কক্সবাজার সদর উপজেলার হাজীপাড়া এলাকায় হতদরিদ্র কৃষকের গরু লুট করে গহীন পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে জবাই করে অর্ধেক মাংস বিক্রি করেছে এলাকার ত্রাস শাহিন ফেরদৌস প্রকাশ বকুল। বাকী অর্ধেক মাংস রান্না করার সময় খবর পেয়ে হানা দিয়েছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ।
অভিযুক্ত শাহিন ফেরদৌস প্রকাশ বকুল কক্সবাজার সদর উপজেলার উত্তর হাজী পাড়া এলাকার মৃত ইদ্রিসের ছেলে।
শুক্রবার (৭ জুলাই) দুপুরে সদর উপজেলার দক্ষিণ হাজীপাড়াস্থ গহীন পাহাড়ে বকুলের খামারবাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান-দক্ষিণ হাজী পাড়ার বাসিন্দা হতদরিদ্র কৃষক ছলিম উল্লাহর গরু জবাইয়ের বিষয়টি টের পায় স্থানীয়রা। বিষয়টি সদর মডেল থানা পুলিশকে খবর দিলে আশাতুলী ঘোনা এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মাংস রান্নার প্রস্তুতি চলছিল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসী বকুল ও তার বাহিনীর লোকজন পালিয়ে গেলেও জবাইকৃত গরুর মাংস জব্দ করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এসময় ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু রান্নার সরঞ্জাম জব্দ করে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, অস্ত্র, মাদক, ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণ, নারী নির্যাতন, বিস্ফোরক ও চুরিসহ অন্ততঃ অর্ধডজন মামলার আসামী দূর্ধর্ষ সন্ত্রাসী শাহিন ফেরদৌস প্রকাশ বকুল। তার অত্যাচারে অতিষ্ট এলাকার বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ। অস্ত্র, মাদক, ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণ, নারী নির্যাতন, জমি দখল তার নিত্য নৈম্যত্তিক কাজ। পাহাড়ের গহীন অরণ্যে আস্তানা তৈরী করে এসব অপরাধ কর্মকান্ড চালায় সে। তার রয়েছে ১৫-২০ জনের বিশাল গ্রুপ। তার এই সিন্ডিকেট দিন দুপুরে সাধারন মানুষের উপর জোর জুলুম চালালেও ভয়ে মুখ খোলার কেউ সাহস করেনা। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে অপহরন করে মুক্তিপন আদায় করার বিষয়টি এলাকায় ওপেন-সিক্রেট। তাই সাধারণ মানুষের উপর নির্যাতন চালালেও গুম-খুনের ভয়ে নিরবে সহ্য করে যায়।
স্থানীয়রা আরও জানান, বকুল ক্রসফায়ারের লিস্টযুক্ত আসামী ছিল। কোন এক অদৃশ্য শক্তির কারণে বকুল বারবার অপরাধ করে বেঁচে যায়। এমন কোন খারাপ কাজ নাই তিনি করেন না। সে পাহাড়ে তার আস্তানায় মানুষকে জিম্মি করে টাকা আদায়, মদ-জুয়া, ইয়াবা সেবন বাণিজ্য করেন বলে জানান তারা। সলিম উল্লাহ ও তার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে বকুল বাহিনী, ফলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা।
হতদরিদ্র কৃষক সলিম উল্লাহ বলেন, প্রতিদিনের ন্যায় সে তার গরুগুলো পাহাড়ে চরাতে নিয়ে যায়। সন্ধ্যা হলে পুনরায় গরুগুলো বাড়িতে নিয়ে আসেন। গত ৪ জুলাই সকালে আশাতুলী ঘোনার পাহাড়ী এলাকা তার গরুগুলো চরাতে দিয়ে বিকেলে আনতে গেলে তার একটি গরু নিখোঁজ হয়ে যায়। পাহাড়ে ও সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুজির পরও তার শেষ সম্বল গরুটি না পেয়ে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েন তিনি।
সলিম উল্লাহ বলেন, শুক্রবার (৭ জুলাই) সন্ত্রাসী শাহিন ফেরদৌস প্রকাশ বকুল তার আশাতুলী ঘোনায় পাহাড়ী এলাকার আস্তানায় গরুটি অটিকে রেখেছে, এমন খবর পেয়ে উক্ত ঘটনাস্থলে গিয়ে গরুটি খোঁজ করলেও ততক্ষনে গরুটি জবাই করে মাংস বিক্রি করছিল সন্ত্রাসী বকুল। গরুটির আনুমানিক মূল্য দেড় লক্ষ টাকার অধিক বলে জানান তিনি। এই বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক আসাদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ওসির নির্দেশে ঘটনাস্থলে পুলিশ যায়। মাংস ও রান্নার সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়েছে। যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। কোন অপরাধী রেহাই পাওয়ার সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।
এদিকে, ভুক্তভোগী সলিম উল্লাহ ও তার স্ত্রী তফুরা বেগম তাদের গরুর ক্ষতিপূরণসহ এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঠিক বিচার দাবি করেন।
Leave a Reply