সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ০১:৩০ অপরাহ্ন

শিরোনাম
টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে বিজিবির স্থাপনা নির্মাণ ঘিরে জমি বিরোধের অভিযোগ  কক্সবাজারে আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে গুলি শালিকের জিএম মুজিবকে অপহরণ করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ সিবিআইইউ শিক্ষার্থী মুজিবকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ কক্সবাজার শহরে ২ জনকে ছুরিকাঘাত কুমিল্লায় মাছের গাড়ি ডাকাতির চেষ্টাকালে আটক-২, ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা টেকনাফে মুরগির খামার থেকে ৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার, খামারের মালিক পলাতক  সভাপতি রশিদের অত্যাচারে পিএমখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমানের মৃত্যু!  কোস্ট গার্ডের ড্রাইভার পরিচয়ে চাঁদাবাজি করছে ওমর ফারুক রামুতে পুলিশের অভিযানঃ ৩০ হাজার পিস ইয়াবাসহ জিয়া গ্রেফতার 
ইউনিয়ন হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় ডেলিভারি রোগী জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে, রোগীর স্বামীর সংবাদ সম্মেলন

ইউনিয়ন হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় ডেলিভারি রোগী জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে, রোগীর স্বামীর সংবাদ সম্মেলন

বিশেষ প্রতিবেদক।
কক্সবাজার শহরের ইউনিয়ন হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার শিকার আফসানা হোসেন শীলা নামে এক রোগীর স্বামী কসাই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে।
ডেলিভারি রোগী আফসানা হোসেন শীলা শহরের ২নং ওয়ার্ডের নুনিয়ারছড়ার মোহাম্মদ হোসেনের কণ্যা ও মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া এলাকার ইফতেখার উদ্দিন তার স্বামী।
স্বামী ইফতেখার মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) রাত ১টার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আই.সি.ইউ এর সামনে সংবাদ সম্মেলন করে গণমাধ্যমকে বলেন, আমার স্ত্রীর হালকা পেট ব্যথা অনুভব হলে ডাঃ নীনা জিহানের রেফারেন্সে ২১ এপ্রিল রাত সাড়ে ১১টার দিকে ইউনিয়ন হাসপাতালে নিয়ে আসি। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ শাহেদ রাতেই আমার স্ত্রীকে ভর্তি করাতে বলেন। আমরা তার কথা মতো স্ত্রীকে ভর্তির ব্যবস্থা করি। ভর্তির অল্প কিছুক্ষণ পর একটি ইনজেকশন পুশ করা হয়। ইনজেকশনটি পুশ করার কিছুক্ষণ পরেই আমার স্ত্রীর প্রচন্ড ব্যথা শুরু হয়। ২২ এপ্রিল রাত ২টার সময় ডাক্তার আমার স্ত্রীকে ডেলিভারির জন্য রক্তের ব্যবস্থা করতে বলেন। তখন এক ব্যাগ রক্ত চালানোর পর একটি স্যালাইন পুশ করা হয়। পরবর্তীতে রাত সোয়া ৩টার দিকে ডাক্তার শাহেদ দুজন নার্স (হিমু এবং সোমা) নিয়ে আমার স্ত্রীকে ডেলিভারি করানোর জন্য অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান। ডেলিভারিতে আমার স্ত্রী একটি কণ্যা সন্তানের জন্ম দেন। পরবর্তীতে তারা জানান আমার স্ত্রীর ব্লেডিং বন্ধ করা যাচ্ছে না। তখন এ পর্যন্ত ২২ ব্যাগ রক্ত দেয়া হয়েছে। কোনো মতেই রক্ত ক্ষরণ বন্ধ হচ্ছে না। উল্টো রোগির অবস্থা বেগতিক দেখে ইউনিয়ন হাসপাতাল থেকে বিষয়টি অবগত করা হয় ডাক্তার নীনা জিহানকে। তিনি বলেন আমি সদর হাসপাতালের ডিউটিতে আছি, রোগীকে সদর হাসপাতালে পাঠাই দেন। আমার স্ত্রীকে সদর হাসপাতালে আনার পর তিনি আই.সি.ইউ তে প্রেরণ করেন। বর্তমানে আমার স্ত্রী জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। আই.সি.ইউ তে এখন আমার স্ত্রী বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে সেই খবরটি পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দিচ্ছে না!
আফসানার পিতা মোহাম্মদ হোসেন জানান, ইউনিয়ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভুল চিকিৎসা করে আমার মেয়েকে মৃত্যুমুখে ঠেলে দিয়েছে। আমার মেয়ের কিছু হলে তার দায় ইউনিয়ন হাসপাতালকে নিতে হবে। এমন কসাই ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা না করানোর জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, আফসানার ডেলিভারির তারিখ ছিলো ৬ মে। আগাম ডেলিভারি করাতে গিয়েই এই দূর্ঘটনা করেছেন ইউনিয়ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এর আগেও এই হাসপাতালে অপারেশনের সময় রোগির পেটে কাঁচি রেখে সেলাই দেয়া হয়।
ইউনিয়ন হাসপাতালের চেয়ারম্যান ইশতিয়াক আহমদ জয় বলেন, রোগীর চিকিৎসায় কোন ধরনের অবহেলা ঘটলে ডাক্তার ও নার্স সহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে রোগীর স্বজনদের পরামর্শ দেন। এ ব্যাপারে কোন ধরনের হস্তক্ষেপ করবেন না বলেও জানান তিনি।
এদিকে, ইউনিয়ন হাসপাতালে অভিযুক্ত ডাক্তার ও নার্সদের বক্তব্য নিতে গেলে এবং হাসপাতালের ছবি ধারণ করতে গেলে হাসপাতালের দায়িত্বরত আনোয়ারের নেতৃত্বে আবদুল্লাহ সহ কয়কজন মিলে সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করার অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে, নিয়ম না মেনে হাসপাতাল পরিচালনা করছে ইউনিয়ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বাসা-বাড়ির আদলে করা আবাসিক ভবণে হাসপাতাল করে রাখা হয়নি পাকিং। তাছাড়া অতিরিক্ত টাকা আদায়ের পাশাপাশি নানা অনিয়মে চলছে হাসপাতালটিতে। চলতি বছরে হাসপাতালে পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর চোখে বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ে। তখন এই হাসপাতালের ছয়টি ইউনিট বন্ধ করে সিলগালা করে দেয়া হয়।
এছাড়াও, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিয়মের তোয়াক্কা করেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এনিয়ে কউক একাধিকবার নোটিশ দিলেও আমলে নিচ্ছে না মালিক পক্ষ এমন অভিযোগ বরাবরের মতো।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

All rights reserved by © coxnewstoday
Desing & Developed BY MONTAKIM