বিশেষ প্রতিবেদক।।
কক্সবাজার শহরের এক সময়ের আতংক
ডজনাধিক মামলার পলাতক আসামি তারেক বাহিনীর প্রধান তারেক ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সন্ত্রাসী তারেক তার সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে শহরের দক্ষিণ রুমালিয়ার ছরা, সমিতিবাজার, সিকদার বাজার ও পল্লানকাটা এলাকায় সশস্ত্র মহড়া চালিয়ে ফাঁকা গুলি বর্ষণ করেছে। এতে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাকে আটক করে আইনের আওতায় আনার দাবী জানান এলাকাবাসী।
চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী মো তারেক শহরের ৬নং ওয়ার্ডের সাহিত্যিকা পল্লী বড়বিল এলাকার আবদুল মাবুদ প্রকাশ মাবুদ সরকারের ছেলে বলে জানা গেছে।
সুত্রে জানা গেছে, শনিবার ২১ (সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ৯ টার দিকে দক্ষিণ রুমালিয়ার ছরা, সমিতিবাজার এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী কয়েকটি হত্যা মামলা সহ ডজনাধিক মামলার পলাতক আসামি মো তারেক মুন্না তার গ্রুপের ২০-৩০ জন সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে দক্ষিণ রুমালিয়ার ছরা সমিতি বাজার সিকদার বাজার, মাটিয়াতলী ও পল্লান কাটা এলাকায় সশস্ত্র মহড়া দেয় এবং কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে নিজেদের অবস্থান জানান দেয়।
এছাড়া, রবিবার (২২সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টার দিকে শহরের দক্ষিণ রুমালিয়ারছরা সমিতিবাজার এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী, হত্যা মামলা সহ ডজনাধিক মামলার পলাতক আসামি মো. তারেক তার সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে দক্ষিণ রুমালিয়ার ছরায় মহড়া দেয়। এরপর বাহিনী নিয়ে দক্ষিণ পল্লানকাটা এলাকায় আতিক উদ্দিন চৌধুরীর নিজস্ব জায়গায় গিয়ে ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে এলাকায় আতংক সৃষ্টি করে। তারা আতিক উদ্দিন চৌধুরীর জায়গার সীমানা পিলার ভাঙচুর করে এবং কেয়ারটেকারকে অস্ত্র ঠেকিয়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয় এবং ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। এই তারেক বাহিনী এই ঘটনার দুইদিন আগেও কক্সবাজার পুলিশ লাইনের পেছনে ফাহাদ নামে এক ব্যক্তির ডেইরি ফার্মে হামলা করে গরুসহ মূল্যবান সরঞ্জাম ডাকাতি করে নিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
সুত্রে আরও জানা গেছে, বিগত সরকারের আমলে জমি দখল, চাঁদাবাজি, ছিনতাই থেকে শুরু করে এমন কোন অপরাধ ছিলনা সে করেনি। সে সিকদার বাজার এলাকার ডাবল মার্ডার থেকে শুরু করে নানা অপরাধের সাথে জড়িত ছিল।
বর্তমানে সে এলাকায় অবস্থান করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করলেও তাকে গ্রেফতার না করলে এলাকার আইন-শৃংখলার অবনতির আশংকা করছে এলাকাবাসী।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকাবাসী জানান, রবিবার সকালে সমিতিবাজার এলাকার মাবুদ সরকারের ছেলে তারেক বাহিনীর প্রধান তারেকের নেতৃত্বে পাহাড়তলী এলাকার মোস্তফা, সমিতি বাজার এলাকার মৃত পুদিনার ছেলে রানা, আমতলী সিকদার বাজার এলাকার মৃত বাচ্চুর ছেলে সন্ত্রাসী সাদ্দামের ভাই জসিম সহ ২০-৩০ জনের একটি গ্রুপ পল্লানকাটা এলাকায় আতিক উদ্দিন চৌধুরীর জায়গায় সীমানা প্রাচীর ভাংচুর করে, ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে। গ্রুপের সকলের হাতে রাইফেল, একনলা বন্দুক, পিস্তল ও কিরিচসহ দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র দেখা গেছে। তার বাহিনীর অত্যাচারের ভয়ে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলছে না। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা সহ ৮-১০টি চুরি-ডাকাতির মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তারেক বাহিনীর বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সম্পর্কে এলাকায় তদন্ত চালালে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার নবাগত ওসি ফয়জুল আজিম নোমান জানান, শহরে কোন সন্ত্রাসী বাহিনীর অস্তিত্ব থাকবে না। শহরের ৬নং ওয়ার্ডের পল্লানকাটা এলাকায় সন্ত্রাসী তারেক নামে একজন অপরাধী বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে খবর পেয়েছি। এলাকাবাসীর খবরে সংঘটিত ঘটনায় পুলিশের টহলটীম পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলছে, ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply