সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন
বিশেষ প্রতিবেদক।।
কক্সবাজার শহরের খুরুশকুল রাস্তার মাথায় ছিনতাইকারী ও চাঁদাবাজদের রাম রাজত্ব চলছে। প্রশাসনিক দুর্বলতার বিভিন্ন সুযোগে কক্সবাজার শহরে ছিনতাইকারীদের এমন দৌরাত্ম্য বেড়েছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
সুত্রে জানা গেছে, খুরুশকুল ও চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের বেশিরভাগ মানুষ নতুন রাস্তার মাথা থেকে সিএনজি এবং টমটমে চলাফেরা করে। এই স্থানকে টার্গেট করে তৈরি হয়েছে চিহ্নিত ছিনতাইকারী চক্র ও চাঁদাবাজ চক্রের।
যার নেতৃত্বে রয়েছে, কক্সবাজার শহরের ৭নং ওয়ার্ড কবরস্থান রোডস্থ টেকনাইপ্পা পাহাড়ের শফি আলম প্রকাশ বার্মাইয়া শুভ। এই ছিনতাইকারী দীর্ঘদিন ধরে খুরুশকুল ইউনিয়নের অসংখ্য সাধারণ মানুষের মোবাইল ও সর্বস্ব ছিনতাই করেছে। কয়েকবার ছিনতাইয়ের অভিযোগে আটক হলেও এই জেল ফেরত শফি আলম প্রকাশ বর্মাইয়া শুভ গেল ৬-৭ মাসে খুরুশকুল রাস্তার মাথায় বিশাল ছিনতাইকারী চক্র ও চাঁদাবাজ বাহিনী তৈরি করে চালাচ্ছে তার রাম রাজত্ব। খুরুশকুল রাস্তার মাথা দিয়ে চলাফেরাকারি খুরুশকুল ইউনিয়নের টমটম এবং সিএনজি যাত্রীবাহী গাড়ি থেকে তার নেতৃত্বে সিএনজি থেকে চাঁদা নেন মো: রোহাল এবং টমটম থেকে চাঁদা নেন মোঃ রাকিব। দুইজনকে দিয়ে এই শুভ চালাচ্ছে দিনরাত চাঁদাবাজি। এইসব চাঁদাবাজদের সিএনজি চালক এবং টমটম চালকরা টাকা দিতে একটু দেরি হলেই শারিরীক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। চলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং মারধর।
সুত্রে আরও জানা গেছে, সরকার পরিবর্তন পরবর্তী সময়ে টমটম চালকদের উপর বার্মাইয়া শুভ এর নেতৃত্বে চাঁদাবাজ রুহাল ও রাকিবের টমটম চালকদের উপর অমানবিকভাবে মারধর ও নির্যাতনের প্রতিবাদে খুরুশকুলের টমটম চালকরা খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। উক্ত প্রতিবাদ সমাবেশে খুরুশকুলের বড় বড় নেতারা আশারবাণী শোনালেও বন্ধ হয়নি টমটম-সিএনজি চালকদের উপর নির্যাতন ও চাঁদাবাজি। এই সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়মিত তাদের চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে নির্বিঘ্নে। প্রতিরোধ গড়ে না ওটায় এভাবে চিহ্নিত ছিনতাইকারী ও চাঁদাবাজরা পার পেয়ে যাচ্ছে। ফলে সম্প্রতি সময়ে এই বাহিনীটি আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন টমটম চালক জানায়, পেটের দায়ে গাড়ি চালাতে এসে প্রতিদিন চাঁদাবাজদের হাতে মান সম্মান হারাতে হচ্ছে খুরুশকুলের গাড়ি চালকদের, সাধারণ যাত্রীদের সামনে টাকার জন্য অকথ্য ভাষায় ব্যবহারে অতিষ্ঠ যাত্রীরাও। তাদের চাঁদার টাকা দিতে একটু দেরি হলেই ধারালো চাকুর ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করে নিয়ে যায়। অনেক সময় গাড়িতে থাকা স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্রীদের ইভটিজিং করতেও দেখা যায়। আমরা এদের ভয়ে সবকিছু মুখ বুঝে সহ্য করা যাচ্ছি। আসলে খুরুশকুলের মা-বোনরা, এমনকি সিএনজি-টমটম চালকরা খুরুশকুল রাস্তার মাথায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। সন্ত্রাসী, ছিনতাকারী ও চাঁদাবাজদের হাতে খুরুশকুলবাসী জিম্মি হয়ে পড়েছে, যেন দেখার কেউ নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভোগী সিএনজি চালক জানায়, বার্মাইয়া শুভ বাহিনীর চাঁদাবাজদের হাতে অবৈধ চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়নি এমন টমটম বা সিএনজি চালক খুঁজে পাওয়া যাবে না। অনেকে পেটের দায়ে এবং লোকলজ্জার ভয়ে এসব নির্যাতনের কথা মুখ খুলে বলতে পারে না।
কয়েকজন স্থানীয়রা জানায়, ৭নং ওয়ার্ড দক্ষিণ তারাবনিয়ার ছড়া কবরস্থান পাড়াটি নতুন রাস্তার মাথার কাছাকাছি হওয়ায় সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে এই জায়গাটি। কবরস্থান রোডের সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন অপকর্ম করে চলে যায় কিন্তু বদনাম হয় রাস্তার মাথা এলাকার লোকজনের। তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস যেন কারো নেই।
এদিকে, মাদকের টাকা জোগাড়ে প্রকাশ্যে দলবেঁধে মহড়া দিয়ে শুভ বাহিনী ছিনতাই করা শুরু করেছে। এই অবস্থায় সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে সবসময় একটা আতঙ্ক বিরাজ করছে। কক্সবাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে খুরুশকুলের সিএনজি ও টমটম চালকরা এসব ছিনতাইকারী- চাঁদাবাজদের হাত থেকে পরিত্রাণের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় সিএনজি এবং টমটম চালকরা খুুরুশকুল ইউনিয়নের প্রধান সড়ক অবরোধ করে অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিবেন বলে গোপন সুত্রে জানা গেছে।
Leave a Reply