বিশেষ প্রতিবেদক।।
কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনে কয়েকটি পর্যটকবাহী জাহাজের টিকেট জালিয়াতীর ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার জড়িত থাকার অভিযোগে জাল চক্রের তিনজনের বিরুদ্ধে কর্ণফুলি ক্রুজ লাইনের প্রধান টিকেট বিপনন কর্মকর্তা বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা করেন। যার মামলা নং ১০/ ১৫৮। মামলার আসামীরা হলো- ননী শর্মার ছেলে কাজল শর্মা, সাইফুল ইসলাম ও মোঃ নাজমুস সাকিব।
সুত্রে জানা গেছে, এম.ভি কর্ণফুলি এক্সপ্রেস ও এম.ভি বার আউলিয়া ট্যুরিস্ট জাহাজ উখিয়া ইনানী ঘাট হতে সেন্টমার্টিনে যাতায়াত শুরু করলে পর্যটক বেশি হওয়ায় একটি জাল জালিয়াতি চক্র টিকেট জাল করে বিক্রি শুরু করে। জাহাজ কর্তৃপক্ষ উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করলো প্রতিদিনই জাহাজ দুটিতে চেপে বসেছে শতশত যাত্রী। তাদের হাতে টিকেট আছে। কর্ণফুলী ক্রুজ লাইন কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে তাদের প্রধান টিকেট বিপনন কর্মকর্তা সোহরাব উদ্দিন রাসেলকে কৈফিয়ত তলব করলে তিনি জাহাজের টিকেটগুলো চেক করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এতে গত ২৯ ফেব্রুয়ারী বিকেলে সেন্টমার্টিন জেটিতে টিকেট চেক করা হয়। এসময় দেখা গেলো যাত্রীদের হাতে অসংখ্য জাল টিকেট। এরপর বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে জানা গেলো কাজল শর্মা, সাইফুল ইসলাম ও সাকিব পারস্পরিক যোগসাজশে এ জাল টিকিটগুলো তৈরি করে যাত্রীদের কাছে বিক্রি করে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার বাণিজ্য করেছে। জালকৃত টিকেটগুলো কাজল শর্মা ট্রাভেলস লিংক নামক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পর্যটকদের কাছে বিক্রি করতো সাইফুল এবং সাকিব এমনটি বের হয়ে আসে।
মামলার বাদী প্রধান বিপনন কর্মকর্তা সোহরাব উদ্দিন রাসেল বলেন, জালিয়াতি চক্রের সাথে জড়িত সদস্যরা কর্ণফুলি জাহাজের নির্দিষ্ট আসনের বাইরে টিকেট বিক্রয় না করেও আসামীদের জালিয়াতির কারণে জাহাজে নানা অবাঞ্ছিত সমস্যার সম্মুখীন হয়। এমনকি জরিমানারও সম্মুখীন হয়। যা মালিক কর্তৃপক্ষের কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত। আসামীদের এ জালিয়াতির কারণে কোম্পানির আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সুনামও ক্ষুন্ন হয় এবং ব্যবসায়ীকভাবে মারাত্মক ক্ষতিসাধিত হয়। আসামীগণ পরস্পর যোগসাজশে ট্রাভেলস এজেন্ট খুলে আমি ও আমার কর্তৃপক্ষের নিকট বিশ্বাস জমিয়ে এই জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে এ জঘন্য প্রতারণার ঘটনা সংগঠিত করেছে। তিনি জড়িতদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি কামনা করেছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কক্সবাজার সদর থানার পরিদর্শক এসএম শাকিল হাসান বলেন, জালিয়াতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রকিবুজ্জামান বলেন, সেন্টমার্টিনগামী কর্ণফুলী ও এম.ভি বার আউলিয়া জাহাজের টিকেট জালিয়াতির সাথে জড়িত ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে। জড়িত আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply