সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ০৬:৪৮ পূর্বাহ্ন
বিশেষ প্রতিবেদক।।
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের গুলজার বেগম দাখিল মাদ্রাসা থেকে বিভিন্ন বছরে সরকারের দেওয়া বিনামূল্যে বিতরণের জন্য প্রদান করা প্রায় ৩ টন বই গোপনে বিক্রি পূর্বক পাচারের সময় স্থানীয় জনতার হাতে নাতে ধরা পড়েছে মাদ্রাসার দুই কর্মচারী। তারা হলেন নৈশ প্রহরী শামসুল আলম, দপ্তরি বাদশা।
২৯ সেপ্টেম্বর (জুমাবার) এ ঘটনাটি ঘটে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ জাকারিয়া। এ সময় প্রায় ৩ টন বই পুস্তক জব্দ করেন তিনি। ঘটনায় জড়িত দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তারা বলেন, এবতেদিয়া শাখার শিক্ষক নুরুল আবছারের নির্দেশনায় তারা বইগুলো গাড়িতে তুলছিলেন।
সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসার সুপার আনিস মোহাম্মদ আবদুল্লাহর যোগসাজশে মাদ্রাসার কয়েকজন কর্মচারী, শিক্ষক মিলে প্রতি বছর বিনামূল্যে বিতরণের জন্য পাঠানো সরকারি বই পুস্তক গুলো বিক্রি করেছে।
অভিভাবকরা জানান, সুপার আনিস মোহাম্মদ আবদুল্লাহ একজন লোভী শিক্ষক, ছাত্র -ছাত্রীদের জন্য বরাদ্দকৃত বইগুলো বিতরণ না করে মজুদ করে গোপনে বিক্রি করে আসছিল। তারই ধারাবাহিকতায় এদিন কর্মচারী দিয়ে বইগুলো বিক্রি করে দেয়। পরবর্তীতে কন্টেইনারবাহী গাড়ী যোগে পাচারের সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে ইউএনওকে খবর দেওয়া হয়।
ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ জাকারিয়া বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয় এবং পাচারের সময় বিভিন্ন বিষয়ের বই জব্দ করে সীলগালা করে রাখা হয়েছে। সংগঠিত ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে কালো টাকার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে সুপার আনিস মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। স্থানীয় জনগণ এবং অভিভাবকরা এই মাদ্রাসার সুপারসহ বই পুস্তক বিক্রি করে দেওয়া সবার দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবি করেন।
এই বিষয়ে জানতে সুপার আনিস মোহাম্মদ আবদুল্লাহর মুঠোফোনে কয়েকবার কল করা হলেও রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
Leave a Reply