার মালামাল এনে টাকা দিবে দিবে বলে দেয়নি। জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কাছে টাকা চাইতে আসলে তিনি রুবেলকে টাকা দিয়ে দিয়েছেন বলে রুবেলের কাছে চাইতে বলে। এরকম বহু অভিযোগ তার নামে থাকলেও অদৃশ্য কারনে তার শাস্তি হওয়ার পরিবর্তে উল্টো জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে কর্মকর্তার বেশে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
অফিস সহায়ক রুবেল কান্তি দে বলেন, আমি কোন সময়ই কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করিনি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে জুন ক্লোজিং এর জন্য কক্সবাজার অফিসে কাজ করছি। আইবাসের আইডি কোন সময় ব্যবহার করেনি বলে দাবী করেন তিনি।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা শফিউল্লাহ জানান, রুবেল কান্তি দে’র কর্মস্থল এই উপজেলায়। সম্ভবত জুন ক্লোজিং এর জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কক্সবাজারে কাজ করছে। তবে বিষয়টি আমার জানা নাই।
ডিএএফও কক্সবাজার (অঃ দাঃ) হাবিবুল হক বলেন, আমি অস্থায়ীভাবে কাজ করছি। রুবেল কান্তি দে এর কর্মস্থল কোথায় তা আমার জানা নেই। তার কর্মস্থল অন্য উপজেলায় হলেও বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভাল বলতে পারবে। তাকে অফিস সহায়ক হিসেবেই আমি জানি।
এদিকে, কক্সবাজার জেলা হিসাবরক্ষন অফিসে দুইজন অফিস সহায়ক ও একজন আউটসোর্সিং স্টাফ থাকার পরও জুন ক্লোজিং এর নাম দিয়ে আরেকজন অফিস সহায়ককে অফিসার সাঁজিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি অফিস হতে ভাড়া করে আনার কি দরকার তার সুদুত্তর কেউ দিতে পারেনি। তার বিরুদ্ধে পাহাড়সম অভিযোগ থাকার পরও এমনকি তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও কক্সবাজার জেলা একাউন্টস এন্ড ফিন্যান্স অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) হাবিবুল হক তাকে ৫ জুলাই জেলা অফিসে বিশেষ সম্মানী স্মারক প্রদান করায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কার ইশারায় বা কার হকুমে জেলা অফিসের বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত একজন সাবেক অফিস সহায়ককে বিশেষ সম্মানী স্মারক প্রদান করা হয়েছে, তা বের করতে সংশ্লিষ্ট উচ্চ মহলের হস্তক্ষেপ জরুরী বলে মনে করছেন অনেকে। প্রশ্ন উঠেছে, অফিস সহায়ক রুবেল কান্তি দে’র খুঁটির জোর কোথায়? চট্টগ্রামস্থ একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিশ্বস্থ লোক হিসেবে রুবেল কান্তি দে অনেকটা অপ্রতিরোধ্য বলে জানা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

All rights reserved by © coxnewstoday
Desing & Developed BY MONTAKIM