সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন
বিশেষ প্রতিবেদক।।
কলাতলী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫শ ছাত্র-ছাত্রী শালিক রেস্তোরাঁর মালিক পুত্র আরিফ খানের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। তাকে আটক করে আইনের আওতায় আনতে সারাদিন ক্লাস বর্জন ও বিক্ষোভ করেছে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। ৪৮ ঘন্টায় তাকে
আটক করবে বলে পুলিশ আশ্বস্ত করলে ছাত্র-ছাত্রীরা বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে নেন।
শিক্ষার্থীরা জানায়, কলাতলীর শালিক রেস্তোরাঁর মালিক নাসির উদ্দিন বাচ্চুর ৪র্থ স্ত্রীর ছেলে আরিফ খান। প্রতিদিন স্কুল চলাকালীন শিক্ষার্থীদের উত্যক্ত করে আরিফ খান। আজ দুপুরে টিফিনের সময় দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর গায়ে মোটর-সাইকেল তুলে দেয়। এই ঘটনায় দশম শ্রেণির কয়েকজন ছাত্র প্রতিবাদ করলে তাদেরও মারধর করে। পরে ঘটনা জানাজানি হলে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ক্লাস বর্জন করে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা সরকারী পরিশেবা ৯৯৯ এ কল দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। পুলিশ নাসিরের বাড়ী ও শালিক রেস্তোরাঁয় বখাটে আরিফ খানকে আটক করতে অভিযান চালায়। পরে তাকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে আটকের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে প্রত্যাহার করে।
তারা আরও জানায়, বাবার অবৈধ টাকার প্রভাবে সে দেশের প্রচলিত আইনকে তোয়াক্কা করে না। ইতোপূর্বে প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক এবং কয়েকজন ছাত্রছাত্রীর গায়েও হাত তুলে আরিফ খান। বারবার একই রকম ঘটনা করার কারণে তাকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এতে আরো ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিদিন কোন না কোন ঘটনা ঘটায় অভিযুক্ত আরিফ খান। তার হাতে নিগৃহীত হওয়ার ভয়ে অভিভাবকগণও তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলেনা। এক রকম অসহায় হয়ে পড়েছে দাবী করেন তারা। তাই জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন বিক্ষুব্ধ শির্ক্ষার্থীরা। স্কুল ঘেঁষে তার বাড়ী ও শালিক রেস্তোরাঁ হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের একই রাস্তা ব্যবহার করতে হয় বলে শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে দাবী করেন।
বিদ্যালয়ের অভিভাবক সভাপতি ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য সুলতান আহমদ জানায়, শালিক রেস্তোরাঁর মালিকের ছেলে বখাটে আরিফ খান বারবার এরকম ঘটনা ঘটাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের দাবীর সাথে একমত পোষণ করে তাকে আইনের আওতায় আনার দাবী জানান তিনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুফিজুর রহমান জানান, বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের প্রতিদিন উত্যক্ত করে শালিক রেস্তোরাঁর মালিক নাসিরের ছেলে আরিফ খান।
প্রতিদিন স্কুল চলাকালীন রাস্তায় মোটরসাইকেল চালিয়ে শিক্ষার্থীদের গায়ে লাগিয়ে দেন। অনেক অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। আজও একই ঘটনা ঘটিয়েছে। এরকম ঘটনা করায় আগেও তাকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। বেপরোয়া জীবন যাপন করে এই ছেলেটি। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাকারিয়া মহোদয়ের সাথে পরিচালনা কমিটিসহ দেখা করার কথা রয়েছে।
কক্সবাজার পৌরসভার ১২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এমএ মঞ্জুর জানান, ঘটনা শুনে প্রধান শিক্ষক ও অভিভাবকদের ফোন পেয়ে বিদ্যালয়ে গিয়েছি। ভুক্তভোগী ও বিক্ষোভরত ছাত্রছাত্রীদের সাথে কথা বলেছি। ঘটনা শুনে হতবাক হয়েছি, অনেক ঘটনা। শালিক রেস্তোরাঁর মালিক নাসিরের ছেলে আরিফ খান এত সাহস কেমনে দেখায়। হয়ত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ দেরী করে ফেলেছে। তাকে আটক করে আইনের আওতায় আনতে তিনিও জোর দাবী জানায়।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এড. মমতাজ উদ্দিন জানান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সাথে দেখা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাকারিয়া জানান, প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশ আরিফ খান নামক ইভটিজারকে ধরতে কয়েকটি জায়গায় অভিযান চালিয়েছে। তাকে ধরতে অভিযান অব্যহত আছে বলে সদর মডেল থানার ওসির বরাত দিয়ে ইউএনও নিশ্চিত করেন।
Leave a Reply