সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন
বিশেষ প্রতিবেদক।।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, আমাদের সীমান্ত কিন্তু পুরোপুরি সুরক্ষিত আছে। এখানে কোনো সমস্যা নাই। তবে বাংলাদেশ-মিয়ানমার বর্ডারটা দখল করে আছে আরাকান আর্মি। ভবিষ্যতে এটা কার হবে, মিয়ানমার নাকি আরাকান আর্মির তা বলা তো মুশকিল। সেজন্য বিজিবি উভয় পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে।
শনিবার (১মার্চ) দুপুরে বিজিবি’র কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) প্রশিক্ষণ মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে নবসৃজিত উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) শুভ উদ্বোধন পরবর্তীতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সঙ্গে আরো ৪টি ব্যাটালিয়ন যুক্ত হলো। এতে বিজিবির সক্ষমতা কিছুটা বৃদ্ধি পেলো। আমরা চেষ্টা করছি আরও বাড়ানোর জন্য। কারণ পার্শ্ববর্তী দেশের তুলনায় আমাদের বিজিবির সক্ষমতা আরও বাড়ানো দরকার।
উপদেষ্টা আরও বলেন, এই এলাকা দিয়ে সবচেয়ে বেশি মাদক চলে আসে। রোহিঙ্গা সমস্যা তো রয়েই গেছে, মাদক চোরাচালান বন্ধে এখানে এই নতুন ব্যাটালিয়ন খুবই দরকার ছিল। আশা করি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রয়োজনে আমরা আরো যদি ব্যাটালিয়ন দরকার হয় তবে ভবিষ্যতে করব।
রোহিঙ্গা ও মাদককে সমস্যা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বাঁধার পরও ৬০ হাজারের মতো রোহিঙ্গা নতুন করে ঢুকে পড়েছে। অনেক সময় মানবিক কারণে সেটা পারাও যায় না। সঙ্গে বিদেশীদের একটা প্রেসার আছে, তাদেরকে রাখার জন্য, তাদেরকে ফেরত না পাঠানোর জন্য। এজন্য আমরাও তাদের সাহায্য সহযোগিতা বাড়াতে বলেছি। আর এটাও তো ঠিক যে, যারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে তারা কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে একটা জায়গায় আটকা। অন্যান্য দেশ কিন্তু আমাদের প্রমিস করেছে তারা তাদের দেশে নিয়ে যাবে। সরকার কিন্তু এ ব্যাপারে যথেষ্ট সজাগ ও সচেতন। এজন্য উপদেষ্টা সমমর্যাদার খলিলুর রহমান নামে একজন দায়িত্ব পালন করছেন। উনিও চেষ্টা করে যাচ্ছেন, নেগোসিয়েশনের চেষ্টা চলছে। আশা করি সমস্যা দুটোই সমাধান হয়ে যাবে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর নবসৃজিত উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। নিজস্ব পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শনিবার এই যাত্রা শুরু হয়। এদিন পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে ঢাকার স্টেশন সদর দপ্তর ও গার্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এবং গাজীপুরের ডগ স্কোয়াড কে-৯ ইউনিট এন্ড ট্রেনিং সেন্টারের।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বিজিবি’র কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) প্রশিক্ষণ মাঠে এসবের শুভ উদ্বোধন করেন। এসময় বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে স্বরাষ্ট্র ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি বলেন- আমরা কোনো দলের বদান্যতায় কাজ করছি না। দেশের কল্যাণে যা যা করণীয় তাই করা হচ্ছে। প্রশাসনের কাউকে কোনো দপ্তর থেকে বলে দেওয়া হয়নি, অমুখ দলের লোকজনকে সহানুভূতি দেখাতে। কোনো দলের নেতাকর্মীরা দখল বা অন্য কোনো অপরাধে জড়ালে প্রমাণ সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের প্রশাসনের একটি রোগ জারি হয়ে আছে। তা হলো ক্ষমতায় কে আসতে পারে সেই সম্ভাব্যতা থেকে সে দলের নেতাকর্মীদের আগাম তেল দেওয়া। এখানে ঊর্ধ্বতন বা মন্ত্রণালয়ের কোনো নির্দেশনা থাকে না।’
রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘মানবিক কারণে আমরা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। কাগজে-কলমে ১২ লাখ বলা হলেও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। এরা আমাদের গলার কাঁটা হয়ে দেখা দিয়েছে। এদের প্রত্যাবাসন ছাড়া সীমান্ত এলাকার অপরাধ কর্মকাণ্ড থামানো মুশকিল। আবার তাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনও সম্ভব নয়। বলতে গেলে রোহিঙ্গা নিয়ে আমরা শাঁখের করাতে রয়েছি।
Leave a Reply