সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ১০:২০ পূর্বাহ্ন
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন।।
কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তুলেন এক ভুক্তভোগী। এই বিষয়ে গত ১৯ জুন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও কক্সবাজার পুলিশ সুপারের কাছে প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ করেন ওই ভুক্তভোগী।
ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগকারী সাইফুল হক কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর ধূরং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মগলাল পাড়া গ্রামের মৃত হাজী আবদুল হকের ছেলে।
ভুক্তভোগী সাইফুল হক কুতুবদিয়া থানার ওসি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ তুলে গতকাল ২০ জুলাই তার বাড়িতে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের ডেকে নিয়ে ওসির বিরুদ্ধে ভিডিও বক্তব্যও দিয়েছেন।
অভিযোগকারী সাইফুল হক জানান, কুতুবদিয়ার ধূরং বাজারে চৌরাস্তার মোড়ে তার মালিকানাধীন ফলের দোকানেচলকি বছরের ১৯ এপ্রিল গভীর রাতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর ২০ এপ্রিল ছয়জনের নাম উল্লেখ করে আরো ১০-১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে কুতুবদিয়া থানায় এজাহার দায়ের করি। ঘটনার একদিন পর কুতুবদিয়া থানার ওসি মিজানুর রহমান সকাল ১১টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে আমার অভিযোগের সত্যতা পান।
পরবর্তীতে মামলায় ঝামেলা আছে দাবী করে মামলা রেকর্ড করতে ১ লাখ টাকা খরচ দাবি করেন। আমি প্রথমে ২০ হাজার টাকা ওসির হাতে দিই। পরবর্তীতে আরো ৩০ হাজার টাকা ওসির হাতে দেই। এত টাকা ঘুষ নেওয়ার পরও ছয়বার আমার এজাহার পরিবর্তন করেন এবং ডাকাতি মামলাকে সাধারণ চুরি মামলা হিসেবে রেকর্ড করেন।
তিনি আরও জানান, ওসি মিজান ও তার সহযোগী এসআই জিয়া উদ্দীন দক্ষিণ ধূরং ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল আজাদের পক্ষ নিয়ে আমাদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করেন। মামলার পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জিয়া উদ্দীন তদন্তের জন্য খরচের টাকা দাবী করেন। তাকেও ১২ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।
এদিকে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জিয়া উদ্দীন বর্তমানে কক্সবাজার মডেল থানায় কর্মরত রয়েছেন জানিয়ে বলেন, মামলাটি আমি হ্যান্ডওভার করে দিয়েছি। ওই মামলায় কোন ধরনের টাকা পয়সা নিয়েছি বাদী তা প্রমাণ করতে পারলে দ্বিগুণ টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
এ বিষয়ে কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি ৫০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, স্থানীয় কুচক্রী মহলের ইন্দনে সাইফুল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। তার দোকানে চুরি সংগঠিত হয়েছে। আমরা চুরির মামলা নিয়েছি। ডাকাতি মামলা না নেওয়ায় সাইফুল হক আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন বলেও ওসি দাবি করেছেন।
Leave a Reply