ভুক্তভোগী মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, অভিযুক্ত ওমর ফারুক বিভিন্ন সময় গাড়ি থামিয়ে নিজেকে কোস্ট গার্ডের ড্রাইভার পরিচয় দিয়ে গাড়ি চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি করে এবং চাঁদা দাবি করেন। এমনকি তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, চাঁদা দিলে গাড়ি পার করে দেওয়া হবে, আর না দিলে গাড়ি আটক করে কোস্ট গার্ডের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী এক মাছ ব্যবসায়ীর সাথে ওমর ফারকের কথোপকথনের কল রেকর্ডে শোনা যায়, ইতোমধ্যে ৪/৫ টি গাড়ি আটকানো হয়েছে। টাকা দিলে আমি ছাড়ানোর ব্যবস্থা করে দিবো।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ দিন ধরে এভাবে ভয়-ভীতি ও হুমকি দিয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা আদায় করে আসছেন। এতে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন এবং চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং দ্রুত তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী তুলেছে।
সচেতন মহলের দাবী, কোস্টগার্ড প্রশাসনের উচিত অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির ব্যবস্থা করা, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা ও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়।
একটি সুত্র জানায়, পাগলা কোস্টগার্ড স্টেশন ইনচার্জ মোহাম্মদ শফিক নিজেই সোর্স হিসেবে ওমর ফারুককে ব্যবহার করে ব্যবসায়ীদের গাড়ি আটকিয়ে অবৈধভাবে টাকা আদায় করেন। টাকা না দিলে মাছ আটক করেন এবং কৌশলে সস্তায় বিক্রি করে যোগসাজশে লক্ষ লক্ষ টাকা ভাগবাটোয়ারা করেন। তাই ইনচার্জ শফিক কখনো ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে মুখ খুলবেনা। এমনকি আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন না। মুলত ড্রাইভার পরিচয় দেওয়া ওমর ফারুক ইনচার্জ শফিকের টাকা কামানের মেশিন। ব্যবসায়ীরা ভয়ে ইনচার্জ শফিকের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
অভিযুক্ত ওমর ফারুকের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমি পেশায় একজন গাড়ি চালক। ১৭-১৮ বছর অনেক মালিকের গাড়ি চালাইছি। এখন নিজের মালিকানাধীন গাড়ি চালাই। মাঝেমধ্যে গাড়ি ভাড়া দিই। আমি কোস্ট গার্ডের ড্রাইভার নয় এবং কোন মাছ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা দাবির প্রশ্ন আসেনা। চাঁদাবাজির ঘটনা মিথ্যা বলে দাবী করেন তিনি।
পাগলা কোস্টগার্ড স্টেশনের ইনচার্জ মোহাম্মদ শফিক জানায়, ওমর ফারুকের সাথে কোস্ট গার্ডের কোন সম্পৃক্ততা নেই। তিনি যে পরিচয় দিচ্ছেন তা ভুয়া। বিষয়টি তদন্ত করে, তাকে আইনের আওতায় আনবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন তিনি।
Leave a Reply