বিএনপি একটি দুর্নীতিগ্রস্ত দল। খালেদা-তারেক দুজনেই দুর্নীতিতে দন্ডপ্রাপ্ত আসামী। তাদের আমলে দেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়, দুর্নীতিতে বিশ্বে ৫ম স্থান দখল করছিল। যতই ষড়যন্ত্র হোক, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকবে। বিদেশী প্রভুদের কথায় বাংলাদেশ চলে না। আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক কক্সবাজার জেলা শাখার ত্রিবার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি এসব কথা বলেন।
শুক্রবার (২৮ জুলাই) বিকাল ৩ টায় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক মো: রহিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে কক্সবাজার মুক্তিযোদ্ধা মাঠে (গোল চত্বর মাঠ) সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথি আল মাহমুদ স্বপন বলেন, বিএনপি বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে লবিষ্ট নিয়োগ করছে। এসব লবিষ্টরা অনেক ক্ষেত্রে কুটনৈতিক শিষ্টাচার লংঘন করছে। একটি দলের হয়ে কাজ করার চেষ্টা করছে। ১৯৭১ সালেও এর চেয়ে বেশি ষড়যন্ত্র হয়েছিল তারপরও আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। এখনো বিদেশি প্রভুদের সহায়তায় বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায় বিএনপি জামায়াত। বাংলাদেশের মানুষকে সাথে নিয়ে শেখ হাসিনা এই ষড়যন্ত্র রুখে দিবে। শেখ হাসিনা যতদিন বেঁচে আছে, বাংলাদেশ তার আপন কক্ষপথে চলবে। সম্মেলনে প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কোন চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, দখলবাজ, ইয়াবা ব্যবসায়ীকে সভাপতি-সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হবে না।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন বলেন-একটি পক্ষ বারবার নির্বাচন বানচাল করতে চায়। আমরা জনগণের রায়ে সরকার গঠন করতে চাই। বাংলাদেশের মানুষ তাদেরকে আর ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে না। তারা ক্ষমতায় থাকাকালীন বাংলাদেশ বার বার দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান করেছিল। তারা যখন ক্ষমতায় ছিল বিদ্যুতের দাবীতে মিছিল করা মানুষকে হত্যা করেছিল। সারের দাবীতে মিছিল করা কৃষককে হত্যা করেছিল। তারা বাংলাদেশকে একটি জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এড. সিরাজুল মোস্তফা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদ সদস্য মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এড. ফরিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী।
বিশেষ বক্তার বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি ড. জমির উদ্দিন সিকদার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একেএম আজিম, সাংগঠনিক সম্পাদক নাফিউল করিম নাফা, পানি সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক রাহুল বড়ুয়া, সদস্য মসিউর রহমান, জাবেদুল আজম মাসুদ, বোখারী আজম ও জাতীয় পরিষদের সদস্য এড. সোহেল রানা মনির।

এদিকে, কক্সবাজার জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আওতাধীন বিভিন্ন উপজেলা থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সম্মেলনে যোগদান করে। এছাড়াও কায়সারুল হক জুয়েল, একরামুল হুদা, রুস্তম আলী চৌধুরী, কাজী রাসেল আহমদ, হামিদ হোসাইন ফয়সাল, মোরশেদ হোসাইন তানিম, ফাহাদ আলী, হাসান ইকবাল রিপন, ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী, নুর আল হেলাল, আলী আহমদ, জয়নাল আবেদীন, আবদুর রহমান নেতৃত্বে মিছিল নিয়ে সম্মেলনে যোগদান করে।
কাউন্সিল অধিবেশনে ১১ জন সভাপতি পদে প্রার্থীতা ঘোষণা করেন। তারা হলেন- এড একরামুল হুদা, আবদুর রহমান, মো বখতিয়ার আলম, জয়নাল আবেদীন, রুস্তম আলী চৌধুরী, ড.আশরাফুল ইসলাম, আবুল হোসেন, আহমদ উল্লাহ, মো. আজিজ, মো. রহিম উদ্দিন ও
সাধারণ সম্পাদক পদে ২১ জন প্রার্থীতা ঘোষণা করেন। তারা হলেন- নুর আল হেলাল, এম ওসমান সরওয়ার আলম, আলী আহমদ, মোরশেদ হোসাইন তানিম, কুতুব রানা, মো.আনসার সিকদার, হাজী জসিম উদ্দিন সিদ্দিকী, ফাহাদ আলী, সরওয়ার আলম, মোহাম্মদ আলী মুন্না, শহিদুল আলম টিপু, রুপায়ন বড়ুয়া, মাসুদ আলী শাকিল, রাসেল উদ্দিন সুজন, আবদুল হামিদ ফয়সাল, ওয়াহিদ রুবেল, কাজী রাসেল আহমদ, শওকত ইকবাল মুরাদ, জিহান চৌধুরী, নুর মোহাম্মদ শেখর ও মো রাসেল চৌধুরী প্রমুখ।
কাউন্সিল অধিবেশনে নির্ধারিত সময়ে সমঝোতার মাধ্যমে একক প্রার্থী না হওয়ায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা না করে অধিবেশন শেষ করা হয়। তবে কেন্দ্র থেকে যাচাই-বাছাই করে সভাপতি -সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা হবেন বলে জানান কাউন্সিল অধিবেশনের সভাপতি ও আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি ড.জমির উদ্দিন সিকদার। প্রথম অধিবেশনের সম্মেলনও তিনি উদ্বোধক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
অন্যদিকে, দীর্ঘ ১৪ বছর পর কক্সবাজার জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন ও কাউন্সিল নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘ ১৪ বছর পর কক্সবাজার জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে নতুন নেতৃত্বে কারা আসছে এ নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। তবে সভাপতি পদে সাবেক সহ-সভাপতি এড.একরামুল হুদা, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রুস্তম আলী চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক পদে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আলী আহমদ, সাবেক জেলা সদস্য কাজী রাসেল আহমদ নোবেল, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ হোসাইন তানিম, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবদুল হামিদ ফয়সালের নাম ব্যাপকভাবে আলোচনায় রয়েছে।
রাত ১০ টার দিকে কাউন্সিল অধিবেশন শেষ হয়েছে। এর আগে প্রথম অধিবেশন সঞ্চালনায় ছিলেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব এড. একরামুল হুদা।
Leave a Reply