কক্সবাজার শহরের আইবিপিরোড়ে অবৈধ মালামাল ভর্তি ডাম্পার নিয়ে রহস্য যেন কাটছেই না। অবৈধ সিন্ডিকেটের মুল হোতা তারেক-কাজল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী লোকজন। অবৈধ ব্যবসার মুলহোতা তারেক-কাজল সিন্ডিকেট নিয়ে চলছে নানা কানাঘুষা। নাটকীয় ডাম্পারের চালক ও সহযোগীদের আটক করে রিমান্ডে নিলে মুল রহস্য বের হবে বলে ধারণা করেন আইবিপি রোড এলাকাবাসী।
শনিবার (২৯ জুলাই) বিকাল ৪ টার দিকে রহস্যঘেরা ডাম্পারটি জব্দ করেন কয়েকজন স্থানীয় যুবক। তাদের দাবী ডাম্পারটিতে অবৈধ মালামাল আছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, প্রতিদিন ডাম্পার আসে আইবিপি রোডে দাঁড়ায়। ডাম্পার আসলে কয়েকজন যুবক পাহারা দিয়ে ডাম্পারের উপর থেকে বালি নামায়। তারপর দ্রুত সটকে পড়ে। এমন খবরে আগে থেকেই কয়েকজন যুবক রহস্যঘেরা ডাম্পার আসার অপেক্ষা থাকে। বরাবরের মতো ডাম্পার পৌঁছলে যুবকরা তা ঘিরে ফেলে। এতে স্থানীয় লোকজনও জড়ো হয়। দুপক্ষের বাড়াবাড়িতে আইবিপি রোডে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়দের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয় ডাম্পার চালক ও ৫ জন সহযোগী। গাড়িতে উঠে দেখে বালিভর্তি। পরে কিছু বালি নামালে দেখে তেরপালের নীচে শুকনো সুপারী। তাদের দাবী ওই গাড়িতে সুপারীর নিচে মাদকজাতীয় কিছু আছে। বাড়াবাড়ি একপর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এমন সময়ে সটকে পড়ে মালামাল ভর্তি ডাম্পারটি। বিষয়টি কয়েকজন যুবক ভিডিও ধারণ করে। এমনকি কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি রফিকুল ইসলামকে জানালেও তিনি পুলিশের ফোর্স পাঠানোর কথা বলে। ঘন্টা পার হলেও পুলিশ না আসার রহস্যঘেরা ডাম্পারটি উদ্ধার করতে আসে মালিক তারেক। সে আইবিপি রোডের মদিনা স্টোরের মালিক।
ডাম্পার ভর্তি মালামালের মালিক নিজেকে টেকপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে জানায়, মালামালগুলো টেকনাফ ৩৪ বিজিবি থেকে অকশনে ক্রয় করা। অবৈধ নয়, বৈধ কাগজপত্র আছে। তবে সে কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। টেকপাড়ার প্রভাব দেখাতে চাইলে স্থানীয় যুবকরা তাকে মারধর করে। তার ভাই তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসলে, তারা তাকেও মারধর করে। এতে দু’পক্ষের মারামারিতে বিঞ্চু রেস্তোরাঁ নামে একটি
দোকানও ভাংচুর হয়। এসময় ডাম্পার ও মালামালের মালিকপক্ষ আহত একজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। দুই পক্ষের মধ্যে চলে টানটান উত্তেজনা। পরে দুই পক্ষের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আপোষ-মীমাংসা হয়।
এদিকে স্থানীয়দের দাবী, অবৈধ মালামাল না হলে পলিথিনের উপর বালির স্তর দিয়ে মালামাল ঢাকানো কেনো? বৈধ হলে এভাবে বালি দিয়ে মালামাল আনতে হবে কেনো? নিশ্চয়ই ডাম্পারে মালামাল ভর্তি ডাম্পারটি উপরে বালি দিয়ে ঢাকানো কেনো? স্থানীয় যুবকরা গাড়িটি জব্দ করলে ওই মন্দিরর জন্য মালামাল আনছে বলে দাবী করেন ডাম্পার চালক। পরে জনদাবীর মুখে ডাম্পার থেকে উপরের বালিগুলো নামালে দেখা যায় সুপারি ভর্তি ওই ডাম্পারটি। পুলিশ আসার খবরে দু’পক্ষের লোকজন পালিয়ে যায়। একই সাথে উধাও হয় অবৈধ মালামাল ভর্তি ডাম্পারটি। সাধারণ মানুষের ধারণা, অবৈধ মালামাল না থাকলে ডাম্পারটি পালিয়ে গেলো কেনো?
৩৪ বিজিবির বিক্রি করা মালামাল হয়ে এত রহস্য কেনো ডাম্পার নিয়ে। ওই ডাম্পারের চালক ও হেলপারদের আটক করলে তারেক-কাজল সিন্ডিকেটের ব্যবসা কি তা জনসম্মুখে উন্মোচন হবে বলে দাবী করেন স্থানীয়রা।
ডাম্পারের অবৈধ মালামাল আছে কি না জানতে চাইলে তারেক-কাজল জানায়, তারা দীর্ঘ দিন শেয়ারে ব্যবসা করেন। বিজিবি ৎেকে মালামাল কেনেন। ২৯ জুলাই কোন মালামাল বিজিবি বিক্রি করছে কি না, তাও খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্থানীয় যুবকরা। বৈধ মালামাল হলে বালি ঢেকে দিয়ে আনতে হবে কেনো? এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, চেকপোস্টে বালিভর্তি দেখলে টাকা দিতে হয়না। তাই কৌশল করে মালামালের উপর তেরপাল দিয়ে তার উপর বালির ঢাকনা দিলে প্রশাসনকে ফাঁকি দেওয়া যায়। ডাম্পারটি মন্দিরের মালামাল আনছে এমন দাবী করায় এই তুঘলকি কান্ড বলে দাবী করেন স্থানীয় যুবকরা। রহস্যঘেরা ডাম্পারটি নজরে আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এলাকাবাসী।
Leave a Reply